বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

নির্মাণ শেষের আগেই ‘টেকসই বেড়িবাঁধে’ ধস

প্রকাশিতঃ রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ


জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : আনোয়ারা উপজেলার পারকি সৈকতের রাস্তার মাথা থেকে বারআউলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘টেকসই বেড়িবাঁধ’ নির্মাণ শুরু হয় চার বছর আগে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ধসে যাচ্ছে বেড়িবাঁধটি।

গতকাল শনিবার বেড়িবাঁধটির বাইগ্গার ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দূরে থাক, সামান্য জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যাচ্ছে বাঁধের মাটি। জিও ব্যাগগুলোও ভাসতে দেখা যায়। গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় বাঁধের ব্লকগুলো যেমন অবস্থায় ছিল, এখনও তেমন অবস্থায় আছে। কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

চার বছর আগে বেড়িবাঁধটির কাজ শুরু হলেও বাঁধের বেশিরভাগ অংশ এখনও ভাঙা অথবা ধসে গেছে। বিশেষ করে বাইগ্গার ঘাট থেকে বার আউলিয়া পর্যন্ত এই বেহাল দশা।

বাইগ্গারঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস তো দূরের কথা সামান্য জোয়ারের পানির ধাক্কায় অনেক জায়গা ভেঙে যাচ্ছে। লোনা পানিতে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে, ফসলের ক্ষতি করছে। কী হবে এমন বাঁধ দিয়ে।’

তিনি বলেন, বাঁধ তৈরির জন্য সরকার শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। কিন্তু টাকাগুলো যাচ্ছে কোথায়? কাজের তো কোন গতি নেই।’

জাবের আলী নামের বার আউলিয়া এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আসলে অথবা মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে দুই-চারদিন জোরেশোরে বাঁধের কাজ করে, এরপর কাজ বন্ধ। কাজের লোকদের দেখা মিলে না। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে আমাদের স্বপ্ন দেখিয়ে গেছে, টেকসই ব্লক দিয়ে টেকসই বেঁড়িবাধ হচ্ছে, আমাদের সময় দিতে হবে। আর কত সময় নিলে বেঁড়িবাধের জন্য সরকারের দেওয়া টাকাগুলো তাদের পেটে হজম হবে?’

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মীর বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থের বরাদ্দ কত আছে- আমার জানা নেই। তবে ধারণা করতে পারি, এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বরাদ্দ নিশ্চয়ই কম নয়। তা কী সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে প্রশ্ন জনগণের মনে রয়েছে। সঠিকভাবে ব্যয় হলে বাঁধের এত দুরবস্থা হবে কেন?’

স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ‘গত দুই মাসে ঠিকাদারের কোন লোককে কাজ করতে দেখা যায়নি। বাইগ্গার ঘাট এলাকা থেকে বারআউলিয়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার বেঁড়িবাধে ব্লক বসানো হয়েছে।’

সামান্য জোয়ারে এসব ব্লক তো ধসে গেছে এবং ভাঙন দেখা দিয়েছে- বিষয়টি তুলে ধরতেই তিনি বলেন, ‘কী আর বলবো বলুন! পানি উন্নয়ন বোর্ড তো বলছে, টেকসই কাজ হচ্ছে!’

এদিকে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক শাকিল হাসান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাদের কাজ চলমান আছে। বাইগ্গার ঘাট এলাকায় তো ব্লক বসানো হয়নি, তাই একটু ধসে গেছে। এখন জিও ব্যাগের কাজ চলতেছে। বর্ষা এখন শেষের দিকে, আবার ব্লকের কাজ শুরু করা হবে।’

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম পওর বিভাগ-১) সিজেন চাকমা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল চলছে। তাই ঠিকাদাররা একটু ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’

কাজের অগ্রগতি না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্লক তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালের জুনে। এ সময়ের মধ্যে টেকসই বেঁড়িবাধ হবে।’