শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

শিকলবাহায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের বিস্তার!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৮, ২০২১, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের শিকলবাহা ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের বিস্তারের অভিযোগ ওঠেছে।

মাদকের এই বিস্তার রোধও করা যাচ্ছে না কোনোভাবে। মাদকবিরোধী অভিযানের পর কয়েকদিন বিক্রি বন্ধ থাকলেও পরে আবার চাঙা হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ দুপুরে শিকলবাহার কলেজ বাজার এলাকা থেকে ১৬শ’ পিস ইয়াবাসহ মো. ইব্রাহিম (৩০) ও আবদুর নূর (৩২) নামে স্থানীয় দুই মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ এর একটি দল। আটকের পর কিছুদিন থেমে থাকলেও মাদক বিক্রেতারা আবার তৎপর হয়ে ওঠেছে।

তাদের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন র‌্যাব-৭ এর সদস্য খলিলুর রহমান। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে মো. ইব্রাহিম শিকলবাহা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (বাদামতল) আমিন উল্লাহর বাড়ির মৃত হোসেন আলীর ছেলে।

আবদুর নূর একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে। দুজনেই বর্তমানে কারাবন্দি।

থানা সুত্র জানায়, কারাবন্দি ইব্রাহিম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তার আপন ভাই ওসমান ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। ইব্রাহিমের নামে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিম ও আবদুর নূর কারাবন্দি হলেও তাদের সহযোগীরা এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

এতে বিপদগামী হচ্ছে এলাকার যুব সমাজ। চিহ্নিত মাদক বিক্রেতারা স্থানীয় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না।

এলাকায় মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ।

বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি শ ই রাহি এবং কর্ণফুলী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মাদকের কারবারে তাদের সহায়তা দিচ্ছেন।

শ ই রাহি রাজনীতির আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িত। চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘হোটেল টাওয়ার ইন’ এ মদের বার আছে তার।

বিষয়টি স্বীকার করে শ ই রাহি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘হোটেল টাওয়ার ইন’ এ আমার মদের বার আছে ঠিক। তবে সেটি সরকার অনুমোদিত। এর বাইরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

ইয়াবাসহ গত ১৯ মার্চ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ইব্রাহিমকে আমি চিনি চার-পাঁচ মাস ধরে। শিকলবাহা এলাকায় কোনও মাদক বিক্রেতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা।’

বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে কল করলে রিসিভ করেননি কর্ণফুলী থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক।

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত। গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার পিস জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেক মাদক বিক্রেতাকে।

শিকলবাহায় মাদক কারবারে যুবদল, ছাত্রদল বা স্বেচ্ছাসেবক দল তো প্রশ্নই উঠে না, এ কারবারে সরকারি দলেরও যদি কেউ যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাই তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’

শিকলবাহার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার ঘটার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি দুলাল মাহমুদ।