মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘দোষারোপের রাজনীতি মন্দির ভাঙচুরে জড়িতদের পরিচয় আড়াল করবে’

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২১, ৬:০৫ অপরাহ্ণ


ঢাকা : ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সাম্প্রদায়িক হামলা ও মন্দির ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দোষারোপের রাজনীতি ওই সব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের প্রকৃত পরিচয়কেই আড়াল করবে। সরকারকে দল-নির্বিশেষেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।

করোনা প্রতিরোধে শহীদ রাসেল ব্রিগেডের কার্যক্রমের ১০০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিগেডের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মেলন অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এটা সবার জানা যে জামায়াত-হেফাজতিরা সাম্প্রতিক সময়েও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে যেকোনো শৈথিল্যে তারা সুযোগ নেবে।

সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করে চলার নীতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অবাধ প্রচার, ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং সর্বোপরি অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেশের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিস্তার ঘটিয়েছে, তাতে কেউই দায়মুক্ত নয়।

করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে শহীদ রাসেল ব্রিগেডের ভূমিকার প্রশংসা করে সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, যেভাবে দাবি করা হচ্ছে, করোনাকালে একমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই জনগণের পাশে ছিল, সেটা ঠিক নয়। ঢাকার রাসেল ব্রিগেডই নয়, রাজশাহীতে শহীদ জামিল ব্রিগেডসহ দেশের ৪০টি জেলায় ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেডগুলো বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ, রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সহায়তা, টিকা গ্রহণের নিবন্ধনে সহায়তাসহ গণসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

রাজশাহীতে স্বার্থান্বেষী মহল শহীদ জামিল ব্রিগেডের কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের সচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বলে জানান সাংসদ রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচার, ত্রাণসহায়তা ও কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মীরা। একই সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্নীতি, বেহালেরও উন্মোচন করেছেন তাঁরা। নেমেছেন পাট ও চিনিকল বন্ধের বিরুদ্ধে ওবং তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে।

করোনা মহামারির অবসান, বিশেষ করে টিকা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহীদ রাসেল ব্রিগেডসহ বিভিন্ন জেলায়, অঞ্চলে কর্মরত সব ব্রিগেড তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইতিহাসবিদ ও প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহ্ কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায় এবং বক্তব্য দেন মহানগর নেতা ও রাসেল ব্রিগেডের সমন্বয়ক কমরেড সাদাকাত হোসেন খান, ঢাকার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেছেন, পূজামণ্ডপগুলোতে হামলাকারীদের এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে কেউ আর এ ধরনের ঘটনা করার সাহস না পায়। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে এটা হতে পারে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের পূজামণ্ডপে হামলার প্রতিবাদ এবং এসব ঘটনার বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে নেতারা এসব কথা বলেন। মানববন্ধন আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটি।

ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসেন বলেন, দেশে বর্তমান পরিস্থিতি জটিল করতে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সক্রিয়। দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর প্রাক্কালে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে আঘাত দেওয়া হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিউলি আক্তার বলেন, পূজামণ্ডপের ঘটনাটি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের কাজ। যাঁরা করেছেন, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিউলি শিকদার, মুর্শিদা আক্তার নাহার, মোহাম্মদ তৌফিক, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।