বাসস: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘তৈরি পোশাক শিল্প’ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এ শিল্পখাতে ৪৪ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের শতকরা ৭৫ ভাগই নারী।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পখাতের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প কারখানায় প্রায় ৫০ লাখ লোক জড়িত বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি সহায়তা ও উদ্যোক্তাদের দৃঢ় মনোবলের কারণেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারাও অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন,২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে।
আমির হোসেন আমু আজ আবুধাবির প্যারিস সরবুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ফোকাস অন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে তিনি আলোচনায় অংশ নেন। বিশ্ব উৎপাদন ও শিল্পায়ন সম্মেলন উপলক্ষে এ প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ইকোনোমিস্ট পত্রিকার ইনোভেশন এডিটর পল মারকিলির সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উইকো-টেক্সের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা জর্জ ডায়নার্স, ভিয়েতনাম ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস্ গ্রুপের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা লি টিয়েন তোরাং, ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান শ্রী রাজেকি ইসমানের প্রেসিডেন্ট আইওয়ান সেতিওয়ান লোকমিন্টো প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন।
প্যানেল আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে গত শতাব্দীর শেষ দিকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটে। ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের অধিকারী বাংলাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, অভ্যন্তরীণ বিরাট বাজার, সস্তা শ্রমশক্তি এবং সেলাই কাজে ঐতিহ্যগত দক্ষতা এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।
আজ বুধবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, শিল্পমন্ত্রী জানান,২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে রপ্তানি হয়েছে,যার সিংহভাগই হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প খাতের।
বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্প-খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ অবস্থানে বলেও তিনি জানান।
আমির হোসেন আমু বলেন, রানাপ্ল¬াজা ও তাজরীন ফ্যাশনে দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাদের দৃঢ়তা, শিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মসূচির ফলে এ শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এ শিল্পখাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি শতকরা ২২৩ ভাগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রম আইন ও বিধিমালা তৈরি, সকল কারখানায় কর্মচারি কল্যাণ ফান্ড ও নিরাপত্তা কমিটি গঠন, কল-কারখানা পরিদর্শন দপ্তরের দক্ষতা বৃদ্ধি, ২৩৫ জন পরিদর্শক নিয়োগ এবং গুদাম পরিদর্শনের লক্ষ্যে ২১৮টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৭টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে বলে আমু উল্লেখ করেন।
