রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

চট্টগ্রাম কলেজ : ক্লাস হয় না, মারামারি হয়!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১, ৮:৪১ অপরাহ্ণ

একুশে প্রতিবেদক : দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ চট্টগ্রাম কলেজ। দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ক্লাস, পরীক্ষাসহ একাডেমিক সব কার্যক্রম। কিন্তু কলেজ বন্ধ হলেও মারামারি চলছে এখানে নিয়মিত! আধিপত্য বিস্তার করতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এখানে সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বন্ধ ক্যাম্পাসে কীভাবে শিক্ষার্থী জমায়েত হল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস ইস্যুতে চট্টগ্রাম কলেজ বন্ধ হয় গত বছরের মার্চের ১৮ তারিখ। তখন থেকেই ক্লাস বন্ধ, পরীক্ষা বন্ধ, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী আগমনও বন্ধ। কিন্তু এসব বন্ধের মধ্যেও কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ছোটখাট মারামারি অব্যাহত ছিল। দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বন্ধে অধ্যক্ষ বৈঠকও করেছেন কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে। কিন্তু বৈঠকের ৭ দিনের মাথায় গত বুধবার (১৬ জুন) ঘটে গেলো ভয়াবহ মারামারির ঘটনা।

সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক চৌধুরী চকবাজার থানার দায়িত্বরত এক উপ-পরিদর্শককে (এস আই) সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে অধ্যক্ষ সন্ধ্যা ৬ টার পর মাহমুদুল-সবুজ গ্রুপের কাউকে কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এর ব্যতিক্রম হলে তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও দেন তিনি (অধ্যক্ষ)।

যদিও এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক চৌধুরীর ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের দিন থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ গত বুধবার (১৬ জুন) আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের মধ্যে মারামারি-সংঘর্ষে ছয়জন আহত হন। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়। এর একটিতে যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে এবং অন্যটিতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, চট্টগ্রাম কলেজ সংলগ্ন প্যারেড কর্ণারের হোস্টেল গেইট থেকে বন্ধ থাকা শেরে বাংলা হল পর্যন্ত সীমানায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষে প্রায় শ’খানেক তরুণ মারারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাতে দেশি ও বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতেও দেখা যায়।

চট্টগ্রাম কলেজের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকরাম হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কলেজ বন্ধ থাকলেও ছাত্ররা কলেজে আসছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা ও অন্তর্কোন্দলকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। তবে বন্ধ থাকা কলেজে হঠাৎ কেন এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হল তা তদন্তের পর আমরা জানাতে পারবো।’

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ বিদ্যমান। এদের মধ্যে সভাপতি মাহমুদুল করিম ও তার অনুসারীরা নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এখন তারা মহিউদ্দিন-পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে আছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সবুজের দাবি টিনু তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে আসলেও তিনি কখনোই তার ছায়ায় রাজনীতি করেননি। নিজেকে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারী পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সুভাষ।

কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় সভাপতি মাহমুদুলকে সরাসরি দোষারোপ করছেন সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে কলেজ-অধ্যক্ষ সন্ধ্যার পর আমাদের কলেজে অবস্থান না করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকে আমি ও আমার গ্রুপের কেউই কলেজে যাই না। কিন্তু মাহমুদুলের অনুসারীরা প্রত্যেকদিন সন্ধ্যার পর কলেজের ভিতরে মাদক সেবনসহ নানারকম অপরাধ কার্যক্রম করে। তারাই কলেজের ভিতরে-বাইরে নানা ধরনের ঝামেলায় জড়াচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সুভাষ বলেন, রাম দা, কিরিচের পাশাপাশি বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মাহমুদুল ও তার অনুসারীরা মহড়া দিয়ে নিজেদের শক্তি জাহির করে আসছে। কলেজে তারা অস্ত্র নিয়ে অবাধে চলাফেলা করত। গত পরশু মাহমুদুলের অনুসারীদের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখে কলেজের সিকিউরিটি গার্ডই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে খবর দেন। এমনকি পুলিশের হাতে কিরিচসহ আটক হওয়া সৌরভও মাহমুদুলের অনুসারীÑ যোগ করেন এই নেতা।

একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ফোন করলেও প্রত্যেকবার তিনি ফোন কেটে দেন।