শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

‘মুরগি-টাকা নেব, দোকানেও তালা মেরে দেব’

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ১৩, ২০২১, ৭:৪০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বাকিতে মুরগি না দেওয়ায় এক মুরগী ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৬০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ফ্রুট সোহেলের অন্যতম সহযোগী হামিদ, ফার্ম হামিদ ও রোহানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর পশ্চিম ষোলোশহর ওয়ার্ডের সুন্নিয়া মাদরাসাস্থ রেললাইনের পশ্চিম পাশে থাকা একটি মুরগীর দোকানে এই মারধর ও টাকা-মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে আহত মুরগী ও ইট-বালি ব্যবসায়ী মো. মিজান পাঁচলাইশ থানা একটি অভিযোগ দায়ের করেন হামিদ, ফার্ম হামিদ ও রোহানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যবসায়ী মো. মিজান একজন মুরগি ও ইট-বালি বিক্রেতা। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত হামিদ মুরগির দোকানে এসে দুইটি মুরগির অর্ডার দেন। দোকানে থাকা কাজের ছেলে ইমন (১৮) ও ইরফাদ (১২) মুরগি দেওয়ার পর টাকা চাইলে হামিদ বাকিতে নেবেন বলে জানায়।

এ সময় ইমন ও ইরফাদ দোকানের মালিক নেই তাই বাকিতে দেওয়া যাবে না বললে হামিদ তাদের মারধর করে মুরগি নিয়ে চলে যায়। পরে হামিদ মুরগির দোকানের মালিক মো. মিজানকে ফোন দিয়ে বলেন, মুরগিও নিয়ে যাব, টাকাও নিয়ে যাব এবং দোকানেও তালা মেরে দেব।

এরপর কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডকে ঘটনাটি অবহিত করেন ব্যবসায়ী মো. মিজান। সিকিউরিটি গার্ডকে কেন জানিয়েছেন, এজন্য দোকানিকে লোহার রড ও বাটাম দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দোকানের ক্যাশে থাকা মুরগী ও ইট-বালি বিক্রি বাবদ ৬০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায় অভিযুক্ত হামিদ ও তার সহযোগীরা।

এর আগে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) অভিযুক্ত হামিদ ব্যবসায়ী মো. মিজানের কাছ থেকে তিনশত ইট নিয়ে যান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যার মূল্য দুই হাজার ৭৫০ টাকা। সেই টাকা আজকে কালকে দেবেন বলেও এ যাবত দেয়নি হামিদ।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হামিদ বলেন, ‘আমার পকেটে টাকা না থাকায় বাকিতে চেয়েছি, তা ঠিক। আমার সাথে খারাপ আচরণ করায় আমি মেরেছি। কিন্তু টাকা ও মোবাইল আমি নিইনি। তারাও আমাকে মেরেছে।’

ব্যবসায়ী মো. মিজান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আগে তিনশত ইটের টাকা দিবে দিবে বলে এখনো দেয়নি, তারওপর নতুন করে মুরগি বাকি নিতে এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসী হামিদ ও তার সঙ্গীরা। আমি তো দোকানে নেই, থাকলে একটা কথা ছিল। আমার কাজের ছেলেদের তো বাকি দেওয়া নিষেধ। মুরগি নিয়ে গেলেও টাকা তো দেয়নি তারওপর আমার দোকানের কাজের ছেলে ও পরে আমার ওপর হামলা করে ক্যাশে থাকা ৬০ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমি আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি চাই এবং ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ও মোবাইল ফেরত চাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা গতকাল ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। প্রাথমিক যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে সত্যতা পেলে এটা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে।’