চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামের নির্ধারিত জায়গায় অবশ্যই সুইমিংপুল হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, সুইমিংপুল নির্মাণে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বুধবার বিকেল এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সিজেকেএস আন্তঃওয়ার্ড মেয়র গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আ জ ম নাছির এসব কথা বলেন।
সুইমিংপুল নির্মাণে কোনো বাধা নেই জানিয়ে মেয়র বলেন, এটি নির্মাণে যারা বাধা দিচ্ছেন তারা অজ্ঞাতপ্রসূত অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই বাধা দিচ্ছেন। এটা করতে গিয়ে তারা সরকারের উন্নয়নবিরোধী মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্সের ভূমিকায় রয়েছে। যারাই বাধা দিতে আসবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। গতকালের ঘটনা তারই প্রমাণ বলে জানান তিনি।
সুইমিং কমপ্লেক্সকে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় প্রকল্প উল্লেখ করে সাংবাদিকদের মেয়র আ জ ম নাছির জানান, আগামীতে সাঁতারের জাতীয় ইভেন্টগুলো এখানেই অনুষ্ঠিত হবে।
মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্বে এখানে একটি সুইমিংপুল নেই। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগ নেই। নির্মল বিনোদনের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে এই সুইমিংপুলটি নির্মিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্মিত হতে যাওয়া সুইমিংপুলটি ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষতা সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। সুইমিং কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম থেকে অনেক সাঁতারু উঠে আসবে।
আ জ ম নাছির বলেন, সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় অর্জন। সুইমিং কমপ্লেক্স করার জন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই চেষ্টা চলছে। অনেক আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিভাগীয় হেড কোয়াটার্সগুলোতে সুইমিং পুল স্থাপন করা হবে। বিভিন্ন বিভাগীয় হেডকোয়াটার্সে নির্মাণ হলেও রহস্যজনকভাবে এখানে হয়নি। পরবর্তী সময়ে জেলা হেড কোয়াটার্সগুলোতে সুইমিং পুল হলেও বিভাগীয় হেডকোয়াটার্স হওয়া সর্ত্ত্বেও চট্টগ্রামে সুইমিং পুল হয়নি।
তিনি বলেন, সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর সুইমিং কমপ্লেক্স নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় আমিও তাদের সাথে গিয়েছিলাম। এসময় বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম এবং উনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় তিন-চার বছর ধরে চেষ্টা করে একনেকে অনুমোদন দিয়েছে এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এটা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মেয়র গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন আ জ ম নাছির। বলেন, এধরনের ইভেন্টে এত সাংবাদিক তো আগে দেখিনি! আমি আশা করবো আজকে যেভাবে এসেছেন সেভাবে এসে মেয়র টুর্নামেন্টের খেলা কভার করবেন-সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে যোগ করেন তিনি।
