দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এক মাসে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাকা : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল দই হাজার ১৭৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৪ জনের। অবশ্য মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার মৃত্যু কমেছে। এ দিন ৪১ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত শনাক্ত হন এক হাজার ৭৬৫ জন।

বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ২৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক হাজার ৯৮৮ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯১৪ জন। দেশে করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন সাত লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ জন।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৫, রাজশাহীতে ৫, খুলনায় ৫ ও বরিশালে ২ ও সিলেটে ৩ জন মারা গেছেন। ৩৪ জনের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এর মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৮ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের আটজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের পাঁচজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের তিনজন মারা গেছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও সাড়ে ১০ হাজার ৩৪৪ মানুষ এবং আক্রান্ত হয়েছেন চার লাখ ৪৭ হাজার ২০১ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস অব্যাহতভাবে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পর আস্তে আস্তে তা অনেকাংশে কমে আসে। তবে চলতি বছরের মার্চ থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞরা এটাকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।