৩০ মার্চ স্কুল খুলছে তো?

ঢাকা: আগামী ৩০ মার্চ স্কুল খোলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে আসায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ৩০ মার্চ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু ঘোষণা দেওয়ার দু’দিন পরই ফের বাড়তে শুরু করে করোনা সংক্রমণ। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার পর সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি যেন না থাকে সেজন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকতে হবে। সংক্রমণ বাড়বে না সরকার যদি এ ব্যাপারে যথেষ্ট আস্থাবান হয় তাহলে স্কুল-কলেজ খোলা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আগামীকাল ১৩ মার্চ বিকালে তথ্য মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে একটি বৈঠক ডেকেছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। সেই সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া বলতে পারছি না স্কুল-কলেজ খুলবে কি না।

চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ করেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। ওইদিন রোগী শনাক্ত হার এক লাফে ৪ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। সেদিন ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা ছিল তার আগের ৪১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া একই দিন প্রায় এক মাস পর শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যাও ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। এমনকি গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। শনাক্ত হার আবার ৫ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে এবং রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় এক বছরধরে বন্ধ রয়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

যদিও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫-১৬ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর একটা ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে।

শুক্রবার (১২ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পেছাতে পারে। এ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে সবার আগে গুরুত্ব পাবে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার বিষয়টি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, যখন স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তখন তো সংক্রমণের হার ২ শতাংশের মাঝামাঝি ছিল। এখন তো আবার বাড়ছে। ফলে খুলতে হলে সবকিছুর একটা সমন্বয় আনতে হবে। এখন খুলতে হলে সবাইকে নিয়ে মিটিং করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্য ও মত তুলে ধরবে। তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এখনো ৩১ মার্চ আসতে তিন সপ্তাহের মতো সময় আছে। সংক্রমণ কোন পর্যায়ে যায় সেটাও বোঝা যাবে।