এসআই ‘হ্যামিবৃত্তান্ত’, আসলে হচ্ছেটা কী?

মোহাম্মদ রফিক : বার বার ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করায় ৪১ বছর বয়সী এক নারী পুলিশকে নিয়ে বিপাকে পুলিশ বিভাগ। তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জমা হয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ব্যক্তি জীবনে করেছেন পাঁচ বিয়ে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ বিভাগ। একাধিকবার ‘তিরস্কার’ এবং ‘সতর্ক’ করেও তাকে শৃঙ্খলায় ফেরানো যাচ্ছে না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। আলোচ্য নারী পুলিশ সদস্য হলেন উপ পরিদর্শক (এসআই) হ্যামি প্রু ওরফে খাদিজা আক্তার হ্যামি। তিনি এখন রাঙামাটি সদর কোর্টে কর্মরত।

অবশেষে পুলিশ ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদাচ্ছের হোসেন এই নারী পুলিশ সম্পর্কে বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মঙ্গলবার একুশে পত্রিকাকে বলেছেন, খাদিজা আক্তার ওরফে হ্যামি প্রু মারমা ষড়যন্ত্রের শিকার।
জানা গেছে, গত ২০ মে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রেজাউল হক (ডিএন্ডপিসি-১)। চিঠিতে রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
চিঠিতে বলা হয়, অনুসন্ধানকালে এসআই হ্যামি প্রু ওরফে খাদিজা আক্তার হ্যামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের পূর্বক মামলা নং, তারিখ ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা গেল। তবে ৬০ কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে এখনো বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।

জানা যায়, হ্যামির বাড়ি বান্দরবান জেলার বালাঘাটা বাজারে। বাবার নাম উসানু মারমা। ১৯৯৯ সালের ২৩ আগস্ট কনস্টেবল হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। খাদিজা আক্তার হ্যামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ গত ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জের কাছে লিখিত অভিযোগ (৬০৩/১২২৮) দেন তার তৃতীয় স্বামী থুই হ্লা মারমা। অভিযোগ অনুসন্ধান করে ডিআইজি চট্টগ্রামের কাছে প্রতিবেদন দেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে কমল মারমা নামে এক পুলিশ কনস্টেলকে বিয়ে করেন খাদিজা আক্তার হ্যামি। ২০১০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মোক্তার হোসেন নামে এক যুবককে। এফিডেভিট করে তার নাম রাখেন সামিয়া হোসেন। ২০১২ সালে আবার ধর্ম পরিবর্তন করে ফিরে যান বৌদ্ধ ধর্মে। এফিডেভিটের মাধ্যমে ফিরে যা আগের নাম হ্যামি প্রু-তে। এবার বিয়ে করেন থুই হ্লা মারমাকে।

সর্বশেষ ২০২০ সালে আবারও বৌদ্ধ ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন হ্যামি। বিয়ে করেন রাঙামাটি সদরের এক রেস্টুরেন্ট মালিক আবদুল আল নোমান ওরফে বাদল চৌধুরীকে। এফিডেভিটের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নাম রাখেন খাদিজা আক্তার হ্যামি।

প্রতিবেদনের মতামত ব্যক্ত করেন পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান লিখেন, ‘সাংসারিক জীবন দীর্ঘায়িত না হওয়ার কারণে একাধিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হ্যামি প্রু মারমা ওরফে খাদিজা আক্তার হ্যামি। একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও একাধিক বিবাহের কারণে জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। যেহেতু তিনি একজন পুলিশের সদস্য সেহেতু পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য ‘সতর্ক’ করা যেতে পারে।’

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২২ মার্চ এএসআই হিসেবে পদন্নোতি পান হ্যামি। এস আই হিসেবে পদন্নোতি পান ২০১৯ সালে। পুলিশে যোগ দেওয়ার পর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও নোয়াখালী জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর (২০০৬- ২০১১) কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলা পুলিশে।

২০১৯ সালের ৮ জুলাই এসআই হিসেবে পদন্নোতি পেয়ে একইবছর ৯ জুলাই হ্যামি যোগ দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে। পাঁচমাস পর একই বছরের ১১ ডিসেম্বর হ্যামি প্রু’র বদলি হয় বর্তমান কর্মস্থল রাঙামাটি সদর কোর্টে। ১৯৯৮ সালে রাঙ্গুনিয়ার রাণীর হাট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। মুন মারমা (১৬) নামে এক পুত্র সন্তান আছে হ্যামি’র।

জানা যায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিয়মবর্হিভূত কাজ, গাফিলতি ও অবহেলা করায় ২০১২ ও ২০২০ সালে দুইবার শাস্তি হিসেবে ‘তিরস্কার’ এর শিকার হন হ্যামি। চাকরিতে যোগ দেওয়ার এক মাসের মাথায় ১৯৯৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ একাডেমি সারদার উপাধ্যক্ষ-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনায় তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।

