শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যামামলার আবেদন নিয়ে থানায় মিতুর বাবা

প্রকাশিতঃ বুধবার, মে ১২, ২০২১, ১২:২৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন নিয়ে পাঁচলাইশ থানায় গিয়েছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

আজ বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানায় প্রবেশ করেন তিনি।

এর আগে আজ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে আমরা যে প্রশ্নগুলো করেছি, তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়কে বিষয়টি জানালে ওনারা বলেছেন, তদন্তে যা আসবে, তাই করতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা তাই করছি। নড়াইল ও ঢাকা থেকে তার দুই বন্ধুকে আটক করে তাদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।

পিবিআই প্রধান বলেন, আগে করা মিতু হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে। কারণ এই মামলার ডকেটে কোথাও বাবুল আক্তারের বিষয়ে কিছুই নেই। তাই নতুন করে হত্যা মামলা হবে। এই মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

এদিকে মিতুর বাবা বাবুল আক্তারকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করতে পারেন- এমন খবরে বুধবার সকাল থেকে থানায় উপস্থিত হতে থাকেন সাংবাদিকরা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ডিটি রোডে পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে যান বাবুল আক্তার। সেখানে কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গতকাল পিবিআইয়ের ঢাকা অফিসে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। মোশাররফ হোসেন মেয়ে হত্যার জন্য বাবুল আক্তারকে দায়ী করে আসছিলেন।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ২০১৬ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম নগরের জিইসিতে তাদের বাসার কাছে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। এরপর চট্টগ্রামের ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়।

এর ফলে বাবুলের দিকে সন্দেহের তীর যায়। হত্যায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছেন।

এদিকে প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয় ডিবি পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা দমনে অভিযানের জন্য আলোচিত ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার।