আইন মন্ত্রণালয়ে খালেদার আবেদন, চলছে যাচাই-বাছাই

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের করা আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। যাচাই-বাছাই করে খালেদা জিয়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে মতামত দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে তার সরকারের গ্রিন সিগনালের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন খালেদার বোন সেলিমা ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এই আবেদন করেন। ওই আবেদনপত্র পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বুধবার (৫ মে) রাতে শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় আবেদনপত্রটি দিয়ে এসেছেন বলে বেগম জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম নিশ্চিত করেন।

এ সময় সেলিমা ইসলাম জানিয়েছিলেন, চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সিদ্ধান্ত তারা জানতে পারবেন।

পত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের কথা উল্লেখ না করা হলেও বেগম জিয়ার চিকিৎসা লন্ডনে করানোর ইচ্ছা তাদের। যেহেতু এর আগেও সেখানে তার চিকিৎসা করা হয়েছে। যেখানে তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে থেকেই খালেদা জিয়া চিকিৎসা করাতে পারবেন বলেও জানান সেলিমা ইসলাম।

গত সোমবার রাতেও শামীম এস্কাদার ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে হলে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ- এক. খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; দুই. সরকারের অনুমতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি এবং তিন. করোনা পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো দেশ তাকে প্রবেশের অনুমতি দেবে কিনা? উপরন্তু তিনি করোনা রোগী। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।