বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

মহড়ার ভিডিওচিত্রের নামে থানার অস্ত্রাগারের গোপনীয়তা প্রকাশ!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১, ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় হামলা করেছে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। পাগলা ঘণ্টা বেজে উঠল। মূহুর্তেই থানার ভবনের দোতলা থেকে নেমে নিচতলায় এলেন পুলিশ সদস্যরা। দ্রুতগতিতে ছুটলেন অস্ত্রাগারের দিকে। হাতে অস্ত্র নিয়ে ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে, থানা ভবনের বাইরে এবং ছাদে পজিশন নিলেন। হামলাকারীদের সাথে ব্যাপক গুলি বিনিময় হলো। একে একে ধরাশায়ী হলো ‘অস্ত্রধারী’ সন্ত্রাসীরা।

এ দৃশ্য বাস্তবের নয়, থানায় হামলা হলে কীভাবে ‘হামলাকারীদের’ সঙ্গে পুলিশ মোকাবেলা করবে মূলত সেটিরই একটি মহড়া। সম্প্রতি, পাঁচলাইশ থানায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মহড়ার একটি ভিডিওচিত্র গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। তবে ওই ভিডিও চিত্রে শুধু অস্ত্রাগারই নয়, পুরো থানার অবস্থান, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষও প্রকাশিত হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওই মহড়ার ভিডিওচিত্রে থানার অস্ত্রাগারের গোপনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু ভুলত্রুটিও লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বা জঙ্গীদের নাশকতার প্রধান টার্গেট থাকে থানার অস্ত্রাগার। কিন্তু পাগলা ঘণ্টা বাজার পর থানায় অস্ত্র হাতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কে, কোথায় অবস্থান করছেন এবং তাদের মুভমেন্ট কী? ভিডিও চিত্রে প্রথমে এসব দেখানো উচিত ছিল।’

সাবেক এ সেনা কর্মকর্তার কাছে সেই ভিডিও’র ফুটেজের বর্ণনা দিলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অস্ত্রাগারকে ‘KOTE’ বলা হয়। এটির মূল ফটকে ২৪ ঘণ্টা দুই বা চারজন সেন্ট্রি ফিক্স করা থাকে। পাগলা ঘণ্টা বেজে উঠার পর অস্ত্রাগারের সামনে সেন্ট্রিদের কোন মুভমেন্ট দেখানো হয়নি। কারণ তাদের হাতে থাকে অস্ত্রাগারের চাবি। তালা খুলে সৈনিকদের অস্ত্রাগারে ঢুকতে তারাই সাহায্য করবেন।’

ভিডিওতে দেখা গেছে, পাগলা ঘণ্টা বাজার পর থানা ভবনের নিচে এবং দোতলায় থাকা সব পুলিশ সদস্য দৌড়াচ্ছেন অস্ত্রাগারের দিকে। তারা অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেন। এসময় অস্ত্রাগারের ভেতরের চিত্রটিও দেখানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে সিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রাগারের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের, অথচ তারাই মহড়ার নামে অস্ত্রাগারের অবস্থান প্রকাশ করে দিলেন।’

তবে ওই মহড়ার ভিডিও চিত্রে অস্ত্রাগারের গোপনীয়তা প্রকাশ পায়নি বলে দাবি করেন মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘থানায় হামলা হলে পুলিশ কীভাবে প্রতিরোধ করবে, ভিডিওচিত্রে তাই দেখানো হয়েছে। এটাকে রিহার্সালও বলতে পারেন। তবে এ ভিডিও’র মাধ্যমে থানার স্পর্শকাতর জায়গা অস্ত্রাগারের গোপনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে বলে আমি মনে করিনা। কারণ ভিডিওতে অস্ত্রাগার দেখানো হলেও থানা ভবনে এটির লোকেশন কোথায় তা বোঝার উপায় নেই।’