
জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : আজ চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। কিন্তু এর আগেই বিরল এক রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। অন্যান্যবার দেশে দুইদিন ঈদের জামাত হলেও এবার প্রথমবারের মত ঈদের নামাজ পড়া হচ্ছে তিনদিন! অর্থাৎ এক দেশেই পরপর তিনদিনে তিনবার ঈদ পালিত হচ্ছে!
এর আগে গতকাল বুধবার ঈদুল ফিতর পালন করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফের অনুসারীরা। আবার ভোররাতে চাঁদ দেখার ঘোষণা দিয়ে একই দিন ঈদ উদযাপন করেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা ও সমেসপুর গ্রামের কিছু মানুষ।
তাদের দাবি, সোমালিয়া, নাইজেরিয়াসহ সাতটি দেশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেছে। তাই দুদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার ঈদ উদযাপন করেছেন তারা।
এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও জামালপুরের অনেক এলাকায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুটি গ্রামসহ সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ির অর্ধশতাধিক গ্রামেও পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজকে ঈদ উদযাপন করা মানুষজন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী।
এ ছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামে থাকা মির্জারখীল দরবার শরিফের ভক্তরাও আজ ঈদ উদযাপন করছেন।
মৌলভীবাজারের শতাধিক পরিবার ও জামালপুরের সরিষাবাড়ির ১৩ গ্রামের মানুষও আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন।
আর এর বাইরে থাকা দেশের বেশিরভাগ মানুষ ঈদ উদযাপন করবেন আগামীকাল শুক্রবার। দেশের বৃহৎ এই জনগোষ্ঠী নিজ ভূখণ্ডে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ পালন করে থাকে।
এক দেশেই তিনবার ঈদ উদযাপন নিয়ে হাটহাজারী দারুল উলুম মাইনুল ইসলাম মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক মুফতি হাবিব উল্লাহ সোহেল একুশে পত্রিকাকে বলেন, হাদিসে আছে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, ‘তোমরা আকাশে চাঁদ দেখে রমজানে রোজা রাখো। আবার চাঁদ দেখেই তোমরা রোজা ভেঙে ঈদ পালন করো।’ এই হাদিসটি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। এই বিষয়ে যদি ব্যাখ্যা করা হয়, তার মানে দাঁড়ায়, যে দেশে যখন চাঁদ দেখা যাবে তাদের জন্য তখন রোজা, তাদের জন্য তখনই ঈদ।
তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে তারা ঈদ পালন করবে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা গেলে আমরা ঈদ পালন করবো। এখানে কোনও লুকোচুরি বা ভিন্নমত পোষণ করার সুযোগ নেই। হাদিসকে সামনে রেখে এক কথায় আমরা বলতে পারি, চাঁদ দেখা গেলে আমরা ঈদ পালন করবো। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ পালন করবো না।’