এর আগেও ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর স্ত্রী হ্যামি প্রু’র মারমার বিরুদ্ধে ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জের কাছে অভিযোগ দেন তৃতীয় স্বামী থুই হলা প্রু। এ অভিযোগ তদন্ত করেন রাঙামাটি জেলা পুলিশ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ। তদন্ত শেষে গত ১৪ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ‘অভিযোগকারী থুই হলা প্রু অভিযুক্ত হ্যামি প্রু মারমার চতুর্থ স্বামী (তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় স্বামী)। স্ত্রীকে নিয়ে ডিএসবি কলোনিতে বসবাস করতেন তিনি। মিশন থেকে আসার পর আব্দুল আল নোমান ওরফে মো. বাদল চৌধুরীর সাথে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে। প্রতিবাদ করলে স্বামী থুই হ্লাকে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান হ্যামি। থুই হলাকে তালাক না দিয়ে পঞ্চম স্বামী (তথ্য অনুযায়ী চতুর্থ স্বামী) বাদল চৌধুরীর সাথে বসবাস করছেন।’

অভিযোগ অনুসন্ধানকালে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত হ্যামি প্রু এবং বাদল চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশ কর্মকর্তা তাপস রঞ্জন ঘোষ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি পর্যালোচনা করে তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, হ্যামি প্রু আগেই একাধিকবার বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। হ্যামি ও থুই পরস্পর আত্মীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিচয় ছিল। ২০১২ সালে কোর্টে তারা পরস্পরকে বিয়ে করেন। পাঁচ বছর তারা একসাথে বসবাস করেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। মিশন থেকে আসার পর ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর পরস্পরকে তালাক দেন।

জবানবন্দিতে হ্যামির চতুর্থ স্বামী থুই হ্লা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, স্ত্রী হ্যামি প্রু’র বিরুদ্ধে তিনি কোথাও কোনও অভিযোগ দেননি। তার নামে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে হ্যামি প্রু’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এস আই হ্যামি প্রুর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের তৎকালীন ডিআইজি মো. নওশের আলীর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ (১৩/১০৪৭৩) দেন ব্লাস্ট, খাগড়াছড়ি জেলার তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক মনজুর মোরশেদ। তবে অনুসন্ধানকালে অভিযোগকারী ব্লাস্টের ওই কর্মকর্তাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা জানালেও হ্যামি প্রুর বিরুদ্ধে আনা ব্লাস্ট কর্মকর্তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান তার অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ৩ নং পাতায় উল্লেখ করেন।

অভিযোগ অনুসন্ধানকালে সাক্ষীর জবানবন্দিতে পুলিশ কনস্টেবল (৪৭৬) কমল মারমা জানান, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ২০০১ সালে হ্যামি প্রু তাকে বিয়ে করেন। তার সাথে ৮ বছর সংসার করার পর ২০০৯ সালে তাকে ডিভোর্স দেন হ্যামি প্রু। তাদের সংসারে আছে মনু মারমা নামে এক ছেলে সন্তান। সাক্ষীর জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবির (এডভোকেট, নোটারি পাবলিক, কুমিল্লা) জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে নোটারি পাবলিক করে ‘হ্যামি হোসেন’ রাখেন হ্যামি প্রু। কিছুদিন পর এমরান আলী নামে এক আইনজীবীর মাধ্যমে ‘হ্যামি হোসেন’র বদলে ‘সামিয়া হোসেন’ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন হ্যামি প্রু। পুনরায় নোটারি পাবলিক করার কথা তাকে জানানো হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে এডভোকেট হুমায়ুন কবিরের প্যাড ব্যবহার করে ‘সামিয়া হোসেন’ নামে এফিডেভিট করে ফেলেন হ্যামি প্রু।

তৎকালীন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহানের কাছে লিখিত জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য হ্যামি প্রু। তিনি জানান, রাঙামাটি জেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করে নিজের নাম সামিয়া হোসেন থেকে পুনরায় ‘হ্যামি প্রু মারমা’য় পরিবর্তন করেন। হ্যামি প্রু আরও বলেন, তিনি ডিএমপিতে চাকরি করার সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। গ্রামে এসে পুনরায় লেখাপড়া শুরু করেন। ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। চাকরিতে যোগদানের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাকে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ পেয়ে ৩/৪ মাস পরে চাকরিতে ফের যোগদান করেন হ্যামি প্রু। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে তাকে ব্ল্যাক মার্ক প্রদান করা হয়। ‘হ্যামি হোসেন’ থেকে ‘সামিয়া হোসেন’ নামে কোর্ট এফিডেভিট জালিয়াতি সংক্রান্তে হ্যামি প্রু কিছুই জানেন না এবং তার স্বাক্ষর জাল করে এটি কে বা কারা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। হ্যামি হোসেন থেকে সামিয়া হোসেন নাম পরিবর্তনের সময় তার স্বামী ছিলেন মোক্তার হোসেন। এ অভিযোগ তদন্ত শেষে হ্যামি প্রুর বিরুদ্ধে ডিআইজি’র কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন (স্মারক নং-এস ও/২০১৩/১৭ তাং-১২/১১/২০১৩) জমা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান।

