মোঃ আলাউদ্দীন, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : হাটহাজারীতে শিক্ষকসংকটের মধ্য দিয়ে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। দীর্ঘদিন এই উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৭৬ টি সহকারী এবং ৬৮ টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় রয়েছে ১৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে ৬৮টি বিদ্যালয়ে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৭৬ টি। কোথাও কোথাও রয়েছে সহকারী শিক্ষকের তীব্র সংকট। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এ ছাড়া কর্মরত শিক্ষকেরা বাৎসরিক নিয়মিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং পিটিআই ট্রেনিংসহ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে থাকছেন। অনেক প্রধান শিক্ষককে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে দাপ্তরিক কাজে।
এতে করে অনেক বিদ্যালয়ে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে। এই উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিলেও যোগাযোগের সু-ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা সঠিক সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছেন না। সঠিক পাঠদানের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অকালে ঝরে পড়ছে। ফলে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম চারজন শিক্ষক থাকার বিধান থাকলেও ওই সব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে রয়েছে ২-৩ জন করে। প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকেরাও আসেন নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা পর। অনেক শিক্ষকই বদলির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন। স্থানীয়রা জানান, যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকার পরও তারা এখানে স্থায়ী হচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ৪০০ কিংবা তার চেয়েও বেশি ছাত্র-ছাত্রীদের ৫ জন শিক্ষকের স্থলে ২ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান দিতে হচ্ছে।
এতে করে পাঠদানে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, এমনিতেই শিক্ষকের পদ শূন্য। এরপর প্রধান শিক্ষকের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হয়। কর্তব্যরত শিক্ষকদেরও বিভিন্ন সময় থাকতে হয় ছুটিতে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদা আলম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্যোগের অভাব নেই। প্রতি বছরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষক সংকট দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদের বিপরীতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে শিগগিরই শিক্ষক সংকট দূর হবে।
