শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃত্ব পেতে কেন এই নয়ছয়, মিথ্যার আশ্রয়?

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুন ৯, ২০২১, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিক : জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চট্টগ্রামের দুজন নেতা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরা হলেন-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং উপ ক্রীড়া সম্পাদক আবদুর রহমান। হেলাল উদ্দিন চৌধুরী নামে আরেক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

জীবনবৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি দেখানো, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করাসহ নানা মিথ্যা তথ্য সংযোজনের অভিযোগ মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ি গ্রামের আরিফ শাহ বাড়ির মীর মোহাম্মদ নুরুচ্ছফার ছেলে। তিনি থাকেন ঢাকার তোপখানা রোডে। জীবনবৃত্তান্তে তার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্নাতক ডিগ্রিধারী বলে উল্লেখ করে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে লিখেছেন-সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাতবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ; সাবেক সদস্য, সাবেক সহ সভাপতি চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ; কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ (নানক-আজম কমিটি); কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (লিয়াকত-বাবু); সভাপতি-বাংলাদেশ ছাত্র লীগ, সাতবাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।

মহিউদ্দিন সম্পর্কে চন্দনাইশ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য এম এ রহিম গত ২২ এপ্রিল তার ফেসবুক আইডিতে একটা পোস্ট দেন। এতে মীর মহিউদ্দিনকে এসি/ফ্রিজ মিস্ত্রি, ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় যুবলীগের এই নেতা মাত্র এসএসসি পাশ এবং তদবিরবাজ বলে উল্লেখ করে তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

রহিম অভিযোগ করেন, মীর মহিউদ্দিন নগরের বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর এলাকায় আরজু আরা নামে এক নারীর বেদখলে থাকা ৩২ গন্ডা জমি পুনরুদ্ধার করে দেওয়ার নামে সাফ কবলা করে দুই গন্ডা জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে নেন। পরে ৩০ গন্ডা জমি নামজারি করে দেওয়ার নামে ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ৫ লাখ টাকা। নিজের নামে সাফ কবলা করে নেওয়া দুই গন্ডা জায়গা ৬০ লাখ টাকায় বিক্রিও করে দেন। কিন্তু আজও আরজু আরার বেদখলে থাকা ৩০ গন্ডা জমি উদ্ধার করে দিতে পারেননি মীর মহিউদ্দিন। আরজু আরা চন্দনাইশ উপজেলা সাতবাড়িয়া দরবার শরীফের ছোট হুজুর মুফতি সৈয়দ মাবুদুল হক শাহ (ক.) এর মেয়ে।

এমএ রহিম লিখেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেও জীবনে কোনওদিন দলের পক্ষে মিছিল মিটিং করেননি মীর মহিউদ্দিন৷ তবে তিনি ছিলেন চন্দনাইশ থানা ছাত্রলীগের সদস্য। তদবির নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ঢাকার সচিবালয়ে। দালালি করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায়। ১০ শতাংশ কমিশনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে দেন। এছাড়া তিনি করেন রেলের খাদ্য পরিবহনের ঠিকাদারী।