প্রতিবেদনের চার নম্বর পর্যালোচনায় বলা হয়, ‘হ্যামি প্রু চার বার নাম পরিবর্তন করেছেন। তিনবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বার বার ধর্ম পরিবর্তন করে এ সংক্রান্ত তার জন্য পুলিশ বিভাগে ব্যাপক পত্রালাপ করতে হয়েছে, যা বাংলাদেশ পুলিশের মতো সুশৃঙ্খলবাহিনীর একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবে মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি এখানেই সমাপ্তি হওয়া উচিত।’

প্রতিবেদনের মতামতের ২ নং কলামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার জাহান লিখেছেন, ‘হ্যামি প্রু মারমা বার বার ধর্ম পরিবর্তন করে এবং একাধিকবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পুলিশ বাহিনীর আইনকানুন ও ধর্মীয় বিধি বিধানকে ‘থোরাই কেয়ার’ করার মানসিকতা প্রদর্শন করেছেন। এজন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করা যেতে পারে।’ পরে অবশ্য তার কাছ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই খাদিজা আক্তার হ্যামি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার বক্তব্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছি। আমার বিষয় নিয়ে সবার এত কৌতূহল কেন? আমি কি কারো ক্ষতি বা কাউকে হয়রানি করেছি? যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে এসব করছে সে তো আল্লাহর কাছে অবশ্যই জবাব দেবে। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেন এত আগ্রহ, মানুষের জীবনে তো এসব আসে। এটা তো আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার দ্বারা তো কারো ক্ষতি হচ্ছে না। আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ক্রমাগত অপপ্রচার করছেন এক ব্যক্তি।

তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার আদালতে না হলেও আল্লাহর আদালতে তার বিচার হবেই। আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি কর্তৃপক্ষ আমাকে যে শাস্তি দেবেন তা আমি মেনে নেব। তবে আমার মনে হয় না আমি শাস্তি পাওয়ার মতো এমন কিছু করেছি। মানুষের জীবনে কখন দুর্ঘটনা হয়, যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। কে বা কারা আমার ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা আমি জানি। আমি এমন না যে, হোটেলে একাধিক পুরুষের সাথে ধরা খেয়েছি।’

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর মোদাচ্ছের হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যা বলেছেন তা পুলিশ বিভাগের তিন তিনটি তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনো মিল নেই। তিনি বলেন, মূলত খাদিজা আক্তার হ্যামি ভিকটিমাইজড হয়েছে। তার সাবেক স্বামী মোক্তার হোসেন। সে আমাদের পুলিশেরই একজন সদস্য ছিল। হ্যামি’র বিরুদ্ধে সে যেভাবে সোচ্চার হয়েছে। সে হ্যামিকে বাঁচতে দিবে না। চাকরি করতে দেবে না। এই মেয়েটা এখন ভালোভাবে, পরিমিত জীবনযাপন করছে। একজন রুচিশীল ভদ্র মহিলা যেভাবে চলা দরকার সেভাবে চলছে। সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। নামাজ-কালাম পড়ে। হিজাব পড়ে, বোরকা পড়ে। সহকর্মীদের সাথে কখনো খারাপ আচরণ করেছে এমন কোনো রেকর্ড নাই। সবকিছু মিলে সে একজন ভাল মহিলা আমি দেখছি।’

‘সে অতীতে কী ছিল সেটি ভিন্ন বিষয়। তার বয়স হয়ে গেছে। ১৫ বছর বয়সী তার একটি ছেলেও আছে। তার বিরুদ্ধে ঘুরেফিরে একই অভিযোগ। একই গান। কিন্তু হ্যামি’র আজকের এ অবস্থার জন্য যেসব পুরুষ দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলছে না। ওই মোক্তার হোসেন খাদিজা আক্তার হ্যামি’র বর্তমান স্বামীকে ফোন করে নানাভাবে কটূক্তি ছড়াচ্ছে। সে হ্যামির বর্তমান সংসারও ভাঙতে চাচ্ছে। তার ক্ষতি করার জন্য নামে-বেনামে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিচ্ছে। হ্যামির সাবেক স্বামীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। হ্যামির বিরুদ্ধে তাদের কারো অভিযোগ নাই। জিজ্ঞাসাবাদে শুধু পাওয়া যায় না মোক্তার হোসেনকে।’- যোগ করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার।

এসআই খাদিজা আকতার হ্যামির বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার বিকালে একুশে পত্রিকার বলেন, ‘ব্যাপারটি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’