সাতকানিয়ায় পাউবো’র প্রকল্প-কাজে বাধা-গোলাগুলি, অন্তরালের গল্প কী?

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নের দক্ষিণ কেশুয়া গ্রামসংলগ্ন সাঙ্গু নদী থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে বালু উত্তোলনের অজুহাতে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গোলাগুলির ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে রীতিমতো। ঘটনার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি চাঁদা না পেয়ে একটি স্বার্থান্বেষী ভূমিদস্যু গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে কেন এই ঘটনা, কিংবা ঘটনার নেপথ্য গল্প কী- তা জানতে গিয়ে একুশে পত্রিকার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে তুলাতলী গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক মানুষ ড্রেজিং প্রকল্পে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় গ্রামবাসী ও শ্রমিকরা আত্মরক্ষার্থে তাদের প্রতিহত করতে পাল্টা ধাওয়া দিলে প্রতিপক্ষের সামনের লোকজন পিছনে ফিরে পালাতে থাকে। সেসময় তাদের ছোড়া গুলিতে (ছররা গুলি) তারাই আহত হয়। কৃষকের জমিতে অবৈধভাবে বালি ফেলার জেরে এই ঘটনার কারণ উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এখনো পর্যন্ত বালিই তোলা হয়নি সেখান থেকে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৭ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তারা হলেন- আব্দুল মালেক (৫০), মো. নুরুল হাসান (৫০), ফয়েজ আহমদ (৬২), আবু তাহের (৩৮), মো. কাউছার (২৬), রুহুল আমিন (৬০) ও মো. মানিক (২০)।

এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার মেশিন, ড্রেজার বহনকারী গাড়ি এবং পাইপসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, ড্রেজিং নিয়েই বেধেছে যত বিপত্তি। ড্রেজিংয়ের পাইপ বসানো নিয়ে এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে বাধা দিয়ে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে তারা বেশ কয়েকবার স্টাফের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। নদীতে ফেলে দেয় ওয়ার্ক বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। ড্রেজিংয়ের জন্য নদীর পাড় ঘেঁষে পাইপলাইন বসানো হলে কৃষকদের ফসলি জমি দখল ও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয় স্বার্থান্বেষী মহলটি।

অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে কৃষকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল ভূমিদস্যুরা। তারা গুজব ছড়ায় যে, কৃষকের ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে ড্রেজিংয়ের পাইপ নেওয়া হবে। এতে শত শত কৃষক তাদের জমি হারাবে- এমন মিথ্যা তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয় কৌশলে। যদিও ফসলি জমির ওপর দিয়ে নয়, নদীর পাড় ঘেঁষে যাবে এই পাইপলাইন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ড্রেজিং করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের মুখোমুখি হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর শরণাপন্ন হন। এই সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার পাশাপাশি ঠিকাদাররা উত্তোলন করা বালি রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দিতে অনুরোধ জানান সাংসদ নদভীকে। যার প্রেক্ষিতে তিনি (সাংসদ) ইউনিয়নের স্থানীয় সমাজসেবক লেয়াকত, সরফরাজ এবং চরতী ইউনিয়নের রুহুল্লা চৌধুরীকে দায়িত্ব দেন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার।

স্থানীয়রা জানান, সাংসদের অনুরোধে নদীর ড্রেজিং প্রকল্পে বালি উত্তোলনের পর সেগুলো রাখার জন্য নিজের কিছু জমি ব্যবহার করতে দেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রুহুল্লাহ চৌধুরী। আর সেই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি ভূমিদস্যুরা। ফলে এখানেও সৃষ্টি হয় জটিলতা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনা তৈরি হয় রুহুল্লাহ চৌধুরীর। যেসব ভূমিদস্যু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করছে তাদের সাথে মো. রুহুল্লাহ চৌধুরীর এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা না পাওয়া এবং রুহুল্লাহ’র সাথে ঈর্ষান্বিত বিরোধের জেরে গতকালের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

