লিটনের স্বঘোষিত ‘উচ্চসংক্রমণশীল এলাকা’, জনমনে আতঙ্ক-উদ্বেগ

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কোভিড প্রতিরোধ কমিটি ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির অনুমতি ও নির্দেশনা ছাড়াই রামপুর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বৌবাজার, আমতল, বসুন্ধরা আবাসিক, বড় পুকুরপাড়, পানিরকল, নয়াবাজার, সবুজবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ‘উচ্চসংক্রমণশীল এলাকা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন।

স্বাস্থ্য বিভাগ কিংবা জেলা প্রশাসনের অগোচরে বুধবার (২১ এপ্রিল) ব্যানার টাঙানোর পাশাপাশি নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে এসব ব্যানার টাঙানোর ছবি শেয়ার করেন তিনি, আর তাতে লিখেন ‘রেডজোন’।

এদিকে, লিটনের স্বপ্রণোদিত, স্বঘোষিত এমন ঘোষণায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনের মধ্যে।  সচেতন মহলের মতে, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন লিটন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এধরনের ঘোষণা দেওয়ার জন্য মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি আছে, যেখানে আমি, সিএমপি কমিশনারসহ অনেকেই আছেন। সরকারের নির্দেশনা পেলেই মিটিংয়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই কমিটি থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো মিটিং বা ডিক্লেয়ারেশন দেওয়া হয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে সে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এটা তার দায়িত্ব না। এই কাজের জন্য আমাদের জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি আছে। এক কথায় সে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। সে হয়তো এই বিষয়টি বুঝে না বা এই বিষয়ে জানেই না।  ওইসব এলাকা থেকে এসব ব্যানার সরিয়ে দিবো।’

এদিকে. চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও বিভাগীয় করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘চটগ্রামে করোনা প্রতিরোধে যত কমিটি আছে আমি সবগুলোতেই আছি। বিভাগীয় করোনা প্রতিরোধ কমিটি, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি কিংবা মেয়র মহোদয়ের নেতৃত্বে নগর কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে উচ্চসংক্রমণ এলাকা কিংবা রেড জোন ঘোষণা করার কথা। কিন্তু তিনটি কমিটির একটিরও কোনো মিটিং হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, রেড জোনের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। নগরের বিভিন্ন এলাকায় উচ্চসংক্রমণ এলাকা ঘোষণা করার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।  এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথেও আমি আলাপ করেছি, তারাও বিষয়টি জানেন না। সেক্ষেত্র এধরনের ‘রেডজোন’ বা উচ্চসংক্রমণ এলাকা ঘোষণার প্রশ্নই আসে না।’

উচ্চ সংক্রমণ এলাকা ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সচিব ডা. সেখ ফজলে রাব্বির কাছে জানতে চাইলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ নিয়মানুযায়ী জেলায় একটা করোনা প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকে উচ্চসংক্রমণশীল এলাকা চিহ্নিত করা হয়। তবে এবারে এখন পর্যন্ত উচ্চ সংক্রমণ এলাকা বা রেড জোনের বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এধরনের স্বপ্রণোদিত ঘোষণা কোনোভাবেই কাম্য না।

২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, আপনি আমার সাথে সরাসরি এসে দেখা করেন, দেখা করলে কথা বলবো। আপনার সাথে ফোনে আমি কোনো কথা বলবো না। কিছু বলার থাকলে সরাসরি এসে বলুন!’

এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল নগরের চকবাজার থানার একটি এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে সকালে একটি ব্যানার সাঁটিয়ে দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকারসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজানি হলে পুলিশের মাঝে ‘রেডজোন’ ঘোষণা নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

এরপর একই দিন বিকেলে পুলিশ ‘রেডজোন’ লেখা ব্যানারটি সরিয়ে সেখানে ‘উচ্চ সংক্রমণশীল এলাকা’ সম্বলিত আরেকটি ব্যানার সাঁটিয়ে দেন। এ ঘটনার দুদিনের মাথায় বুধবার (২১ এপ্রিল) নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এক আদেশে চকবাজার থানার ওসিকে সরিয়ে দেন।