দেশে করোনা শনাক্তের হার পাঁচ শতাংশের নিচে


ঢাকা : ছয় মাসের বেশি সময় পর দেশে করোনাভাইরাসে দৈনিক শনাক্তের হার পাঁচের নিচে নেমে এলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ জনের, যাতে দৈনিক শনাক্তের হার ৪.৬৯ শতাংশ। এর আগে এর চেয়ে শনাক্তের হার কম ছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ১৪ হাজার ৯২টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪.৩০ শতাংশ। ৮ মার্চ ১৬ হাজার ৯৫৮টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর পরদিন ১৭ হাজার ৭৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার হয় ৫.১৪ শতাংশ, যা ছিল তার আগে ৫৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর থেকে শনাক্তের হার বাড়তে বাড়তে ৩০ শতাংশ ছাড়ায়। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ জনে।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে আরও ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকালও মৃত্যুর সংখ্যা ২৬ ছিল, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু। এর চেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত ২৭ মে। সেদিন ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল করোনায়। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ২৭৭ জনে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬০৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৩২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৪টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২৬ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন এবং নারী ১০ জন। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন, খুলনা ২ জন, সিলেট ২ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। বরিশাল ও রংপুর বিভাগে কেউ মারা যায়নি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে। আজ শনাক্তের হার আবারও পাঁচ শতাংশের নিচে নামল।