সুইমিংপুল নির্মাণ ইস্যুতে পুলিশ-ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ; পুলিশসহ আহত ৩০

চট্টগ্রাম : মঙ্গলবার দুপুরে সুইমিংপুল নির্মাণে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াও শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে ‌সুইমিংপুল নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম চত্বরে জড়ো হয়ে সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতায় নামেন। আর এই বিরোধিতা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় এক ঘণ্টা ধরে চলা পুলিশ-ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ২ পুলিশসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের ৩ জনকে চমেক হাসপাতাল এবং ৬ জনকে মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগকর্মীরা পুলিশের দেয়া বেরিক্যাড ভেঙে স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সিমএপির উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সুইমিংপুল নির্মাণের প্রতিবাদে নগরীর আউটার স্টেডিয়াম সড়কের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশী বাধা না মেনে আউটার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে সুইমিংপুল নির্মাণপ্রকল্পে ভাংচুর শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। পরে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে দোকানপাট ও যানবাহন ভাংচুর শুরু করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় ১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সিসি টিভির ফুটেজ দেখেও জড়িতদের আটক করা হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, আমরা বিগত দুই বছর ধরে চট্টগ্রামে মাঠরক্ষার আন্দোলন করছি। আমরা কাজেম আলী স্কুলমাঠ যখন দখল হয়েছে তখনো আন্দোলন করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য লালদিঘী মাঠ যখন দখল হয়েছে তখনও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মাঠ উদ্ধার করেছি। আজকে বিনাটেন্ডারে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সিডিএ’র অনুমতি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যান নীতিমালা লংঘন করে এখানে যখন সুইমিংপুল কিংবা গণশৌচাগার হচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রপ্রতিনিধিত্ব করি হিসেবে আমাদের উপর দায়িত্ব পড়ে তরুণ ছাত্র বা যুবকদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাঠকে সংরক্ষণ করা। কাজেই আমাদের দাবি যৌক্তিক। অযৌক্তিকভাবে মাঠটি যারা খোড়াখুড়ি করছেন তাদের বাধা না দিয়ে পুলিশ আজকে ছাত্রলীগকে বাধা দিচ্ছে। আমরা আসলে বিষয়টি অবজারভেশন করছি তারা আসলে কী করতে চাইছে।

তিনি বলেন, আমাদের সুইমিংপুল দরকার, তবে মাঠ দখল করে নয়। সুইমিংপুলের জন্য জিমনেশিয়ামের পাশে অনেক জায়গা আছে, রেস্টুরেন্ট আছে অনেক কিছুই আছে। এখানে চাইলে সুইমিংপুল করা যায়। একটা মাঠ নষ্ট করলে কিন্তু আমি মাঠ পাবো না। সুইমিংপুল কিন্তু আমি বিল্ডিংয়ের ছাদেও করতে পারি।

রনি বলেন, অবিলম্বে সুইমিংপুল নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হবে, মাঠ ফিরিয়ে দিতে হবে। মাঠ নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। এখানে কেউ হয়তো বা সিজেকেএস’র দায়িত্বে থাকতে পারেন, কিন্তু তা সাময়িক। মাঠ কিন্তু স্থায়ী।

প্রসঙ্গত, গত ১০ এপ্রিল লালদিঘীর সমাবেশে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধের জন্য ১৫ দিনের সময় বেধেঁ দেন; অন্যথায় সন্তানরা গিয়ে স্থাপনা ভেঙে দেবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। এর আগে গত রোববার সুইমিংপুল নির্মাণ বন্ধ করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী নগর ছাত্রলীগের নেতারা।

এর মাঝেই মঙ্গলবার দুপুরে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলনক্ষে সুইমিংপুলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সুইমিংপুল নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় সুইমিংপুল বাস্তবায়ন কমিটি।

‘সুইমিং পুল নির্মাণে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুইমিংপুল নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ আলী আব্বাস জ্ঞানের অভাবে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরেই চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন।

এর মাত্র কয়েকঘণ্টা পরই সুইমিংপুল ইস্যুতে মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।