উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের চিত্র

  • যুক্ত হলো কর্ণফুলীর দুই পাড়, স্বপ্নের টানেল পুরো দৃশ্যমান
  • বাস্তবায়িত হচ্ছে বে-টার্মিনাল, গতিশীল হবে অর্থনীতি
  • বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা
  • এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বিরোধ মিটল, কাজে গতি

শরীফুল রুকন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল- দেশে প্রথমবারের মতো কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে টানেলটি। এতে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর টানেলের দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। ব্যস ১০ দশমিক ৮০ মিটার। ইতিমধ্যে টানেলের দুটি টিউবেরই মূল খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন টিউবে স্ল্যাব বসানো, কার্পেটিং, লাইটিং ও এপ্রাচ সড়কের কাজ বাকি। এসব কাজ শেষ হলে খুলে দেয়া যাবে টানেল। টানেল নির্মিত হলে দেশের জিডিপি শূন্য দশমিক ১৬৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া টানেলকে ঘিরে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। টানেলের যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোকে আর নগরে ঢুকতে হবে না। চট্টগ্রামের সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। এছাড়া কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মযজ্ঞ চলছে টানেলকে ঘিরে। টানেলের বহুমুখী সুবিধা নেওয়ার অপেক্ষায় এখন সবাই।

এর আগে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এই টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর এই টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালে সেতু কর্তৃপক্ষ, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসিএল) ও অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনার্স হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেল নির্মাণের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে। এরপর ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে (সরকারের সঙ্গে সরকারের) সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীন সরকারই সিসিসিসিএলকে এই টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করে। এ বিষয়ে ওই বছরের ৩০ জুন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সিসিসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি সই হয়।

বলা হচ্ছে, চীনের সাংহাই নগরীর আদলে চট্টগ্রামকে ‘ওয়ান সিটি টু টাউনে’র আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম শহর এবং নদীর অপর পাড়ের আনোয়ারা নতুন শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। টানেলের এক প্রান্তে আনোয়ারায় ভারী শিল্প এলাকা এবং অন্য প্রান্তের চট্টগ্রাম নগরী, বিমান ও সমুদ্রবন্দর। কর্ণফুলী নদী দিয়ে বিভক্ত দুই প্রান্তকে যুক্ত করতে সরকার স্বপ্নের এই টানেল বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের মধ্যে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পুরোদমে চালু হলে বছরে প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে চট্টগ্রাম তথা দেশ পাল্টে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

আশা করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হলে এলাকার আশে পাশে শিল্পোন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে দারিদ্র দূরীকরণসহ দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, শিল্পকারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ফলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বলা যেতে পারে, প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতি। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় স্থান।

বর্তমানে টানেল সংযোগ সড়ক থেকে শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গাছ কাটা ও মাটি ভরাট শুরু হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘গত বছর করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। টানেলের বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ উপকরণ সামগ্রী চীন থেকে আনা হয়। করোনার কারণে তাতে প্রভাব পড়ে। এরপরও ইতিমধ্যে দুটি টিউবের খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ আমরা পার করেছি। আশা করি আর জটিলতা নেই। এখন টিবিএম (টানেল বোরিং মেশিন) ধীরে ধীরে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এটি পরিষ্কার করতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই টানেলের কাজ শেষ করা আমাদের লক্ষ্য। আমরা চেষ্টা করছি এই লক্ষ্যের মধ্যেই কাজ শেষ করার। বর্তমানে প্রকল্পের ৭৩ ভাগ কাজ শেষ। প্রথম টিউবের যে অংশের উপর দিয়ে গাড়ি চলবে, সেখানে বর্তমানে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। দ্বিতীয় টিউবে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ জানুয়ারিতে শুরু করা হবে। এই প্রকল্পে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ হচ্ছে। তবে আগেও শেষ হয়ে যেতে পারে।’