এ প্রসঙ্গে রুহুল্লাহ চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এমপি মহোদয় এই প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা করতে আমাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আমি তার প্রতি সম্মান রেখে তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। এমনকি তাদের উত্তোলন করা বালি রাখার জন্য আমার নিজের জায়গাও ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু ভূমিদস্যু গিয়াস উদ্দীন খান মিন্টু ও তার দল বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা চেয়েছিল। আমি ঠিকাদারদের সহযোগিতা করায় মিন্টুর দল চাঁদা আদায় করতে পারছিল না। এতে তাদের ক্ষোভ তৈরি হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ইস্যুতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছি। সত্যি বলতে এভাবে জনহিতকর কাজে সহযোগিতা করার মাধ্যমে আমি চাইছি স্থানীয়দের কাছে আমার জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি করতে। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে এলাকার সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষজন আমাকে ভালোবাসে। আর এই বিষয়টিকেই তারা নিজেদের জন্য হুমকি মনে করছেন। কারণ তারাও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী হতে চান।’

এদিকে, গোলাগুলির ঘটনা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরেই ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন তিনি। সরকারি উন্নয়ন কর্মকা-কে বাধাগ্রস্থ করে এধরনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে এ ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী একুশে পত্রিকাকে বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার নদী ড্রেজিংয়ের জন্য ৫৭৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকার থেকে এনেছি। এই প্রকল্পের ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার সময়ও ঠিকাদাররা কাজে বাধা দেওয়া ও তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ করে আমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। আমি এলাকার কয়েকজন সমাজসেবকেকে ঠিকাদারদের সাহায্যের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। এরপরও চাঁদাবাজরা এই কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে কিছু কিছু গণমাধ্যমে ভুল তথ্য দিতে দেখছি। সেখানে বলা হচ্ছে, সাঙ্গু নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না সরকারি নদী ড্রেজিং প্রকল্পে বালু উত্তোলন অবৈধ হয় কীভাবে? আর কৃষকদের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বালুর স্তূপ করে রাখার যে কথা বলা হয়েছে সেটাও সম্পূর্ণ মিথ্যা, অযৌক্তিক। আমি প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ওই এলাকার নদীর অংশে এখনো ড্রেজিংই শুরু হয়নি।

