
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনসহ বিশিষ্ট ৩ জন ব্যক্তিকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বাকি দুইজন হলেন- ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বারডেম) সভাপতি এ কে আজাদ খান এবং বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএনটারোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান।
অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের আরও একটা বড় পরিচয় বর্ষীয়ান ইতিহাসবিদ। তিনি আবার আইনশাস্ত্রে ব্যারিস্টারও।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ২০১৭ সালের একুশে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাতে শিক্ষায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনকে।
ড. আলমগীর মুহাম্মদ সিরাজুদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বশেষ সিনেট সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত উপাচার্য। ১৯৮৮ সালের ২৩ মে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব নেন। এরপর নব্বইয়ের গণ আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর মধ্যে দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চলে আসে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হাতে। কিন্তু ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন ক্যাম্পাসে স্বাধীনতাবিরোধীদের দখলদারিত্ব মেনে নিতে পারেননি। তিনি তাদের প্রতিহত করার ডাক দেন।
ফলশ্রুতিতে ছাত্রশিবির ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনের পদত্যাগের দাবিতে তাকে তার ক্যাম্পাসের বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। তার বাসভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও কেটে দেয় তারা। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উপাচার্য শিবিরের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের দাবি মেনে নিয়ে বিএনপি সরকার ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাকে অপসারণ করেন। এতকিছুর পরেও নীতির প্রশ্নে কখনও আপোস করেননি এই গুণী শিক্ষাবিদ।
এই শিক্ষাবিদের রয়েছে ইতিহাস ও আইনশাস্ত্রে একাধিক বই। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৯তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে মনোনীত করা হয়।
অবশেষে একুশে পদকে পেলেন অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন। এর আগে চট্টগ্রাম একাডেমি পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