বাস্তবায়িত হচ্ছে বে-টার্মিনাল, গতিশীল হবে অর্থনীতি
বন্দর জলসীমার শেষ প্রান্তে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনে সাগরপার থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অদূরে রাসমনিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা এলাকায় বে-টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে বন্দরের। প্রায় পাঁচ বছর আগে বে টার্মিনাল নির্মাণের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। বে-টার্মিনালে প্রথম পর্যায়ে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ হবে। এর মধ্যে একটি টার্মিনাল বন্দরের অর্থায়নে হবে। বাকি দুটি টার্মিনাল হবে পিপিপি মডেল বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে। এই তিনটি টার্মিনাল ২০২৪ সালের মধ্যে চালু করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বহুল প্রত্যাশার বে টার্মিনালে অর্থায়ন করবে বিশ্ব ব্যাংক (এডিবি)। সাগরে ব্রেক ওয়াটার নির্মাণ এবং চ্যানেল তৈরির প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যয়ের যোগান দেবে সংস্থাটি। সিঙ্গাপুরের আদলে সাগর ভরাট করে উদ্ধার করে আনা ভূমিতেই নির্মিত হবে বে টার্মিনালের অবকাঠামো। এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিক্লেইমের ঘটনা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ব্যক্তি মালিকানাধীন, খাস জায়গা এবং সাগর ভরাট করে তুলে আনা ভূমি মিলে সর্বমোট আড়াই হাজার একর ভূমিতে বিস্তৃত হবে বে টার্মিনালের কার্যক্রম। বিদ্যমান চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম চলে সাড়ে চারশ’ একর ভূমিতে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে পাঁচ গুনেরও বেশি বিস্তৃত এলাকায় হবে বে টার্মিনালের কার্যক্রম। শুধু ভূমি রিক্লেইমই নয়, এই টার্মিনালে একটি চ্যানেল তৈরি করতে হবে। বিদ্যমান চরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া খালের মতো একটি অংশকে ড্রেজিং করে চ্যানেল তৈরি করা হবে। এটিই বে টার্মিনালের মূল চ্যানেল। এই চ্যানেলেই ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর স্বপ্ন দেখছে চট্টগ্রাম বন্দর। বে-টার্মিনালের চ্যানেলটিকে ঠিকঠাকভাবে পরিচালনা করার জন্য বঙ্গোপসাগরে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করতে হবে ব্রেক ওয়াটার। ব্রেক ওয়াটার এবং চ্যানেল তৈরির কাজটি খুবই ব্যয়বহুল। বিশ্বব্যাংক এই দুইটি কাজের জন্য অর্থায়ন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। ব্রেক ওয়াটার এবং চ্যানেল তৈরির জন্য যত টাকারই প্রয়োজন হোক না কেন তার পুরোটাই বিশ্বব্যাংক যোগান দেবে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবস্থায় দেশের আগামী দিনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করতে হালিশহর সমুদ্র উপকূলে বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। উপকুলীয় ৯৩৯ একর ভূমিসহ সাগর ভরাট করে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে বে টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও প্রাথমিকভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর জায়গা হুকুমদখল করা হয়েছে। এই জায়গাটিতে সীমানা দেয়াল নির্মাণসহ ভরাট করার কার্যক্রম চলছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর জায়গার বাইরে সাগর ভরাট করে আরো অন্তত ৫শ’ একর ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সরকারি খাস জায়গার পাশাপাশি আরো প্রায় ১১শ’ একর ভূমি সাগর ভরাট করে পাওয়া যাবে। প্রকল্পটিতে মোট ১৬শ’ একর ভূমি সাগর ভরাটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