তবে মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একুশে পত্রিকার কাছে। বলেন, ‘চট্টগ্রামের রাজনীতিতে গ্রুপিং আছে। যিনি ফেসবুকে আমার বিষয়ে যা লিখেছেন তাতে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন। আমার বাবা তিন বার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। যিনি বলেছেন আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা নয়, তাকে প্রমাণ দিতে বলেন। আমি স্নাতক পাশ। আমার বাবা ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। আমি স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলে নানক-আজম কমিটির মেম্বার হলাম কী করে। এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ লিয়াকত-বাবু ভাইয়ের কমিটির সদস্য ছিলাম। বায়েজিদের চন্দ্রনগরে কোনও নারীর দুই গন্ডা জায়গা সাফ কবলা করে নেওয়া বা জমি পুনরুদ্ধার বা নামজারির নামে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। শত্রুতার কারণে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপ কমিটির সদ্য সদস্য নিযুক্ত হওয়া মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেনও জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশ করে মীর মহিউদ্দিন যুবলীগের পদ পেয়েছেন বলে এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ তুলেন।  এ ব্যাপারে তিনি বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হলেও সেগুলো যাচাই-বাছাই হয় বলে আমার জানা নেই। সে কারণে মিথ্যা তথ্যে, গল্প ফেঁদে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে তা জমা দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ লক্ষণীয়। এক্ষেত্রে মীর মহিউদ্দিন জাস্ট একটা সিম্বল। প্রতীকী অর্থে আমি তা তুলে ধরেছি। কারো সঙ্গেই আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সবক্ষেত্রে ক্ষয়িষ্ণু একটা অবস্থার মাঝেও অন্তত বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব তৈরিতে ন্যূনতম শুদ্ধচর্চা হোক সেই চাওয়া থেকেই আমি দায়িত্ব নিয়ে এগুলো তুলে ধরেছি।

অভিযুক্ত আবদুর রহমানের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাহুলী গ্রামে। বাবার নাম আবদুল হাকিম। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্য এবং ১৯৯০ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ বাহুলী ওয়ার্ড শাখার প্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ আছে, আবদুর রহমান কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না৷ তার পরিবারে বিএনপির পদধারী নেতা আছেন। মূলত তিনি (২০০০ সালে) টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি গুদামে পণ্য সরবরাহ সহকারী পদে চাকরি করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে মালামাল (এসআই শিট) পাচারকালে ধরা পড়েন। ২০০০ সালের ২ জুলাই পাচার করা মালামাল বিক্রি বাবদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ফেরতও দেন। এসময় টি কে গ্রুপের তৎকালীন এমডির কাছে মুচলেকাও দেন আবদুর রহমান। একুশে পত্রিকার কাছে সেটির কপি সংরক্ষিত আছে।

এছাড়াও ২০১৪ সালে ছোট ভাইয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে আবদুর রহমান চাকরি নেন বলে অভিযোগ রযেছে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে তাকে চাকরিচ্যূত করা হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতার অনুরোধে মামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তার সম্পর্কে স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোফরান রানা বলেন, কখনও তো শুনিনি আবদুর রহমান নামে কেউ ছাত্রলীগ করত? আমি তো তখন ছাত্রলীগের মুল নেতা ছিলাম। আমি জানি সে ছাত্রদল করত। তার পরিবারের সকলেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি করত। তার চাচা প্রফেসর শফি স্যারসহ পরিবারের সকলে বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন৷

জাল সার্টিফিকেট দিয়ে আব্দুর রহমানের চাকরি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিলেট হবিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত বুধবার একুশে পত্রিকাকে বলেন, নিয়োগ পাওয়ার পর আবদুর রহমানকে হবিগঞ্জ শাখায় বদলি করা হয়। ভেরিফাই করার জন্য একদিন ঢাকার হেড অফিস থেকে তার (আবদুর রহমান) ভোটার আইডি, একাডেমিক সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু সেসময় তিনি একাডেমিক সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র দিতে পারেননি। পরে তাকে টারমিনেট করা হয়। সেসময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, আবদুর রহমান তার শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন।’

তবে আবদুর রহমানের দাবি, জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া সকল তথ্য শতভাগ সত্য। তিনি বলেন, আমি পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেছি। ক্লাস নাইন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে আমি কখনো চাকরি করিনি৷ তাদের সাথে আমার এসআই শিটের ব্যবসা ছিল। ২০০০ সালে মালামাল সরবরাহ নিয়ে ওই কোম্পানির সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ছোট ভাইয়ের শিক্ষাগত সনদ দিয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি নিয়ে পরে চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। নিজের যোগ্যতা বলে যুবলীগের পদ পেয়েছি। আমার পরিবারের কেউ বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। আমার রাজনৈতিক উত্থানে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’

এদিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে প্রস্তুত করেও বায়োডাটায় দেননি দাবি করেছেন  যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। আদি নিবাস নোয়াখালী হলেও তার বেড়ে ওঠা, বসবাস চট্টগ্রাম নগরের জামালখান বাইলেন মিড টাউন হাউজিং সোসাইটিতে। নগরের ফিরিঙ্গি বাজার ব্রিজঘাট এলাকায় ‘সাইনপোস্ট’ নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  বাবার নাম সুলতান আহমদ চৌধুরী। রাজনৈতিক বায়োডাটায় বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেন হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।

বায়োডাটায় আরও উল্লেখ আছে, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, চট্টগ্রাম জেলার প্রধান সমন্বয়কারী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের এডহক কমিটির সদস্য, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ সভাপতি। এছাড়া চট্টগ্রাম সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক (১৯৮৭-৮৮) বলে উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক উল্লেখ করলেও বায়োডাটায় সংযুক্ত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কুমিল্লা বোর্ডের একাডেমিক সনদ। সেটির রোল চট্টগ্রাম-৩ নং ২২৩০। ক্রমিক নং- ০৯১৫৬০। এতে লেখা আছে-হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, পিতা- সুলতান আহমদ। সরকারি সিটি মহাবিদ্যালয় হতে ১৯৮৮ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে ২য় বিভাগ উত্তীর্ণ। এছাড়া কখনো অফিসার না থেকেও অফিসার্স ক্লাবের সদস্য হন কী করে প্রশ্নটিও তৈরি হয়েছে তার জীবনবৃত্তান্ত থেকে।

এসব প্রসঙ্গে হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বায়োডাটা প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় যুবলীগের পদের জন্য জমা দিইনি। কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনীতি করার ইচ্ছা আমার ছিল না। বায়োডাটায় আমি কোনও মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিইনি। যা দিয়েছি শতভাগ সত্য। আমি স্নাতক ডিগ্রিধারী। সনদ তুলিনি বলে বায়োডাটায় শুধু উচ্চ মাধ্যমিক সনদ সংযুক্ত করেছি। আমি সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদে সদস্য ছিলাম। ১৯৮৭-৮৮ সালে জালাল উদ্দীন ইকবাল ভাই ভিপি ছিলেন। আমি উনার কমিটির আপ্যায়ন সম্পাদক ছিলাম। এসময় ১৯৮৭-৮৮ সালে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক থাকার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। যা তিনি রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত ছাড়াও ভিজিটিং কার্ডেও উল্লেখ করেন।

হেলাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ অপপ্রচার করলে আমার কিছু যায় আসে না। আমি ৩৫ বছর ধরে ফেয়ার রাজনীতি করে আসছি। কে কী বললো সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।’

তবে হেলাল উদ্দিন যুবলীগের পদ পেতে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেননি বলে দাবি করলেও একুশে পত্রিকার অনুসন্ধান দেখা গেছে, তিনি ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উল্লেখিত তথ্যের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। যার সিরিয়াল নম্বর ৮৬৭।

সিটি কলেজের সাবেক ভিপি শফিউল আজম বাহার বলেন, ‘হেলাল উদ্দিন চৌধুরী কখনো সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের পদধারী ছিলেন না। তিনি সিটি কলেজের নাম ভাঙাচ্ছেন।’ সাবেক এই ভিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাহার তো আমার ৫-৬ বছরের জুনিয়র। আমার বিষয়ে তার জানা থাকার কথা নয়।’

রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ভুল তথ্য দিয়ে পদ বাগিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল সোমবার (৭ জুন) দুপুরে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্তে যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকে এটার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করেন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে আগ্রহীদের রাজনৈতিক ও জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। সারাদেশ থেকে অন্তত দুই হাজার বায়োডাটা জমা পড়ে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে যায় পদপ্রত্যাশী অন্তত ২০০ জনের বায়োডাটা।