
একুশে প্রতিবেদক : পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি। খোদ এমপিই এই অর্থকষ্টের কথা অকপটে জানিয়েছেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে।
শনিবার মধ্যরাতে সংবাদ বিশ্লেষণভিত্তিক ওই টকশোর উপস্থাপক আগামী ১ জুলাই থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউনের বিষয়ে কী পরিকল্পনা-প্রস্তুতি জানতে চাইলে জবাবে এই কথা বলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা।
তিনি বলেন, ‘যত দোষ নন্দঘোষ। রবীন্দ্রনাথের ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার মতো আমরা ‘কেষ্টা বেটাই চোর’। ৮৪-৮৫ দিন আমাদের পরিবহন বন্ধ ছিল। ৪০ বছর ধরে পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত। কয়েকটা গাড়ি আছে, সেই গাড়ির আয় দিয়ে চলি, এখন সেগুলো প্রায় বন্ধের মতো। কয়েকটি দোকানের ভাড়া পাই সেগুলো দিয়ে চলছি। সিনসিয়ারলি স্পিকিং-বর্তমানে খুব অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছি, যদিও আমি এমপি, চিফ হুইপ। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। কেউ আমাকে চার আনা দিক, সাহায্য করুক তাও আমি চাই না। আমি কষ্ট করে পরিবার চালাচ্ছি।’
তিনি বলেন, গাডিতে চালক-হেলপার-কন্ডাক্টর মিলে মাত্র ৩ জন। গাড়ি রাস্তায় নামলেই গাদাগাদি করে ২০ জন একসাথে উঠে যাচ্ছে। আমরা তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে পারি না। সারাদিন গাড়িতে কোনো যাত্রী থাকে না। অফিস শুরু ও শেষের দিকে কিছুটা ব্যবসা করি আমরা। আর সেই দৃশ্যটাকেই বড় করে প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেন রাঙ্গা।
অন্তত আমার শ্রমিকদের জন্য আগামি কোরবান ঈদে একটু গরুর মাংস, খাশির মাংসের ব্যবস্থা করতে পারি, সে জিনিস্টাই চাচ্ছি-এমনটা উল্লেখ করে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমরা রাস্তায় গাড়ি বের না করলেও কিন্তু মানুষ ঠিকই বাড়ি বা গন্তব্যে পৌছে যাচ্ছে কোনো না কোনোভাবে। গতকাল দূরপাল্লার বাস ছাড়াই আমার পরিচিত একজন রংপুর গেছে। টেলিফোন করে জানতে চাইলে তিনি বললেন, সেই কবে পৌঁছে গেছি। কাজেই শুধু পরিবহনের দোষ দিয়ে লাভ কী- যোগ করেন প্রভাবশালী এই পরিবহন শ্রমিক নেতা।