বে-টার্মিনালে মোট তিনটি টার্মিনাল থাকবে। প্রতিটি টার্মিনালে ৩০০ মিটার লম্বা ছয়টি জেটি থাকবে। অর্থাৎ একটি টার্মিনালে ১৮শ’ মিটার লম্বা জেটি এবং পশ্চাদসুবিধা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি টার্মিনালে একই সাথে ছয়টি জাহাজ বার্থিং দেয়া যাবে। তিনটি টার্মিনালের প্রথমটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা বাস্তবায়ন করবে। বাকি দুইটি টার্মিনাল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে। এই দুইটি টার্মিনাল নির্মাণে বিওটি (বিল্ড অপারেট এন্ড ট্রান্সফার) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হবে। তারা টার্মিনালটি নির্মাণ করে ইকুইপমেন্ট স্থাপনসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত নিজেরাই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট সবকিছুসহ হস্তান্তর করে নিজেরা চলে যাবে। ২০২৪ সালের মধ্যে বে টার্মিনালের দক্ষিণ প্রান্তের প্রথম টার্মিনালে জাহাজ ভিড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মাদ ওমর ফারুক বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে এই বে-টার্মিনাল অপারেশনে যেতে পারবে বলে আশা করছি। এটি হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বন্দর। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর থেকে এই বে-টার্মিনালের দূরত্ব খুব বেশি না। তাই খুব সহজেই ওই সব অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পোর্টে মালামাল আনা-নেয়া সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমরা বর্তমানে বছরে ৩০ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করি। বে-টার্মিনাল তৈরি হয়ে গেলে সেখানেই আমরা ৪৫ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারব। পরে সেটা আরও বাড়বে। এখান আমরা প্রতিবছর কার্গো এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে সরকারকে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে থাকি। বে-টার্মিনাল হলে আমরা আরও কয়েক গুণ বেশি রেভিনিউ দিতে পারব।’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেছেন বলেই বে টার্মিনাল বাস্তবায়িত হচ্ছে। রিং রোড বাস্তবায়নসহ বেশ কিছু উন্নয়নের ফলে পুরো এলাকার চিত্র পাল্টে গেছে। ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, বে-টার্মিনাল চালু হলে দেশের অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সাথে বাড়বে কর্মসংস্থান। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বে-টার্মিনাল দৃশ্যমান হয় সরকার সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বে টার্মিনাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা পেয়েছি। এখন দ্রুততম সময়ে কনসালট্যান্ট নিয়োগ করে আমরা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ হলেও উপকূলীয় এলাকার বে টার্মিনালের প্রকল্প এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকি নেই। যা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে উঠে এসেছে। বন্দরের বর্তমান জেটিতে জাহাজ ভিড়ানো জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করলেও বে টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা এবং চ্যানেলে এক সঙ্গে চারটি জাহাজ পাশাপাশি চলাচল করতে পারবে। তিনটি টার্মিনালের মধ্যে মাল্টিপারপাস টার্মিনালের বিনিয়োগ সাড়ে আট বছরে এবং কন্টেনার টার্মিনালের বিনিয়োগ সাড়ে ১১ বছরে উঠে আসবে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ চাহিদাকে মাথায় রেখে অন্যান্য সব সুবিধা ছাড়াও ট্রাক টার্মিনাল ও আলাদা ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা
দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সমুদ্র ঘেঁষা পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলে গড়ে উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’। ৩৩ হাজার একরের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল ১৫ লক্ষের অধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সেখানে থাকছে পর্যটন, আবাসনসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে শিল্পনগরের বেজা প্রশাসনিক ভবনের অদূরে ১০ একর জায়গায় ২৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে দেড় বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয় চীনের জুজু জিনইয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার। এই কারখানার অদূরে ইস্পাত পাত প্রক্রিয়াকরণের ‘নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ কারখানার কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। জাপানের নিপ্পন স্টিল ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারখানা গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ। যৌথ উদ্যোগ ছাড়াও ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টস লিমিটেডের আরেকটি কারখানার কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় ১০০ একর জমিতে ছয় কোটি ডলার ব্যয়ে এখানে এই দুটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোনের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন গণমাধ্যমকে বলেন, এ বছর অন্তত চার-পাঁচটি শিল্পকারখানা উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা উদ্যোক্তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। এরপরও এই শিল্পনগরে ১৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বেজার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা ঘিরে এই শিল্পনগরের আয়তন হবে ৩৩ হাজার ৮০৫ একর। এর ৪১ শতাংশ বা ১৪ হাজার একরে থাকবে শুধু শিল্পকারখানা। বাকি ৫৯ শতাংশ এলাকার মধ্যে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি শিল্প-প্রতিষ্ঠান এ বছরেই উৎপাদনে যাবে। শুধু তাই নয়, এই শিল্পনগরী বদলে দেবে পুরনো শিল্প-কারখানার গতানুগতিক বৈশিষ্ট্য।

