রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

ভবিষ্যতে অনৈতিক কাজ করবেন না এমপি জাফর

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১, ৩:৪২ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ‘জাতে মাতাল’তালে ঠিক।আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা যতই ঝগড়া বিবাদ থাকুক না কেন, দিন শেষে আমরা সবাই শেখ হাসিনার কর্মী।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছোড়াছুড়ির বিষয়টি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা মাঝে মধ্যে নিজেরা একটু ঝগড়াবিবাদ (তাল, বেতাল) করি, অন্যকে পাগল করার জন্য। কিন্তু লাফ দিয়ে নর্দমায় পড়ি না, তাই বিএনপি- জামায়াতের খুশি হওয়ার কিছুই নেই।

বৃহস্পতিবার (১৭জুন) বিকেলে চকরিয়ার এটিএন পার্ক কমিউনিটি সেন্টারের কনভেনশন হলে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন,সিরাজুল মোস্তফা।

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে সাংসদ জাফর আলম আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আমাকে এমপি বানিয়েছেন।এখন আপনারা যদি আমাকে ছোট করতে চান,দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।আপনারা ছোট হয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, চকরিয়া-পেকুয়ার আওয়ামীলীগের বিষয়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা আওয়ামীলীগ যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই আমি মেনে নেব। এসময় আর কখনো অনৈতিক আচরণ না করার ওয়াদা করেন সাংসদ জাফর আলম।

উল্লেখ্য,পৌর নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা
ও চকরিয়ার বর্তমান পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের ওপরে হামলার অভিযোগে গত ৮ জুন চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও পরেরদিন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাংসদ জাফর আলমকেও দলীয় পদ থেকে অব্যহতি দেয় জেলা আওয়ামীলীগ। দুই নেতাকে অব্যাহতি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে কক্সবাজারের আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ।

এক পর্যায়ে এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটু সমর্থকরা চকরিয়া-পেকুয়ায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি নিয়ে সাংসদ জাফর আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য উঠে আসে।

চকরিয়ার এহেন রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নজরে আসলে গত ১৪ জুন ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এ বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একই সাথে ভেদাভেদ ভুলে ১৭ জুন কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক কর্মী সভার সিদ্বান্ত দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ১৭ জুন বিকেলে এটিএন পার্কে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।