
হারারে (জিম্বাবুয়ে) : স্পিন যাদু দিয়ে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ১ম ইনিংসে ২৭৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে টাইগার দলের হয়ে ৫ উইকেট সংগ্রহ করেছেন অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। সাকিব আল হাসান নিয়েছেন চার উইকেট।
তৃতীয় দিন শেষে একমাত্র টেস্টের নিয়ন্ত্রন এখন বাংলাদেশের হাতে। দিন শেষে অপরাজিত ৪৫ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। ওপেনার সাদমান ইসলাম ২২ ও সতীর্থ অপর ওপেনার সাইফ হাসান ২০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ফলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানে ভর করে ৪৬৮ রান সংগ্রহ করা বাংলাদেশ ১ম ইনিংস থেকে ১৯২ রানের লিড নিয়ে সর্বমোট ২৩৭ রানে এগিয়ে রয়েছে।
উইকেটের লক্ষ্য নিয়ে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশকে একেবারেই হতাশ করেছিলেন স্বাগতিক দুই ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর ও কাদুজওয়ানাসে কেইতানো। সাবলিল ব্যাটিং দিয়ে টেইলর ধারবাহিক ভাবে শায়েস্তা করে গেছেন সফরকারী বোলারদের। কেইতানোও একই কায়দায় চেপে বসেছিলেন টাইগারদের উপর। তাদের ওই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কারণে সকালের সেশনে বেশ ভাল ভাবেই এগিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। ফলে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই ১১৪ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের বোলাররাও এ সময় তাদেরকে খুব একটা চেপে ধরতে পারেনি। তবে ভাগ্য দেবীর সহায়তায় দারুন খেলতে থাকা টেইলরকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয় সফরকারী দল। একটি বাজে শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। মেহদি হাসান মিরাজের ওই উইকেটটির কল্যানে ইতি ঘটে জিম্বাবুয়ের ওই দুই ব্যাটসম্যানের ১১৫ রানের পার্টনারশীপের। কিন্তু কেইতানোর নির্ভিক ব্যাটিং আবারো চোখ রাঙ্গাচ্ছিল বাংলাদেশকে। এই সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রন বলেতে গেলে চলে গিয়েছিল স্বাগতিকদের হাতে। সতীর্থ আরেক ব্যাটসম্যান মায়ার্সও বেশ দৃড়তার সঙ্গে ব্যাটিং করছিলেন। তবে মধ্যাহ্ন সেশনে লড়াইয়ে ফিরে আসে বাংলাদেশ। মাত্র চার রানে তিন উইকেট ফিরিয়ে দেয় টাইগাররা। সাকিব আল হাসানের বলে সাজঘরে ফিরে আসেন সুইপ করতে যাওয়া মায়ার্স (২৭)। এরপর লেগ বিপোরের ফাঁদে ফেলে তিনি শুন্য রানে ফিরিয়ে দেন টিমিসেন মেরামকে।
তবে ভাগ্য খুব একটা সহায় ছিলনা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেকে দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা তাসকিন। যদিও কসরতের ফল তিনি পেয়েছেন রয় কাইয়ার উইকেটটি দখল করে। এরপর স্পিন ভেল্কি শুরু করেন মিরাজ। তিনি এরপর শিকারে পরিণত করেছিলেন কেইতানোকে। অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বাধিক ৮৭ রান সংগ্রহ করেছেন ওপেনার কাদুজওয়ানাসে কেইতানো। ৩১১ বলের মোকাবেলায় ৯টি বাউন্ডারী সাজিয়ে ওই সংগ্রহ দাঁড় করান তিনি।
মিরাজ শেষ পর্যন্ত ৮২ রানের খরচায় ৫ উইকেট সংগ্রহ করেছেন। আর অল রাউন্ডার সাকিব সমান ৮২ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
এই নিয়ে লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে অস্টম বারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট সংগ্রহের নজীর সৃস্টি করেছেন মিরাজ। এর ফলে প্রথম ইনিংসে সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করল টাইগাররা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৪৬৮ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। ফলে ১ম ইনিংস শেষে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ১৯২ রানের একটি আকর্ষনীয় লিড লাভ করে টাইগাররা।
বাংলাদেশের হয়ে ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ অসাধারণ বোলিং করলেও দুর্ভাগ্য বশ:ত একটি মাত্র উইকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিনিময়ে খরচ করেছেন ৪৬ রান।
