শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

এমপি জাফরকে দল থেকে অব্যাহতি, কেউ বলছেন উদগ্র গ্রুপিংয়ের জের!

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জুন ১০, ২০২১, ১১:০৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য মো. জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকালে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।

সভায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, গত ৮ জুন চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাফর আলমের নেতৃত্বে চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব আসে। এর অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য জাফর আলমকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, শাহ আলম চৌধুরী রাজা, রেজাউল করিম, কানিজ ফাতেমা আহমদ এমপি, লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, মাহবুবুল হক মুকুল, অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, খালেদ মাহমুদ, এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মমতাজ আহমদ, মেয়র মকসুদ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রশিদ দুলাল, সোনা আলী প্রমুখ।

এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে। অনেকেই বলছেন জাফর আলম কেবল একজন আওয়ামী লীগ নেতা নন, তিনি একজন সংসদ সদস্য,  আইনপ্রণেতা। তাছাড়া দলের একজন ছোট নেতাও যদি গঠনতন্ত্রবিরোধী এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ করেন তবে বহিষ্কারের ব্যাপারে কিছু প্রক্রিয়া থাকে। প্রথমে তাকে সতর্ক করা হতে পারে, পাঠানো যেতে পারে কারণ দর্শানো নোটিশ। এতে সন্তুষ্টি তৈরি না হলেই চূড়ান্ত বহিষ্কার। আর  এক্ষেত্রে কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়নি।

রাজনীতি সচেতনদের কেউ কেউ বলছেন তড়িঘড়ি করে এমন বহিষ্কার-নাটকের মূলে আছে স্থানীয় রাজনীতির উদগ্র গ্রুপিং। এমপি জাফর আলমের সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সাথেই মূলত এই দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং। সেই গ্রুপিং-দ্বন্দ্বেরই ফল বহিষ্কার-নাটক- এমনও দাবি করেন অনেকে।