চট্টগ্রাম : সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী সাহেদা মহিউদ্দিন হত্যার বিচার দাবি করলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে হাসনী বলেন, আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর (মহিউদ্দিন চৌধুরী) স্ত্রী সাহেদা মহিউদ্দিন হত্যার বিচার চাই। কাজের মেয়ে রানু, সন্তোষ, রবি, ওয়াজিউল্লাহ হত্যাকাণ্ডগুলো এ শহরের প্রবীণ মানুষদের বিবেককে এখনও নাড়া দেয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে নিজ বাসায় থাকা ককটেল বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী সাহেদা মহিউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, সিটি করপোরেশনকে পাগলের আড্ডাখানা বলায় সম্মানিত ভোটারদের মধ্যে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করতেই এই সংবাদ সম্মেলন।
তিনি বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আমলে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অসংখ্য আত্মীয়স্বজনকে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন, আইন অমান্য করে অনেক পদের নিয়োগকে স্থায়ী করেছেন।
এর আগে সোমবার লালদিঘী মাঠে সোনালী যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সমাবেশে মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন নাছিরের তত্ত্বাবধানে ১২টি খুন করা হয়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে নগরভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহিউদ্দিনের বক্তব্যের সপক্ষে ‘তথ্য-উপাত্ত’ থাকলে তা দিতে বলে বর্তমান মেয়র নাছির।
নাছিরের খুনের তথ্য-উপাত্ত চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেব দেব। যখন প্রয়োজন হয়- মামলা করবে তো। উনার রাজনৈতিক জীবনে কমপক্ষে ১২টা ছাত্রলীগের ছেলেকে খুন করেছেন। তার ইন্ধনে। মামলা তো হয়েছে। হয়তো উনি ক্ষমতায় আছেন বিধায় মামলাগুলো তুলে ধরা হচ্ছে না।’
এ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ‘আপনি একজন খুনি- এ ধরনের বক্তব্য সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না। নির্বাচিত মেয়রকে এ ধরনের কথা বলা মানহানিকর। সাবেক মেয়র তার বক্তব্য যে কাউন্সিলরের উদ্বৃতি দিয়েছেন সে কাউন্সিলরের নাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করা বাঞ্চনীয় ছিল। যে ১২ জন লোক হত্যার কথা উল্লেখ করেছেন আমরা তার কাছ থেকে সে লোকগুলোর নাম-ঠিকানা জানতে চাই।
সিটি করপোরেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে আ জ ম নাছির কোন সময় পরামর্শ করেন না অভিযোগ করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য রেখেছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পরিচালিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত মেয়রের যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিকট জবাবদিহী। সাবেক কোন মেয়রের নিকট নির্বাচিত মেয়রের জবাবদিহীতার কোন সুযোগও নেই এবং প্রয়োজনও নেই।
এর আগে গত সোমবার সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সিটি করপোরেশনের দরজায় তালা মেরে সারাক্ষণ বন্দর চেয়ারম্যানের অফিসে বসে থাকেন মেয়র আ জ ম নাছির।
এ প্রসঙ্গে হাসনী বলেন, করপোরেশনে মেয়রের কার্যালয়ে ও বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সিসিটিভ ক্যামেরা রয়েছে। এই ক্যামেরাই প্রমাণ করবে সাবেক মেয়রের বক্তব্য অসাড় ও মিথ্যা।
এদিকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করেছিলেন বলেও জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।
এর আগে ১০ এপ্রিল লালদিঘীর মাঠে এক সমাবেশে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছিলেন, ১৭ শতাংশ কর আদায় করে পুরনো বাসিন্দাদের শহর থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
মহিউদ্দিনের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১৭ শতাংশ পৌরকর চালু আছে। সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন ও মনজুর আলমের সময়কালে ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি রয়েছে। পৌরকর ধার্য্য করার একমাত্র এখতিয়ার সরকারের। প্রতিটি সিটি করপোরেশন আলাদা ভাবে আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির বাইরে পৌরকর ধার্য্য করা বা আদায় করার কোন এখতিয়ার মেয়র বা নির্বাচিত পরিষদের নেই। বিগত মেয়রদের আমলেও একই নিয়মে পৌরকর ধার্য্য ও আদায় করা হয়েছে।
এতে আরও বলেন, নগরীর অসচ্ছল, নিঃস্ব, গরীব অধিবাসী, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ইত্যাদি ক্ষেত্রে আইন দ্বারা পৌরকর নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। এ বিধানের আওতায় উল্লেখিতদের পৌরকরের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। নামমাত্র পৌরকর বিধানের আওতায় হোল্ডিং নাম্বার প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও সীমিত আয়ের নাগরিকদের পৌরকর বিশেষ বিবেচনায় পৌরকর ধার্য্য করার সুযোগ রয়েছে। পৌরকর বৃদ্ধি করা হয়েছে এ ধরনের অজুহাত মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও ভ্রান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে চসিকের ৫৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেশের বাইরে, ৩ নম্বর ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসুস্থ থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে জানানো হয়।
উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ড কমিশনার মো. শাহেদ ইকবাল বাবু, ৪ নং চান্দগাঁও ওয়ার্ড কমিশনার সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু, ৫ নং মোহরা ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ আজম, ৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কমিশনার এম. আশরাফুল আলম, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কমিশনার জহুরুল আলম জসিম, ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড কমিশনার নিছার উদ্দিন আহমেদ, ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কমিশনার মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড কমিশনার সাবের আহমেদ, ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড কমিশনার সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কমিশনার এ কে এম জাফরুল ইসলাম, ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড কমিশনার হাজী হারুনুর উর রশীদ, ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড কমিশনার মো. ইয়াছিন চৌধুরী আশু, ২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ২১ নং জামালখান ওয়ার্ড কমিশনার শৈবাল দাশ সুমন, ২২ নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ড কমিশনার মোেহাম্মদ সলিম উল্লাহ, ২৪ নং উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড কমিশনার নাজমুল হক ডিউক, ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড কমিশনার এস এম এরশাদুল্লাহ, ২৭ নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ এইচ এম সোহেল, ২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ৩১নং আলকরণ ওয়ার্ড কমিশনার তারেকে সোলেমান সেলিম, ৩২নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কমিশনার জহর লাল হাজারী, ৩৩নং ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কমিশনার হাসান মুরাদ বিপ্লব, ৩৪ নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ ইসমাইল বালী, ৩৫ নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড কমিশনার হাজী নুরুল হক, ৩৬ নং গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কমিশনার হাবিবুল হক, ৩৭নং উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কমিশনার মো. শফিউল আলম, ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী ও ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড কমিশনার ছালেহ আহমদ চৌধুরী।
সংরক্ষিত নারী কমিশনারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দা কাশফিয়া নাহরিন দিশা, জোবাইরা নার্গিস খান, জেসমিন পারভীন জেসি, মনোয়ারা বেগম মনি, ফারজানা পারভীন, আনজুমান আরা বেগম, নিলু নাগ, জেসমিনা খানম, ফেরদৌসি আকবর, আফরোজা কালাম, লুৎফুন্নেছা দোভাষ বেবী।