তিনি বলেন, ‘গতকালের ঘটনা নিয়ে আমি স্থানীয় এলাকাবাসী ও বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, প্রায় দুই মাইল দূরের তুলাতলী গ্রাম থেকে গিয়াস উদ্দীন খান মিন্টু ও সাইফুলের নেতৃত্বে প্রদীপ কুমার, রোকন উদ্দিন ও রাকিব চৌধুরীসহ প্রায় ২০০ জনের মত লোক এসে কাজে বাধা দেয় এবং শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা করে। তারপর গ্রামবাসীর সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করতে আমি প্রশাসনকে বলেছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের (ডিভিশন-১) নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা একুশে পত্রিকাকে বলেন, নদীর ওই অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিংয়ের কাজটি করছে এসএস ড্রেজার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আমি যতটুকু জানি তাদের এই কাজে স্থানীয় একটি মহল বাধা দিচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে ঠিকাদাররা সাহায্যও নিয়েছে। কিন্তু এর ফলে তাদের স্থানীয় রাজনীতির রোষানলে পড়তে হয়েছে। আমার প্রশ্ন সরকারি কাজে কেন এতো বাধা আসছে? সরকার তো কারো ক্ষতির জন্য কাজ করছে না। প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করছি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস ড্রেজার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কায়সার আলম সেলিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, যেহেতু আমি সরকারি কাজ করতে গিয়েছি। তাই সরকার সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে আমি কাজটি করছি। সাঙ্গু নদীর ড্রেজিং করতে গিয়ে আমরা বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এর মধ্যেই আমাদের প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমাদের কাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে কৌশলে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে নির্যাতন করছে তারা।
তিনি বলেন, কৃষিজমিতে বালি ফেলা হচ্ছে বলে এখানে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু সত্যটা হলো এখনো কোনও বালিই উত্তোলন করা হয়নি। সবেমাত্র ড্রেজার বসানোর কাজ চলছে। আর কৃষি জমি এড়িয়ে নদীর পাড় ঘেঁষে পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। এই কারণে আমাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমরা চাচ্ছি কৃষকদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে কৃষিজমি দখলের কোনো প্রশ্নই আসে না। বেশকিছু পয়েন্টে স্থানীয় সাংসদ মহোদয় আমাদেরকে জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেখানেই আমরা বালি রাখবো। আর অন্যান্য পয়েন্টের কোনও কৃষি জমিতে আমাদের বালি রাখতে হলেও সেগুলো উপযুক্ত মূল্য দিয়ে আমরা জমির মালিকের কাছ থেকে লিজ নিবো। যাতে কৃষক কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সাঙ্গু নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ইতোমধ্যে আমরা এমন অনেক কৃষককে জমির লিজ মূল্য প্রদান করেছি। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ড্রেজিংয়ের টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস ড্রেজার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ড্রেজিং এলাকায় (তৈলারদ্বীপ ব্রিজ থেকে দোহাজারী ব্রীজ পর্যন্ত ১নং প্যাকেজে ৩নং লটের চরতী উত্তর তুলাতলি সেনেরচর ঘাট) ড্রেজার, এক্সেভেটরসহ বিভিন্ন মালামাল সেনেরচর উত্তর পাড়ে নামানোর সময় ওয়ার্কবোর্র্ড ও ড্রেজার স্টাফের উপর অতর্কিত হামলা করে ওই একই চক্রটি। লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় ওয়ার্ক বোর্ডের আড়াই লাখ টাকার মালামাল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এসময় হামলাকারিরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিয়ে ড্রেজার চালালে সংশ্লিষ্টদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ড্রেজিং কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ওইদিনই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ইনচার্জ মো. এমরান হোসাইন সাতকানিয়া থানায় আবছার উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম সাহাব, জসিম উদ্দীন, জাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ মুছা, আকবর আলী, জাহেদুল ইসলাম, মহিব উল্লাহ, মো. জামাল, ছৈয়দ আহমদ, আবদুর রশিদ, শহিদুল্লাহ, জয়নাল আবেদীনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের গোলাগুলির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে গতকালের ঘটনায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-বিরোধের বিষয় জড়িত বলে আমরা জানতে পেরেছি। দুই পক্ষের স্থানীয় লোকজনের আত্মপক্ষ সমর্থন করে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে আসল ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জানতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে আমরা তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি তদন্ত করে সত্যটা বের করে আনতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘গত ৯ সেপ্টেম্বরও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে বাধা দেওয়া ও চাঁদা দাবির একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এরপর অভিযোগকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং অভিযুক্তদের মাঝে সমোঝোতাও হয়েছে। এরপরও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের স্থানে এই ঘটনা ঘটলো গতকাল।’

তবে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসীর মতে, সরকারি কাজে বাধাদান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি মারাত্মক অন্যায় ও অপরাধ। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা আমরা দেখতে চাই।

প্রসঙ্গত, লোহাগাড়া ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের (১নং চরতী, ৩নং নলুয়া, ৫ নং আমিলাইশ) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদী ভাঙনরোধ ও তীররক্ষায় ৫৭৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয় বিগত ৪ বছর আগে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পটির (নদী শাসন) আওতায় ইতোমধ্যে কিছু ব্লক-পাথর বসানো হয়েছে। নদী নিষ্কাশনের জন্য সাঙ্গুর ৯টি প্যাকেজে ২১ কি.মি. অংশ জুড়ে ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান আছে। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫টি প্যাকেজে চলছে এই ড্রেজিং। বাকি প্যাকেজে খুব শিগগির ড্রেজিং কাজ শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।