কক্সবাজার প্রতিনিধি : চাঁদা না দেওয়ায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কক্সবাজারে খুরুশকুলের তেতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় এক সিনিয়র সহকারী জজের পারিবারিক কৃষিজমি ও সামাজিক বনায়ন দখল করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্টাইলে শতাধিক বসতি নির্মাণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চারদিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিনের পিতা রফিক আহমেদ বাদি হয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় এই মামলা করেন। মামলায় দখলে নেতৃত্ব দেওয়া কামাল উদ্দীন কামাল ওরফে পোস্টার কামালকে প্রধান আসামী এবং তার ভাই বিতর্কিত ইউপি সদস্য শেখ কামালসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, আসামীদের দাবি করা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ২০১৮- ২০১৯ সালের কক্সবাজার বন বিভাগের কাছ থেকে সামাজিক বনায়ন হিসেবে ১০ বছরের জন্য লীজ নিয়ে গড়ে তুলা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান ও পাশ্ববর্তী লাগোয়ায় রেজিস্টার্ড জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান, শাক সবজি নষ্ট করে জোরপূর্বক ঝুপড়ি করে নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে মামলা দায়েরের চারদিন হতে চললেও দখলদার আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। বরঞ্চ আসামীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে প্রকাশ্যে আমাদের পরিবারের সদস্যদের গুম-হত্যার হুমকি দিচ্ছে। অধিকন্তু শনিবার দখল করা ভূমিতে দুই শতাধিক ভাড়া করা নারী জড়ো করে মানববন্ধনের নামে বিচারকের চরিত্রহনন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষোদগার ও উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা।
আসামিরা গ্রেফতার না হওয়া এবং উল্টো প্রকাশ্য আস্ফালনের ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে একুশে পত্রিকাকে বলেন, আসামীদের অবস্থান শনাক্ত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ। যে কোনও সময় তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তৈতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় চট্টগ্রাম আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দীনের পরিবারের দুই একরের বেশি কৃষিজমি ও সামাজিক বানায়ন দখল করে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের আশ্রয়ণ’ ব্যানার টাঙিয়ে শতাধিক ঝুপড়ি নির্মাণ করে দখলদাররা।
ব্যানারে দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের ছবি। লেখা হয়েছে-‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। এছাড়াও ব্যানারে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত কামাল উদ্দীন কামালের ছবিও।
জোরপূর্বক যে জমি জবরদখল করা হয়েছে সেটির মালিক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ব্রিটিশ ভারতের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ফৌজ আর্মির সদস্য মৃত আবুল হোসেন। তিনি খুরুশকুলের তৈতৈয়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিন, হাইকোর্টের আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানীসহ পাঁচজন ব্যক্তির পরিবার এসব কৃষিজমির মালিক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কক্সবাজার সদর আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ইশারায় খুরুশকুল তেতৈয়া ১নং ওয়ার্ডের বাদশা মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দীন, ওরফে পোস্টার কামাল ও তার ভাই ওই এলাকার ইউপি সদস্য শেখ কামালের নেতৃত্বে তাদের কৃষিজমি ও বনায়ন দখল করে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
এর আগে সামাজিক বনায়ন রক্ষায় বিচারক পরিবারের পক্ষে রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বনাঞ্চল ধ্বংস করে আশ্রয়ন করা যাবে না মর্মে আদেশ দিলেও হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দখল অব্যাহত রেখেছে ভূমিদস্যুরা।
