মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

ছাত্রলীগের বেশিরভাগ সভাপতি-সম্পাদক আওয়ামী লীগ ও সরকারে নেই কেন?

প্রকাশিতঃ শনিবার, আগস্ট ১৪, ২০২১, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

শরীফুল রুকন : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের বেশিরভাগই উপেক্ষিত। আবার কাউকে কাউকে সান্ত¡না দিতে করা হয়েছে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক। সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নও পাননি অধিকাংশ। অথচ তাদের হাত ধরেই ছাত্রলীগের বহু সোনালী অর্জন। দেশের সঙ্কট উত্তরণে তারাই ছিলেন দেদীপ্যমান সূর্য।

জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে দায়িত্ব পালন করা তুখোড়, মেধাবী ছাত্রনেতাদের মধ্যে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সরকারে আছেন মাত্র ৭ জন। এর মধ্যে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি সরকারেরও অংশীদার। দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর। প্রেসিডিয়ামে ঠাঁই পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। এর মধ্যে আবদুর রহমান এমপি হলেও নানক মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন।

ঊনসত্তরের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দলের নেতৃত্বে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের উপদেষ্টা। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নূরে আলম সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে এখন যোজন যোজন দূরত্ব নূরে আলম সিদ্দিকীর।

ছাত্রলীগের ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭০-১৯৭২ মেয়াদে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন যশোর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নূরে আলম সিদ্দিকী বর্তমানে রাজনীতির মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

নূরে আলম সিদ্দিকীর সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাজাহান সিরাজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মাথায় ছাত্রলীগে ভাঙন দেখা দেয়। ‘মুজিববাদী’ হিসেবে পরিচিত অংশ নিয়ে থেকে যান নূরে আলম সিদ্দিকী। আর শাজাহান সিরাজের অংশটি ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী’পন্থী হিসেবে পরিচিত হয়; অংশটি পরবর্তী সময়ে জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে। শাহজাহান সিরাজ জাসদের টিকিটে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এরপর ৯৫ সালে যোগ দেন বিএনপিতে। ৮ম সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ১৪ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগে বিভাজনের পর ইসমত কাদির গামাকে করা হয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। সেই ইসমত কাদির গামাও নেই কোথাও। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার স্ত্রী ইডেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন ঘরেই নির্মমভাবে খুন হওয়ার পর গামাও এখন শয্যাশায়ী।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ভাগনে শেখ শহীদুল ইসলাম। ছাত্রলীগের রাজনীতির পর তিনি আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দুদুবার এমপি ও এরশাদ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আর বর্তমানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন। শেখ শহীদুল ইসলামের সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম এ রশিদ। বর্তমানে তিনি প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত।

১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মনিরুল হক চৌধুরীর সময় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউল আলম প্রধান। হত্যা মামলা মাথায় নিয়ে তিনি পদ ও দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বিএনপি জোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে দায়িত্বে ছিলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০১৩ সাল থেকে প্রথমে যোগাযোগমন্ত্রী এবং বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওবায়দুল কাদেরের সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা বাহালুল মজনুন চুন্নু বর্তমানে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নেই। কোথাও ঠাঁই না পেয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন।

১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ২০০৮ সালে ঢাকা-৭ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ সালে ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মীর শওকত আলীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী সেলিমের কাছে পরাজিত হন। একসময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেও বর্তমানে দল ও সরকারের কোথাও নেই ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ নিয়েই তিনি এখন সময় কাটান।

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সময়ে সাধারণ সম্পাদক আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন জীবদ্দশায় বেশ মূল্যায়িত হয়েছেন। ছিলেন মন্ত্রী-এমপি। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পটুয়াখালী-৩ থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে তিনবারই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য, দায়িত্ব পান পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর। ২০০৬-২০০৮ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে সমর্থন ও আওয়ামী লীগে দলীয় সংস্কার চাওয়ায় তিনি ২০০৮ সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের সকল কমিটি থেকে জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চান। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে।

১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা আবদুল মান্নানও জীবদ্দশায় মূল্যায়িত হয়েছিলেন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের কমিটি থেকে অবশ্য বাদ পড়েন। ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি ৬৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুল মান্নানের মেয়াদকালে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকও ভাগ্যবান নেতাদের একজন। ছাত্রলীগের পর তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে ঢাকা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-বঞ্চনার পুরস্কার হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য হন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। বাংলাদেশে ছাত্রলীগের তিনি একমাত্র সভাপতি, যিনি মুক্তিযুদ্ধের পর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পরে যে কয়জন প্রতিবাদে সরব হন তাদের মধ্যে সুলতান মনসুর একজন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে তিনি নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সারির সক্রিয় নেতা।

সুলতান মনসুর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জনশ্রুতি আছে, সংস্কারপন্থীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় দলের পদপদবী থেকে ছিটকে পড়েন।
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের সময়ে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আব্দুর রহমান ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ২০১৬ সালের সম্মেলনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতি ম-লীর সদস্য হন।

নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হাবিবুর রহমান হাবিব সভাপতির দায়িত্ব পালনকালেই দলবদল করলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় শাহে আলমকে। শাহে আলম বরিশাল-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এদিকে বিএনপিতে যোগ দিয়েও তেমন সুবিধা করতে পারেননি হাবিবুর রহমান হাবিব। বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। জিততে না পারলেও বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোট পান। বর্তমানে তিনি বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ওই সময় সাধারণ সম্পাদক থাকা অসীম কুমার উকিল বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক, ২০১৬ সালের সম্মেলনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং ২০১৯ সালের সম্মেলনে আবারও সেই পদে আসীন হন। তার স্ত্রী অপু উকিলও তার কল্যাণে সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সবচেয়ে আলোচিত সভাপতির নাম চট্টগ্রামের সন্তান মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী। ২০০৪ সালের পর থেকে দলের কোনো পর্যায়ে তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য ১৯৯৬ সালে সাতকানিয়া আসন থেকে দলের টিকিটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেও সে সুযোগটি বরং তার জন্য বুমেরাং হয়। কারণ তখন ‘মিনি পাকিস্তান’ খ্যাত সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে।

এ প্রসঙ্গে মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সবগুলো সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছিলেন জামায়াত ও বিএনপির শক্ত সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে। ১৯৯৬ সালেও এ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান ছিল খুবই দুর্বল। তখন এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ও জাফর আহমদ চৌধুরীর মধ্যে গ্রুপিং ছিল তুঙ্গে; যা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ১৯৯৬ সালে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি সরকারের সদ্য সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ নির্বাচনে আমি হেরে গেলেও জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে আমার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ছিল ৬ হাজারের কম।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অত্যন্ত উজ্জ্বল মেধাবী সভাপতি খ্যাত মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী ২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। তা সত্ত্বেও তিনি থেমে যাননি; মাঠেই আছেন। কেন্দ্রে সুযোগ না পাওয়ায় তৃণমূলে কাজ করছেন। ১৯৯৬ সালের পরে নিজে মনোনয়ন না পেলেও প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে টানা প্রায় ১৫ দিন গণসংযোগ করেছেন, পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মতিঝিল এলাকায় কাজ করেছেন। যেনতেনভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধতার পেছনে ছোটেননি তিনি। অথচ তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রহীম দিনাজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য। বর্তমানে তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সরকার দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম বর্তমান সংসদের সদস্য ও সরকারের পানিসম্পদ উপমন্ত্রী। ২০১২ সালের সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও ২০১৬ সালের সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও সর্বশেষ কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তিনি বাদ পড়েন। শামীমের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন ইসহাক আলী খান পান্না। সরকারের কোথাও তিনি নেই। একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদই এখন তার সান্ত্বনা।

১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বাহাদুর বেপারীও সরকারের কোথাও নেই। বাহাদুর বেপারীর সময় সাধারণ সম্পাদক থাকা অজয় কর খোকন দশম সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পরে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ালে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়।
২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির পদে ছিলেন লিয়াকত সিকদার। ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দলের কোথাও আর তার জায়গা হয়নি। অথচ তার সময়ের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু ২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত টানা তিনবার দলের মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের সংসদ সদস্য।

২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। একই সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। তারা দুজনও বস্তুত দলের কোথাও নেই। কোনো পদপদবীতে না থেকেও চট্টগ্রামের রাউজানের সন্তান রোটন রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। সোহাগের সভাপতি থাকাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। বদিউজ্জামান সোহাগও দৃশ্যত দলের কোনো পদপদবীতে নেই। বিভিন্নভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আসতে পারেননি। সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে। সেখানে তিনি চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়।

একইভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনেরও দলের কোথাও জায়গা হয়নি। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনটির নেতৃত্বে আসেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বড় অংকের চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাদের বাদ দিয়ে আল নাহিয়ান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যকে যথাক্রমে সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ দু’জন নেতার পদ হারানোর ঘটনা সংগঠনটির দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম ঘটে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেকের লোভ বা স্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আসছে। সেজন্য ছাত্রলীগের দুই নেতাকে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দল এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের প্রতি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। এভাবে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন, যা খুবই ইতিবাচক। একইভাবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অপরাধ কর্মকা-ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, তাদেরকে দলীয় ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখছেন না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা বাহালুল মজনুন চুন্নুকে আওয়ামী লীগের কোনও পদে না রাখার কারণ জানতে গিয়ে জানা গেল, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে

