বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

ড. হাছান মাহমুদ : সংগ্রামী এক জীবনগাথা

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ


মিনহাজুর রহমান শিহাব : বর্তমান সময়ে দেশের রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল ধ্রুবতারাদের মধ্যে অন্যতম ড. হাছান মাহমুদ। নির্লোভ, নিরহংকার, সততার মূর্তপ্রতীক ড. হাছান মাহমুদ রাজনীতির প্রবাদপুরুষ; ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও যিনি সবসময় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অন্যতম মুখপাত্রের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছেন ড. হাছান মাহমুদ। এরপরও নিজ নির্বাচনী এলাকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমানভাবে খবর রেখে আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিচ্ছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

১৯৬৩ সালের ৫ জুন (বুধবার) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে এডভোকেট নুরুচ্ছফা তালুকদার ও নুরনাহার বেগমের কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত এ রাজনীতিক। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

মাত্র ৭ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যুর পর হাছান মাহমুদ মায়ের ছোট বোন এডভোকেট কামরুন্নাহার বেগমের পরম আদর-যত্নে বেড়ে উঠেন। তাঁর বাবা এডভোকেট মরহুম নুরুচ্ছফা তালুকদার দীর্ঘ কর্মজীবনে চট্টগ্রাম জেলা ও পার্বত্য জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন রাঙ্গুনিয়া থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন তিনি। নিজ গ্রাম পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিও ছিলেন গুণী এ মানুষ। মা এডভোকেট কামরুন্নাহার বেগম একজন মানবাধিকার কর্মীও। মানবাধিকার সমিতি, চট্টগ্রামের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে নেওয়া ড. হাছান মাহমুদের কাছে রাজনীতির অঙ্গনও একটি যুদ্ধক্ষেত্র। অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে জীবনযুদ্ধ চালিয়েই যেতে হয়, তাতে জয় কিংবা পরাজয় যাই আসুক। বর্তমান সময়ে চলমান দেশবিরোধী চক্রান্ত, নীল-নকশা, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নানা ষড়যন্ত্রে সর্বদা সরব কণ্ঠ, প্রতিবাদী দীপ্ত কন্ঠস্বর ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমে নিয়মিত বিবৃতি প্রদান করে যাচ্ছেন।

দেশের ইতিহাসে সর্বাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে ওঠা ড. হাছান মাহমুদের রাজনীতির হাতেখড়ি হয় ছাত্রজীবনে। রাজনীতির পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা হলেও তার পিতা চাননি তিনি রাজনীতিতে জড়ান এত তাড়াতাড়ি। ১৯৭৯ সালে এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন সে বছরই।

সরকারি হাজী মহসিন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ১৯৮০ সালে। এরপর বিচক্ষণ ও মেধাবী এই সংগঠকের আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তিনি মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮৬ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৮ সালে হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায়। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ এখনো পিছু করে তার। ওই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে তার সুদক্ষ নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য রুখে দাঁড়িয়েছিল। সেই ছাত্রঐক্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সমান পটু মেধাবী হাছান ছাত্রজীবনে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭৫ সালে জুনিয়র বিতর্ক টিমের দলনেতা হিসেবে এবং জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের দলনেতা হিসাবেও নেতৃত্ব দেন। পড়ালেখার পাশাপাশি পত্রিকায় লেখালেখিতেও পারদর্শীতার হাত ছিল শিক্ষার্থী হাছানের।

তুখোড় এ ছাত্রনেতা ২৮ বছর বয়সে ১৯৯১ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হন কিন্তু বয়স নির্ধারণ করে দেয়ায় সেই সময় ছাত্রলীগ করতে পারেন নি আর। প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগে সে নিয়ম চালু হয়েছিল। ছাত্রলীগের সম্মেলনের কিছুদিন পরে ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হন, যেখানে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

