আনোয়ারায় চুরির হিড়িক, প্রশাসন নির্বিকার!

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাজার, পাড়া-মহল্লা ও সড়কের পাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির হিড়িক পড়েছে। রাত তো বটেই, অনেক সময় দিনেদুপুরে ঘটছে চুরির ঘটনা। এতে ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্কসহ চরম হতাশা বিরাজ করছে।

পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ, নৈশকালীন পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও একে একে এমন চুরির ঘটনা ঘটলেও, সবাই যেন নির্বিকার। এসব চুরি বন্ধে যেন কারো নেই কোনো দায়বদ্ধতা। ফলে সুরাহা হচ্ছে না একটি ঘটনারও। এতে চুরি বন্ধ না হয়ে ক্রমাগতই যেন বেড়েই চলেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চুরির ধারাবাহিকতায় বুধবার দিবাগত রাতে চাতরী চৌমুহনী বাজারের ‘কামাল গ্যাস সিলিন্ডার বিপনন’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫টি বড় গ্যাস সিলিন্ডার চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। দোকানের তালা ভেঙে এসব গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দিনে-দুপুরে কাফকো সেন্টার থেকে একটি অটোরিকশা চুরি হয়ে যায়। পরে দেয়াং রেস্তোরাঁর সিসি ক্যামেরাতে স্পষ্ট দেখা যায় চোরচক্রের একজন সদস্য অটোরিকশায় উঠে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।

একই রাতে বৈরাগ এলাকার আবদুর রহিম কনস্ট্রাকশনের অফিসকক্ষের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোর। পরে টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে লুটে নেয় ৭ হাজার টাকা।

এর আগে গত সোমবার রাতে গুয়াপঞ্চক আইয়ুব আলী চৌধুরী জামে মসজিদ থেকে পানির মোটর চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। একই রাতে ওই এলাকার মাহবুব আলীর গোয়াল ঘর থেকে একটি গাভীও চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া গত ৫ সেপ্টেম্বর চাতরী এলাকার আলমের গ্যারেজ থেকে একটি মোটর ও মেশিনারি পণ্য চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ঘটনা ঘটার পর পুলিশের পরামর্শে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার বা চোরদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা তারা দেখতে পাননি। এছাড়াও অনেক সময় চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ পর্যন্ত না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চাতরী চৌমুহনীর ব্যবসায়ী কামাল উদ্দীন বলেন, গত তিনমাস আগেও আমার দোকানের তালা ভেঙে ক্যাশের টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। তখন থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ বলে কে চুরি করেছে দেখেছেন? কাকে ধরবো আমরা। আর আজকে ৫টি বড় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে গেছে। এখনও তো কে চুরি করেছে দেখি নাই। তাই থানায়ও আর যাচ্ছি না।

ধারাবাহিক এসব চুরির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ারার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চুরি বন্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।

জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, চোরচক্রটিকে গ্রেপ্তার এবং চুরিরোধে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। শিগগিরই তারা পুলিশের জালে আটকা পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।