
কক্সবাজার : পড়ন্ত বিকেল। সাগরের গর্জন-হুঙ্কারের ঝাঁপটা গিয়ে ঠেকেছে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামের কাছেও। এমন সময় ক্রিকেটব্যাট হাতে ক্রিকেটীয় ড্রেসে মাঠে নামেন তিনি। সভাপতি একাদশ ও সাধারণ সম্পাদক একাদশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিমিষে সব মনোযোগ জড়ো হয় রাজনীতির মানুষটির হাতে ক্রিকেটব্যাট শোভা পাওয়ার কৌতূহলী দৃশ্যে। দর্শককূলের বিস্ময় আর প্রশ্নের অন্ত নেই-পারবেন তো রাজনীতির মতো ক্রিকেটেও ইনিংস গড়তে?
শেষমেশ সবাইকে অবাক করে দেখিয়ে দিলেন কেবল রাজনীতির ইনিংস নয়, ক্রিকেট ইনিংসেও সিদ্ধহস্ত, সপ্রতিভ তিনি। সভাপতি একাদশের কাছে সাধারণ সম্পাদক একাদশ হারলেও হারেননি সাধারণ সম্পাদক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই অপরাজিত (নটআউট) থেকেছেন তিনি। ১০ ওভার খেলে নিয়েছেন ১৪ রান। শুধু কি তাই? না, দুই ওভার বল করে নিয়েছেন একটি দুর্দান্ত উইকেট। বলছিলাম সাবেক মেয়র চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও চট্টগ্রাম ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম নাছির উদ্দীনের কথা।
কক্সবাজারে সিজেকেএস কর্মকর্তা-কাউন্সিলরবৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ১৮৭ জনের তিনদিনের পিকনিক ট্রিপের অংশ এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।রোববার (১৪ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ ম্যাচের পুরোটাই ছিল টানটান উত্তেজনা ও উপভোগ্যতায় ভরা। সেই উৎসবের মূলে ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত আ. জ. ম নাছির উদ্দীন ও তার দুর্দান্ত পারফরমেন্স।
এমন পাফরমেন্সে উচ্ছ্বসিত কোনো কোনো দর্শককে এমনও বলতে শোনা যায়, আসলেই নাছির ভাই সবক্ষেত্রে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও লড়াকু খেলোয়াড়। রাজনীতি বলুন, ক্রিকেট বলুন কিংবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা- কোথাও তার হারের `তকমা’ নেই, আজকের দিন পর্যন্ত তিনি ‘নটআউট’।
আসলেই কি তাই? সেটি জানতে ফিরে যেতে হয় বহু পেছনে। হ্যাঁ, ১৯৭০ সালে জীবনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আজকের দিনের ক্রিকেট যুদ্ধেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোথাও আ. জ. ম নাছির উদ্দীনের জীবনে পরাজয়ের গ্লানি নেই বললেই বলে।
১৯৭০ সালে মুসলিম হাইস্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে জীবনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আ. জ. ম নাছিরের। সেবার স্কুল ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন ভোটের মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তীতে যখন জাসদ ছাত্রলীগের ব্যাপক উত্থান, বাড়বাড়ন্ত, তখনই ১৯ ৭৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এসএম ইউসুফের শক্তিশালী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির।
জানা যায়, অসম্ভব প্রতিকূল পরিবেশে প্রথমবারের মতো সিজেকেএসে নির্বাচন করতে যান তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের রোষানল থেকে বাঁচতে আ. জ. ম নাছির আত্মগোপনে চলে যান। ফলে ২০০৩-এর সেই নির্বাচনে ক্যাম্পেইন দূরের কথা; নিজের ভোটটিও দিতে পারেননি। আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে নির্বাচন করে তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর চৌধুরীর চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে এক নম্বর সহ সভাপতি নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির উদ্দীন। সেই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে তিনবার সিজেকেএস-এর সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে তিনবারই জয় পান। এছাড়া চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে তিনবার নির্বাচন করে প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিজেকেএস কাউন্সিলর নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘জীবনের সবক্ষেত্রে বারে বারে জটিল-কুটিল পরীক্ষার মুখোমুখি হলেও পরাজয়-পরাভব কখনো স্পর্শ করতে পারেনি আ জ ম নাছির উদ্দীনকে। আমাদের প্রত্যাশা- শুধু রাজনীতি কিংবা ক্রিকেট নয়, জীবনের সবক্ষেত্রে এ মানুষটি (নাছির) ‘নটআউট’ থাকবেন। কারণ তিনি জিতলে অনেকেই জেতেন, অনেককিছুই জেতেন।’
