আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫০ কোটি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে ভারত। শনিবার নয়াদিল্লিতে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এই চুক্তি হয়েছে।
শীর্ষ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৮টি সমঝোতা স্মারক ও চারটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
অনুষ্ঠানে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে তৃতীয় ঋণ সহায়তার আওতায় মোট ৫০০ কোটি ডলার ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণাও দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এসময় মোদী বাংলাদেশকে আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহেরও ঘোষণা দেন।
এনিয়ে গত ছয় বছরে বাংলাদেশকে দেওয়া ভারতের সহজ শর্তে (১% সুদে) ঋণ সহায়তা ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হল বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ৪৫০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে, তা বাংলাদেশের অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণ করে তাতে অর্থায়ন করা হবে।
এর আগে ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় ১৪ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়েছিল। ওই প্রকল্পগুলো বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।
তারও আগে ২০১০ সালে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছিল। ওই ঋণে ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়; যার আটটি প্রকল্প এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। বাকিগুলো চলমান।
প্রতিরক্ষা খাতে ঋণের কেনাকাটায় বাংলাদেশের চাহিদা প্রাধান্য পাবে বলে ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র বিরোধিতা করে বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্বের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ভারতের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনা নিয়েও বিরোধিতা রয়েছে বিএনপির। তারা বলছে, ভারতের সমরাস্ত্র মানম্মত নয়।
বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদী উগ্রবাদ ও চরমপন্থা থেকে জনগণকে রক্ষা করে সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুদেশের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “এগুলোর বিস্তার শুধু ভারতের ও বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো এই অঞ্চলের জন্য হুমকি তৈরি করেছে।”
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ‘বিন্দুমাত্র ছাড় নয়’ নীতির প্রশংসা করেন মোদী।