দেশের অন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিনিয়োগ আসছে বেশি। এ শিল্পনগরে এরই মধ্যে দেশী-বিদেশী প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে বেজা। সরাসরি শতভাগ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), বেসরকারি উদ্যোগ এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে অব্যাহতভাবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর অন্যতম। এটি নির্মিত হচ্ছে সাগরপাড়ে ইছাখালী, চরশরৎ, চর মোশাররফ ও সাধুর চর এলাকায়। দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ কর্মসংস্থানের টার্গেট থাকলেও অর্থনৈতিক অঞ্চল ৩০ হাজার একরে সম্প্রসারিত হলে সেখানে কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। ফলে দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও এ জোনে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ পাবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ জানায়, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে এ পর্যন্ত ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার একরের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপেক্ষায় আছে ৩১টি প্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার একর জমিতে বিনিয়োগ আসছে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ হাজার একর জমির মধ্যে ইতিমধ্যে বেজার হাতে ২১ হাজার একর জমি রয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ হবে বলে বেজা জানিয়েছে। বিনিয়োগ এলেও উদ্যোক্তারা এখন লজিস্টিকস সুবিধার অপেক্ষায় আছেন। শিল্পকারখানার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা। বেজা গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করছে। নির্মাণাধীন শিল্পকারখানার আশপাশে রাস্তাঘাট নির্মাণ হয়েছে। তবে পানির সংস্থান এখনো হয়নি।

এদিকে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহী করতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ সব অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু এটির উন্নয়নকাজের গতি আরও বাড়াতে হবে। বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব সুবিধা পুরোপুরি না থাকলে কারখানা চালু রাখা যাবে না। এখন যেহেতু করোনার প্রকোপ কমেছে, তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব কাজ শেষ করা প্রয়োজন।’

যানজট কমাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
চট্টগ্রাম নগরে যান চলাচলে গতি আনতে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটস্থ টানেল রোড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর যেকোনো অংশ থেকে মানুষ যাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেন সেজন্যই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বলা হলেও মূলত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শুরু হচ্ছে বহদ্দারহাট থেকে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে নেমে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ফ্লাইওভার পর্যন্ত আসার পর এখান থেকে বিমানবন্দরে আসা যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল কাঠগড় থেকে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে। পতেঙ্গা থেকে আসা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিতে দেওয়ানহাট থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত এসে পাহাড়ের পাদদেশ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে রাস্তাটি নেয়ার সময় পাহাড় কাটা এবং টাইগারপাসের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। অপরদিকে ফৌজদারহাট বায়েজিদ লিংক রোডে পাহাড় কেটে বেকায়দায় থাকা সিডিএ নতুন করে আর কোনো পাহাড় না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন সংকট দেখা দেয়।

বিষয়টি নিয়ে সিডিএ নতুন করে সমীক্ষা পরিচালনা এবং ডিজাইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সিডিএ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিএটিএস-এমআইএসটিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে আবারো সমীক্ষা পরিচালনা করে। বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়ানহাট থেকে ওয়াসা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নতুন ডিজাইন তৈরির প্রস্তাব দেয়। এতে টাইগারপাসের পাহাড়ের কোনো ক্ষতি না করেই নতুন করে ডিজাইন তৈরি করা হয়।