রাজনীতি ও পড়ালেখায় সমানভাবে এগিয়ে চলা অদম্য হাছান মাহমুদ ১৯৯২-৯৩ সালে বেলজিয়ামের বিখ্যাত ব্রীজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিষয়ক ডিপ্লোমা এবং ১৯৯৫-৯৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিষয়ের উপর মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকেই নিজ জন্মস্থান রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কলেজ, এলাকার নানা অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহনের মাধ্যমে সক্রিয় হন তিনি।

রাজনীতি, শিক্ষকতা এবং মন্ত্রীত্ব এসবের জন্য পরিবারের সমর্থন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি অবদান তার মাঝে প্রতীয়মান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর সে বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাসেলস হয়ে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিমান বন্দরে সংবর্ধনা জানানো হয়। তৎকালীন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে সাক্ষাতে শেখ হাসিনা তাকে পিএইচডি সম্পন্ন করে দেশে ফিরার জন্য পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।

সেই মোতাবেক ২০০০-২০০১ সালে বেলজিয়ামের বিখ্যাত বিমবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পরিবেশ বিষয়ক পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সেই সময় বাংলাদেশের আলোচিত আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিন্দা প্রস্তাব উত্তাপনসহ তৎকালীন জোট সরকারের বিভিন্ন দমন পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর বর্হিবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন শেষে দেশে ফিরলে ২০০১ সালের ২৮ই অক্টোবর আওয়ামীলীগের দূসময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বিশেষ সহকারী (পিএ) হিসেবে নিয়োগ পান তুখোড় ও চৌকষ এ ছাত্রনেতা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে পথচলা শুরু মূলত ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টানা দুই মেয়াদে এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের কাউন্সিলে দলের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজ কর্মগুণ, মেধা ও বিচক্ষণতার স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার এতসব অর্জনের পেছনের প্রেক্ষাপট কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। দায়িত্ব পালনে একাগ্র ও পরিশ্রমী এই ব্যক্তি ছাত্রজীবনে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বিশেষত, ১/১১ সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের বিভিন্ন হুমকি ও রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হয়ে নিশ্চিত গ্রেপ্তার ও গুম-আতঙ্ক মাথায় নিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও তিনি ছেড়ে যাননি আওয়ামী লীগ ও দলীয় প্রধানকে। সত্যকে প্রকাশ করা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে জননেত্রী শেখ হাসিনা পক্ষে সেই সময় মিডিয়ায় সামনে সাবলীল উপস্থিতি ও সাহসী অবস্থানের জন্য দেশী-বিদেশী মিডিয়ার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি।

শুধু তাই নয়, অভিভাবকতুল্য দলীয় সভানেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণে ২১শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবনের মায়া না করে প্রিয় নেত্রীকে বাঁচানোর জন্য মানবঢাল তৈরি করে অনন্য নজির রেখেছিলেন হাছান মাহমুদ। এখনও সেই গ্রেনেড হামলার ৪০টিরও বেশি স্প্রিন্টার ও ক্ষত শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-৭ সংসদীয় আসনে সেই সময়ের চারদলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া-৭ আসনের এমপি নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রথম মন্ত্রীসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর কিছুদিন পর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এক বছর পর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দায়িত্ব নেন।

পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে গঠিত সর্বদলীয় মন্ত্রীপরিষদে তিনি মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। মন্ত্রী হিসেবে মহাজোট সরকারে পাঁচ বছর পূর্ন করার পর দ্বিতীয়বার চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর, “গ্রিন ক্রস ইন্টারন্যাশনাল” তাদের সাধারণ অধিবেশনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত ও জোরালো ভূমিকার জন্য তাঁকে “সার্টিফিকেট অব অনারেবল মেনশনে” ভূষিত করে (এটি গ্রিন স্টার পুরস্কারেরই একটি অংশ), যে পুরস্কারকে পরিবেশ বিষয়ক নোবেল পুরস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়।

এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ অর্জনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক সভায় নিজ দেশের ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ক্ষতির যথোপযুক্ত যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন বলেই আজকে বাংলাদেশ জলবায়ু সম্মেলনের বিশ্ব দরবারে আলোচনার টেবিলে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাঙ্গুনিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিজ প্রজ্ঞা ও সৃজনশীল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় তিনি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরতদের কল্যাণে বিভিন্ন রকম যুগোপযোগী উদ্যোগ একের পর এক গ্রহণ করতে থাকেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে বাজেটে পূর্বের চেয়ে বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্রে অনুদান দেওয়াসহ করোনা মহামারির কারণে অসুবিধায় পড়া সাংবাদিক, চলচ্চিত্র, শিল্পী, নির্মাতা ও কুশলীদের জন্য আর্থিক ও নানাবিধ সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সুস্থ ও শালীন অনুষ্ঠান সম্প্রচার, টেলিভিশন চ্যানেল ও ক্যাবল অপারেটরগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনাও তার উল্লেখযোগ্য অবদান।

ড. হাছান মাহমুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ টেলিভিশন ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে দুরদর্শন ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সমগ্র ভারতে সম্প্রচার চালু হয়েছে। পারস্পরিক এ সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে বেতারের ক্ষেত্রেও যা ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো সমগ্র ভারতে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান দৈনিক ৪ ঘণ্টা সম্প্রচার ও বাংলাদেশ বেতারে আকাশবাণীর অনুষ্ঠানের অনুরূপ সম্প্রচার চালু হয়েছে।

রাজনীতির পাশাপাশি কর্মজীবনে অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া ড. হাছান মাহমুদ ঢাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করেন। সেখানে তিনি এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ও বাংলাদেশ স্টাডি বিভাগে দীর্ঘ দিন অধ্যাপনা করেন। এছাড়া নর্থ সাউথ ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়েও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে বেশ কিছু দিন অধ্যাপনা করেন গুণী এই পরিবেশবিজ্ঞানী। দেশের বাইরেও গেস্ট লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর হিসেবে এখনও দায়িত্বে আছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তবে রাজনীতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় না দেওয়ার অভিযোগ তার পরিবারের! বলাবাহুল্য, তিনিই একমাত্র মন্ত্রী যিনি করোনাকালে প্রায় প্রতিদিন অফিস করেন আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গিয়ে হাজার হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কাজ পরিচালনা করেছেন।

পাশাপাশি পালন করেছেন করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে সর্বদা তৎপর এই রাজনৈতিকও করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে দৃঢ় মনোবল ও সকলের ভালোবাসায় সৃষ্টিকর্তার করুণায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। অফিস শেষে এবং সপ্তাহ শেষে ঢাকায় থাকলে নিয়মিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া তার যেন রুটিন কাজ। প্রকৃতপক্ষে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের প্রতি আন্তরিকতার টানে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় তাঁকে। প্রতি সপ্তাহে নিজ এলাকার মানুষের খবর নিতে ছুটে যান স্বশরীরে শত ব্যস্ততা থাকা স্বত্বেও। নিজ নির্বাচনী এলাকায় হাজার কোটি টাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন তিনি।

সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল যাতে তৃণমূল পর্যায়েও পৌঁছায় সেজন্য নিয়মিত তদারকির সাথে দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আন্তরিকতার হাত বাড়িয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ৫৮ বছর বয়সী এ আলোর দিশারি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে পিছু না হটে দলের পাশে থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় দলের হাল ধরে আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিতে সমর্থ হয়েছিলেন ড. হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়া এ মানুষটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগের অন্যতম ‘সিপাহশালার’। কেবল দলের সুসময়ে ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি না করে বরং রাজনীতিকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে নেওয়া মুজিব আদর্শের পরীক্ষিত রাজনীতিক ড. হাছান মাহমুদ। একবিংশ শতকের রাজনীতির এ বরপুত্র সফলতার সাথে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবেন- এটাই আমাদের একান্ত চাওয়া।

লেখক : পরিবেশকর্মী ও সংগঠক