যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের জন্য পারমাণবিক বোমাও প্রস্তুত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। আজ শনিবার দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে খোদ কিম জং উনের উপস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিমূলক সকল কার্যক্রম চালাতে দেখা যায় সেনাবাহিনীকে।

যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রকার উস্কানি কিংবা আক্রমণ করলে উত্তর কোরিয়াও পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ বেধে যায়, তাহলে উত্তর কোরিয়া মিত্র হিসেবে কোন কোন রাষ্ট্রকে পাবে? মোটাদাগে উত্তর কোরিয়ার বন্ধু হিসেবে দেখা যায় রাশিয়া এবং বুলগেরিয়াকে। তবে কৌশলগত দিক দিয়ে চীনকেও মিত্র রাষ্ট্রের তালিকায় ফেলা যেতে পারে, কিন্তু চীনও যে উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়াবে তা বলা যাচ্ছে না।

এছাড়া বেনিন এবং মাদাগাস্কারের মতো দেশের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু চীন এবং রাশিয়া নিশ্চুপ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না উত্তর কোরিয়ার পক্ষে। তাই যদি দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে কৌশলগত দিক দিয়ে উত্তর কোরিয়া মিত্রহীন হয়ে পড়লেও যে কোনো অঘটনা ঘটতেই পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণ।

কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র মোতায়েনের বিপরীতে রণতরীর সঙ্গে আরও যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর ট্রাম্পের ওই নির্দেশের পর উত্তর কোরিয়াও তার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন শুরু করে দিয়েছে। এই অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার পাশে সম্ভাব্য কোন দেশগুলো দাঁড়াতে পারে তার একটা খতিয়ান তুলে ধরা হলো ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে।

রাশিয়া
শীতল যুদ্ধ পরবর্তীতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চলতি সময়কার মতো খারাপ যায়নি। আর তাই স্বাভাবিক কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে মুখ খুলছে না রাশিয়া। শীতল যুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ভালো। তবে গত বছর রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক বোমা প্রকল্পের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি জানায় এবং সেই জবাবে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

বুলগেরিয়া
১৯৪৮ সাল থেকে বুলগেরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সুসম্পর্ক। ইউরোপে বুলগেরিয়া উত্তর কোরিয়ার একমাত্র মিত্র রাষ্ট্র। যদিও গত মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার বিরদ্ধে সম্ভাব্য অবরোধ জারির ব্যাপারে ঐক্যমতে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা, লোহা নেয়া বন্ধ করে দেয়।

চীন
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে ২০১১ সালে কিম জং উন ক্ষমতায় বসার পর চীনের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা অবনতি ঘটে। দেশটির পারমাণবিক বোমা প্রকল্প নিয়ে বেশ কয়েকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনা প্রধানমন্ত্রী। বেইজিং থেকে বেশ কয়েকবার পরমাণু বোমা ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না চালানোর জন্য বলা হয় পিয়ংইয়ংকে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব মিডিয়া চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কথা বলার অভিযোগে অভিযোগ করে। মূলত উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ করে দেয়ার পরই দেশটি অমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ায় খাবার এবং জ্বালানি সহায়তা দেয়াও বন্ধ করে দেয় চীন।