নতুন ডিজাইনে বারিক বিল্ডিং থেকে আসা চার লেনের ফ্লাইওভার দেওয়ানহাটে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোডে নির্মিত ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে এসে টাইগারপাস পার হয়ে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের রাস্তার সামনে পৌঁছবে। চার লেনের এই ফ্লাইওভার পাহাড়ের দিকে না গিয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকবে। পিলারও রাস্তার মাঝখানে হবে। সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছার পর চার লেনের ফ্লাইওভারের দুই লেন ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির আগে রাস্তায় নেমে যাবে। বাকি দুই লেন রাস্তার মাঝখান দিয়ে গিয়ে ওয়াসা মোড়ে বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে বিমানবন্দর রোড ধরে আসা গাড়িগুলো সড়ক পথে অল্প পথ গিয়ে প্রয়োজনে আবারো ফ্লাইওভারে উঠবে কিংবা নিচ দিয়ে চলে যাবে। এই পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠা গাড়িগুলোর জন্য রাস্তা ডেডিকেটেড করে দেওয়া হবে।

অপরদিকে জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের পাশ থেকে একটি র‌্যাম্প বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যুক্ত করে দেওয়া হবে। নগরীর নিউ মার্কেট থেকে আসা রাস্তার সঙ্গে টাইগারপাস মোড়ে একটি র‌্যাম্প ফ্লাইওভারে যুক্ত করা হবে। যাতে মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় এবং নিউ মার্কেট হয়ে আসা গাড়িগুলো অনায়াসে ফ্লাইওভারে উঠে যেতে পারে। এছাড়া আমবাগান রাস্তার মাথায় একটি র‌্যাম্প নামানো হবে। এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার করণে মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের শুরুর দিকে জমি অধিগ্রহণ ও বৈদ্যুতিক তার নিয়ে জটিলতার কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সহজ হবে না।

সিডিএর কর্মকর্তারা জানান, ১৬ কিলোমিটারের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সি-বিচ থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ চলছে এখন। এই অংশে এখন পর্যন্ত ২৩০টি পিয়ার, ১৭১টি পিয়ারক্যাপ, ১৯২৮টি পাইল, ২০১টি পাইলক্যাপ, ৫৮৩টি গার্ডার ও ৫৭টি ডেকস্ল্যাবের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া কাস্টম থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার অংশে পাইলিংয়ের কাজ চলছে। বারিক বিল্ডিং থেকে কাস্টম পর্যন্ত ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশে ড্রেন ও রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে, যা শেষ হলে শুরু হবে পাইলিং। এই অংশেই এখন পর্যন্ত ৩৭টি পিয়ার, ৩৭৪টি পাইল ও ৪০টি পাইলক্যাপের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া দেওয়ানহাট থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত অংশের অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া পতেঙ্গা থেকে কাঠগড় পর্যন্ত এলাকায় গার্ডার ও স্ল্যাব বসে গেছে। বারিক বিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত এলাকার এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের যে আপত্তি ছিল, তারও সুরাহা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিডিএ। এছাড়া টাইগারপাসের পাহাড় রক্ষায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং সিডিএ’র বিরোধ মিটে যাচ্ছে। পাহাড় রক্ষা করে সিডিএ প্রকল্পটির নয়া যে ডিজাইন করেছে তাতে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী সম্মতি জানিয়েছেন বলে দাবি সিডিএর।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত হবে; কমবে যানজট ও যাতায়াতের সময়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি একই সঙ্গে সিইপিজেড, কেইপিজেড ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করবে। বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে, এতে বন্দরনগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।’

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের আহ্বায়ক ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সিডিএ বর্তমানে যেভাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে, তাতে অনেক জায়গায় মূল সড়কের সঙ্গে র‌্যাম্প দিয়ে সংযোগ করছে। ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি জনগণের কাজে লাগবে। মানুষের সঙ্গে এটার কনেকশন তৈরি হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে যানজট কমবে বলে মনে হচ্ছে। তবে নগরীকে পুরোপুরি যানজটমুক্ত করতে এখনই মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া উচিত।’