সিনহা হত্যা: সাক্ষীদের ‘অপ্রাসঙ্গিক’ জেরা করার অভিযোগ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় সোমবার আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

এ মামলার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে কামাল হোসেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

এরপর বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জন আসামির পক্ষের আইনজীবীরা কামাল হোসেনকে জেরা করেছেন।

আসামিদের উপস্থিতিতে সোমবার সকাল সোয়া দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম। তিনি বলেন, আদালত এ মামলার মোট ৮৩জন সাক্ষীর মধ্যে থেকে ১৫ জন সাক্ষীকে হাজির হতে সমন জারি করেন।কিন্তু আসামি পক্ষ অপ্রাসঙ্গিক জেরা করে সময়ক্ষেপণ করায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ৫ দিনে এ পর্যন্ত মাত্র ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা গেছে।

প্রদীপের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, চতুর্থ সাক্ষী কামাল হোসেন বলতে চেয়েছেন তিনি সংঘটিত ঘটনাটি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সাক্ষী নিজেকে (সিএনজি চালক) দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। মূল কথা হচ্ছে, স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদেরই প্ররোচনায় সাক্ষীর সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

এর আগে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফা শুনানির জন্য আদালতে বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামিকে ফের আদালতে হাজির করা হয়।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, রোববার থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এসময়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ১৩ সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। তবে টানা দুইদিন রোববার ও সোমবার দুইজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

এর আগে নির্ধারিত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তিন দিনে মামলার প্রধান সাক্ষী ও বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসী ও সিনহা হত্যার ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।