দেশে আসেন তখন আওয়ামী লীগপন্থী ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু। ওবায়দুল কাদেরের পর ছাত্রলীগের সভাপতি হন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। শেখ হাসিনা পরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আ খ ম জাহাঙ্গীরকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বাহালুল মজনুন চুন্নুকেই সাধারণ সম্পাদক রেখে ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে ছাত্রলীগের পাল্টা কমিটি দাঁড় করান। বাহাত্তরে ছাত্রলীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছিল জাসদ, আশির দশকের শুরুতে সে ছাত্রলীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে ভাঙল আওয়ামী লীগ। সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকসহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে জালাল-জাহাঙ্গীর (জা-জা) ও ফজলু-চুন্নু (ফ-চু) উভয় গ্রুপই নিজেদের প্রকৃত আওয়ামী লীগপন্থী ছাত্রলীগ বলে দাবি করত। তারা একে অন্যকে অস্বীকার করত।

১৯৯৮-২০০২ সালের ছাত্রলীগের সভাপতি বাহাদুর বেপারী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকলেও একেবারে সুযোগ-সুবিধা যে পাননি তা কিন্তু নয়। বর্তমান সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপথ্যে আছেন তিনি। বাহাদুর বেপারীর সময় সাধারণ সম্পাদক থাকা অজয় কর খোকনও আওয়ামী লীগের কোনও পদে নেই। কারণ জানতে গিয়ে জানা গেল, অজয় কর খোকন এক সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব আস্থাভাজন থাকলেও এক-এগারোর পর সংস্কারপন্থী ভূমিকার কারণে তার প্রতি দলীয় নেত্রীর সে আস্থা আগের মতো নেই।

এদিকে ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত সিকদার আওয়ামী লীগ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে না থাকলেও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরর মালিকদের একজন তিনি। এছাড়া গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজসহ ক্রীড়া পরিষদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন টেন্ডারের সঙ্গে লিয়াকত শিকদারের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এভাবে রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গাড়ি, প্লটের মালিক হওয়া এবং ঠিকাদারি ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিত্তশালী হয়ে উঠেছেন তিনি।

২০০৬ থেকে ২০১১ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সরকারের কোনও পদে নেই। তাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজির বিভিন্ন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। রোটন বর্তমান সরকারের সময়ে অনুমোদন পাওয়া চট্টগ্রামের পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মালিকদের একজন।

ছাত্রলীগের ২০১১-১৫ কমিটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোনও পদে নেই। এই দুজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, উত্তরসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে টেন্ডার ও তদবিরবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করে মাত্র এক বছরের ব্যবধানেই বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘যাদের পদ-পদবী পাওয়া দরকার তারা পেয়েছে, যাদের যখন সময় হবে তারা তখন পাবেন। যে যেমন কাজ করবে তার কাজের ফলাফল সে অবশ্যই পাবে। ছাত্রলীগ করলেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবে এরকম কোনও নিয়ম-নীতি আওয়ামী লীগে নেই। কেউ হয়তো ছাত্রজীবনে রাজনীতি ভালো করেছে, কিন্তু জাতীয় রাজনীতি আরেক প্রেক্ষাপট। জাতীয় রাজনীতিতে কে কতটুকু কী করেেছ সেটা ঠিক করবে তার কী অবস্থান। সে অনুপাতেই সে ফলাফল পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাংবাদিক, উকিল, ব্যবসায়ীদেরও মনোনয়ন দেয়, এমপি বানায়, মন্ত্রী বানায়। আবার আওয়ামী লীগ কিছুই করেনি এমন একজন দিনমজুরকেও বানায়। একেবারে গ্রাম অঞ্চলে থাকে শ্রমিক রাজনীতি করে তাকেও বানায়। সুতরাং সকলকে নিয়েই আমাদের দল। আমরা এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। তার মানে আমি সার্বিক সব দেখিনি। আওয়ামী লীগ সব দেখে। দেখার পর যে যোগ্য হবে সে যথাযথ স্থানে অবস্থান করবে। আমরা শুধুই ছাত্রদের অংশটি নিয়ে কাজ করেছিলাম। এখন বাংলাদেশের সকল অংশে কাজ করার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে নিজেকে একেবারে দক্ষ করে গড়ে তোলাই আমাদের কাজ। এটা যারা করতে পারছে তারা হয়ে গেছে। কাদের ভাই তো সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। প্রেসিডিয়ামেও আছেন।’

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী বলেন, ‘আমাদের জায়গা তো খুবই ছোট। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে পদে রাখলে অন্যদের রাখবে কোথায়? অন্যরা কী রাজনীতি করে না। আমি, তুমি, সে- এই রাজনীতি তো হবে না ভাই। ১৮ কোটি মানুষের ১৮ কোটি চিন্তা, ১৮ কোটি ধরন, আবার এটা ২০২১ সাল। এটা ৬৯-৭০ সাল না। এটা ৯০ সাল না। এটা ২০০১ সালও না। এটা ২০০৮ সাল না ২০১৩ সালও না। এটা ২০২১ সাল। সুতরাং আমাদের চিন্তা-ভাবনা ওইভাবে করতে হবে।’