গাজায় ইসরাইলি হামলার কঠোর নিন্দা ওআইসি’র


রিয়াদ : ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) গাজায় ইসরাইলী হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুর্নব্যক্ত করেছে।

এক জরুরি বৈঠক শেষে সৌদি নগরী জেদ্দাহ ভিত্তিক এই সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওআইসি ফিলিস্তিনী জনগণের ওপর ইসরাইলী দখলদারি কর্তৃপক্ষের বারংবার হামলার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে।

একইসঙ্গে সংস্থাটি ফিলিস্তিনী জনগণকে তার ভূমি থেকে উচ্ছেদ, জোর করে তাদের জমি দখল এবং ইহুদি বসতি নির্মাণেরও নিন্দা জানাচ্ছে।

সোমবার ইসরাইল গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। গাজা থেকে হামাসও ইসরাইলী ভূখন্ড লক্ষ্য করে রকেট ছোঁড়ে। অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলী বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। এছাড়া হামাসের রকেট হামলায় তিন ইসরাইলী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কয়েক’শ।

গত শুক্রবার থেকে আল আকসা মসজিদকে ঘিরে উভয়পক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মূলত এ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত। আল আকসা প্রাঙ্গণে গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩শ’রও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ জেলা থেকে ৭০টির বেশি ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তা নিয়েই সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা শুরু হয়। সোমবার ভোরে আবারও ইসরায়েলি বাহিনী আল আকসায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তারা ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও বোমা ছুঁড়েছে। এতে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের একটি সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের পক্ষে রায় দিয়েছিলো ইসরায়েলি আদালত। এর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানিকে সামনে রেখে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে রোববার ওই মামলার শুনানি পিছিয়ে গেছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন তারিখ দেওয়া হবে।

এদিকে সৌদি আরব ইসরাইলের এ হামলাকে নির্মম হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এর পরই ওআইসি ইসরাইলী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

পবিত্র নগরী মক্কায় মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলাত কাভুসগুলুর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে ইসরাইল- ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ঈদুল ফিতরের পর ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি’র পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।