সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা—অভিযোগ রাঙামাটি যুবলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১, ৫:০৪ অপরাহ্ণ


রাঙামাটি : রাঙামাটি জেলার এক যুবলীগ নেতার ফাঁদে পড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে এক নারী তার গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি চেয়ে ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বুধবার (২০৷ অক্টোবর) তিনি রাঙামাটির কোতোয়ালী থানায় ওই লিখিত অভিযোগ করেব।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ওরফে কাজল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ‘ধর্ষণ’ করেছেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জেলা যুবলীগের শীর্ষ এই নেতা বিয়ের মিথ্যে নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি সম্পর্ক গড়ে তাকে দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য ১৫ লাখ টাকা ঋণ নেয়। এখন ওই নেতা সবকিছু অস্বীকার করে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

ওই নারীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. কবির হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘যুবলীগ নেতা কাজল প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ অতঃপর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’

ওই নেতার সাথে ভুক্তভোগী নারীর বিমানযোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমণের ছবি ও প্লেনের টিকেট এবং ব্যাংক চেকের ফটোকপিসহ বেশকিছু ডকুমেন্ট এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

তবে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অস্বীকার করছেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কাজল। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য এক নারীকে দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র করছে। তার সাথে আমার ছবি এডিট করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে ইন্ধন দিচ্ছে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।’

এদিকে লিখিত অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, কাজল আমাকে বিয়ের কথা বলে ২০১৯ সালের গত ৭ আগস্ট দুপুরে জেলা সদরের কাঠালতলী এলাকার তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু লোকের উপস্থিতিতে এক আলেমকে ডেকে এনে তার সঙ্গে আমার বিয়ে পড়ানো হয়। তবে সেসময় কাবিনের কথা জিজ্ঞেস করতেই কাজল পরে এক সময় আমাকে কাজি অফিসে নিয়ে কাবিন করে নিবে বলে জানায়। তার কথা বিশ্বাস করে সেই থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের সংসার শুরু হয়। এরপর আমরা বিভিন্ন সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভ্রমণ এবং হোটেলে রাত্রীযাপন করি।

অভিযোগ, দীর্ঘ চার বছরে তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বেশ কয়েকবার অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন তিনি। তবে অন্তঃসত্তা হওয়ার পর প্রতিবারই জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটায় কাজল। এবারও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ দেয় কাজল। কিন্তু এতে সম্মতি না দেয়ায় তাকে অস্বীকার করেন। এমনকি গোপনে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে কাবিনবিহীন বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে ঘরেও তুলে নেন কাজল।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমাকে বিয়ের পর বিভিন্ন সময় তার কাজের জন্য টাকা লাগবে বলে জানায় এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে হলেও দিতে হবে বলে জানায় কাজল। আমাদের সংসার ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি তাকে ১৫ লাখ টাকা বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়ে দিই। এর বিপরীতে কাজল ১৫ লাখ টাকা উল্লেখ করে আমাকে একটি চেকও দেন। এ টাকাও তিনি এখন অস্বীকার করে চলেছেন।’

জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি সদর সার্কেলের এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘হ্যাঁ এমন একটি অভিযোগ নিয়ে এক নারী এসেছিলেন। তার ঘটনার বর্ণনা শুনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি।’