শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

‘মিতু হত্যায় বাবুলের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিচ্ছে পিবিআই’

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১২, ২০২১, ১২:০১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু খুনের ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের দায়ের করা হত্যা মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

আজ বুধবার সকালে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আজকে মিতু হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর মিতুর বাবা পাঁচলাইশ থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করতে পারেন।’

মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘তিনি আটক বা হেফাজতে নয়, আমাদের নজরদারিতে আছেন।’

এদিকে মিতুর বাবা বাবুল আক্তারকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করতে পারেন- এমন খবরে বুধবার সকাল থেকে থানায় উপস্থিত হতে থাকেন সাংবাদিকরা। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মিতুর পরিবারের কেউ থানায় যাননি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ডিটি রোডে পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে যান বাবুল আক্তার। সেখানে কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের উপমহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মামলার বিষয়ে বাদী আগেও এসেছিলেন। আজকেও চট্টগ্রামে পিবিআই অফিসে গিয়েছেন। তিনি নিজে থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গিয়েছেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের রুলিং আছে। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে গতকাল পিবিআইয়ের ঢাকা অফিসে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। মোশাররফ হোসেন মেয়ে হত্যার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ২০১৬ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম নগরের জিইসিতে তাদের বাসার কাছে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। এরপর চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর ফলে বাবুলের দিকে সন্দেহের তীর যায়। হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন।

এদিকে প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয় ডিবি পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা দমনে অভিযানের জন্য আলোচিত ছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার।