বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

চট্টগ্রামের অলিগলিতে লকডাউন শিথিল!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১, ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ


জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে (১৪ এপ্রিল) দুই ধরণের চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রামের সড়কগুলোতে। নগরের প্রধান সড়কে তেমন কোনো যানবাহন ও জনসমাগম দেখা না গেলেও অলিগলিতে অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষকে।

শুধু তাই নয়, সীমিত পুলিশি তদারকির সুযোগ নিয়ে প্রায় এলাকায় তরুণ-বৃদ্ধসহ অনেকেই ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ বলছে, নববর্ষ-রমজান সবকিছু মিলিয়ে লকডাউনের প্রথম দিন বুঝিয়ে সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর ভুমিকায় দেখা যাবে তাদের।

সরেজমিন নগরের জিইসি, ওয়াসা, লালখানবাজার, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্টের মাধ্যমে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। এসব চেকপোস্টে পুলিশকে যানবাহন থামিয়ে পরিচয় জানার পাশাপাশি বের হওয়ার কারণ জানতে দেখা গেছে।

তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাড়ির বাইরে যেতে পুলিশের চালু করা মুভমেন্ট পাসের ব্যবহার তেমন একটা চোখে পড়েনি, এসব চেকপোস্টে। যথাযথ কারণ দেখাতে পারলেই যানবাহন ছেড়ে দিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, নয়াবাজার, ডিটি রোড়, হালিশহর-ওয়াপদাসহ বেশকিছু এলাকা ও অলিগলিতে ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এসব স্থানে জনসমাগম ও যান চলাচল দেখে বোঝার উপায় নেই লকডাউন চলছে। পুলিশের টহল না থাকায় প্রয়োজন ছাড়াই অনেককেই নির্দ্বিধায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাদের মধ্যে কেউ লকডাউন পর্যবেক্ষণ করতে আবার কেউ রোজাকালীন সময় পার করতে হাঁটতে বের হয়েছেন বলে জানান।

লকডাউনে কেন বের হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, লকডাউন তো মেইন রোডে, এলাকায় কিসের লকডাউন?

সরাইপাড়া এলাকায় একসাথে ১০-১২ জনকে বসে লুডু খেলতে দেখে লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, রোজা-রমজানের দিনে সময় কাটে না। তাই বন্ধুরা মিলে একটু আড্ডা দিচ্ছেন।

এরকম আরও বেশ কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে তাদের সঙ্গে কথা হলে অধিকাংশই বাজার করা ও ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন বলে জানান। কিন্তু তাদের কারো কাছেই ছিলো না মুভমেন্ট পাস।

মুভমেন্ট পাস আছে? এমন প্রশ্নে বিষ্ময় প্রকাশ করে হালিশহর-ওয়াপদা এলাকার বাসিন্দা জমির হোসেন বলেন, এটা আবার কী? বাজার করতে বের হয়েছি, বাজার করেই চলে যাবো।

এদিকে, জনসাধারণের অসচেতনতা ও বেপরোয়া চলাফেরায় লকডাউন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, স্বাস্থবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে জনগণকে।

দেওয়ানহাট সার্কেলের ট্রাফিক কনস্টেবল শাখিরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য মানুষেরা কতরকম অজুহাত যে দেখায় তার শেষ নেই। যেহেতু অনেকেই এখনও মুভমেন্ট পাস সম্পর্কে অবগত নয়, তাই এখনো এই বিষয়ে তেমন কড়াকড়ি দেখাচ্ছি না। তাই যাদের বের হওয়ার কারণ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে তাদের ছাড় দিচ্ছি।’

ডাবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা মানুষের ভালোই সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু অনেকেই কোন ধরণের প্রয়োজন ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা যেদিকে টহল দিতে যাচ্ছি সেদিক থেকে তারা পালিয়ে যায়, পরে আবার বেরিয়ে পড়ছে। কিন্তু পুলিশকে ফাঁকি দিতে গিয়ে নিজেরাই যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা তা বুঝতে পারছে না। এরপরও জনগণকে সচেতন করতে আমরা মাইকিংসহ প্রয়োজনীয় সকল কাজ করছি।’

হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উৎসুক জনতার পাশাপাশি এমন অনেকেই আছেন যারা আসলেই প্রয়োজনে বের হয়েছেন। আমরা তাদের মুভমেন্ট পাস দেখছি, পাস না থাকলে কারণ জানতে চাইছি। আর অপ্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন তাদের সতর্ক করে বাসায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। জনগণের স্বার্থে ঘোষিত লকডাউন সফল করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) আমির জাফর বলেন, ‘লকডাউনের প্রথমদিন বেশ কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি আমরা দেখেছি। এখনও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। অপ্রয়োজনে অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন, আজেবাজে অজুহাত দিচ্ছেন। নববর্ষ, প্রথম রোজা ও লকডাউনের প্রথমদিন হিসেবে পুলিশও এতোটা হার্ডলাইনে যায়নি। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আমাদের যদি বাধ্য করে তাহলে আমাদের কঠোর হতে হবে।’