শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

চট্টগ্রামে গণপরিবহনে এখনো অতিরিক্ত ভাড়া, কমেনি ভোগান্তি

প্রকাশিতঃ বুধবার, এপ্রিল ৭, ২০২১, ৯:২৪ অপরাহ্ণ


জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : টানা দুদিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় চট্টগ্রামে পরিবহন সংকট কমলেও, যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি শাখা সড়কে লকডাউনের দোহাই দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করেছে পরিবহনগুলো।

সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থবিধির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নগরজুড়ে গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।

লকডাউনের তৃতীয় দিন বুধবার (৭ মার্চ) সরেজমিনে নগরের আগ্রাবাদ, ওয়াসা, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। নগরের এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ের পাশাপাশি শাখা সড়কগুলোতে জনদুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মত।

বহদ্দারহাট-চকবাজার-নিউমার্কেট, জিইসি-একেখান, অলংকার-দেওয়ানহাট, চকবাজার-জামালখান-আন্দরকিল্লা, হালিশহর-আগ্রাবাদ শাখা সড়কে মাহিন্দ্রা, মেক্সিমা ও লেগুনাসহ অধিকাংশ গণপরিবহনকেই সরকারি নির্দেশনার অমান্য করতে দেখা গেছে।

ধারণক্ষমতার অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা থাকলেও ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে চলতে দেখা গেছে গণপরিবহনগুলোকে। এছাড়া বেশিরভাগ সড়কেই যাত্রীদের সাথে চালক-হেল্পারকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি করতে দেখা গেছে।

শুধু তাই নয়, ভাড়তি ভাড়া আদায় করতে বেশ কিছু গাড়িতে পূর্বের ভাড়ার দ্বিগুণ ভাড়ার চার্ট ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। বেশ কিছু গাড়িতে স্পষ্ট অক্ষরে ‘জনপ্রতি উঠানামা ১০ টাকা’ লিখে ঝুলিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চিত্রও চোখে পড়ে।

যাত্রীরা অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবেই পরিবহন নৈরাজ্যের কাছে যাত্রীদের জিম্মি হতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হাতে গোনা অভিযান পরিচালনা হলেও, সিএমপি ট্রাফিক বিভাগ এবং বিআরটিএ দর্শকের ভুমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন তারা।

গার্মেন্টস চাকরিজীবী খোকন আহমেদ বলেন, ‘অলংকার থেকে কর্মস্থল ইপিজেড সরাসরি যাওয়ার কোন গাড়ি না থাকায় জিইসি পর্যন্ত যেতে ১১ নম্বর মাহিন্দ্রাতে উঠি। সিটের বাইরে ৩ জন যাত্রী দাঁড় করিয়ে এনেছে। তার উপর ১০ টাকার ভাড়া চাইছে ২০ টাকা। সরকারের নির্দেশেই নাকি তারা ডাবল ভাড়া নিচ্ছে। এসবের কোনো তদারকি নেই। প্রশাসন কয়েকটা বড় মোড়ে একটা-দুটা অভিযান করে দায় সারে। আমাদের ভোগান্তি বাড়ে।’

বেসরকারি চাকরিজীবী নিলুফা বেগমের অভিযোগও অনেকটা একই। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘বড় মোড়ে কয়েকটা গাড়িকে ধরা আর চালকদের মাস্ক পরিয়ে দেওয়াকে কি প্রশাসনের নজরদারি বলা যায়? সরকারের দেওয়া একটা নির্দেশনাও শাখা সড়কের বেশিরভাগ গণপরিবহন মানছে না। লকডাউনের নামে তামাশা ছাড়া এগুলো আর কিছুই না।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এক লেগুনা চালক বলেন, ‘এমনিতেই অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ী চালাতে হয়। ৬০% ভাড়া বাড়ালে পোষায় না, তাই বাধ্য হয়ে ডাবল ভাড়া নিচ্ছি। আর এখন নিতে না চাইলেও যাত্রীরা জোর করে গাড়িতে উঠে পড়ে, নামায় দিলে নামতে চায় না। তারা স্বাস্থবিধি না মানলে আমরা মেনে কি লাভ?’

এদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্ট চালক, শ্রমিক-কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকলেও গুটিকয়েক যাত্রী ছাড়া বেশিরভাগ চালক-হেলপারের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

এছাড়া, ট্রিপের শুরু ও শেষে জীবাণুনাশক দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখার নির্দেশনাও সীমাবদ্ধ ছিল বিজ্ঞপ্তি পর্যন্তই। যাত্রা শুরু ও শেষের একাধিক পয়েন্টে গিয়ে কোন যানবাহনে জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-পশ্চিম) তারেক আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের সোর্স দেওয়া আছে। বেশিরভাগ গণপরিবহন স্বাস্থবিধি মেনে চলছে। এর মধ্যে দু-একটা গণপরিবহনে স্বাস্থবিধি না মানতে দেখে আমরা গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চালকদের সচেতন করে দিচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তারেক আহমেদ বলেন, ‘ট্রাফিক বিভাগের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অর্থাৎ সোর্সের স্বল্পতার কারণে এখন পর্যন্ত নগরের প্রধান সড়কে আমাদের কার্যক্রম চলছে। যার কারণে আমরা শাখা সড়কে গণপরিবহনের নৈরাজ্যের বিষয়টি আমাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এখন সরকারের কাছ থেকে যেভাবে আমাদের কাছে নির্দেশনা আসবে আমরা সেভাবেই কাজ করবো।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত) এস. এম. জাকারিয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করছে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা যতটুকু সম্ভব কাজ করে যাচ্ছি। যেহেতু আপনাদের কাছে এই বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে, সেক্ষেত্র অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আমি এই বিষয়ে জোর দিতে বলবো।

এ বিষয়ে জানতে বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাদাত হোসেনের নাম্বারের বেশ কয়েকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।