সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলা: ছাত্র অধিকার পরিষদের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, অক্টোবর ২২, ২০২১, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংগঠন ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের তিন নেতা।

এরা হলেন- পরিষদের মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এন এম নাছির উদ্দীন, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান ও বায়েজিদ থানা কমিটির আহ্বায়ক ডা. রাসেল; তারা শিবিরের সাবেক নেতাকর্মী ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে উক্ত তিনজনসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব ও তদারকি করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক।

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতা। পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় তারা জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপকমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় করা মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’ গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

কুমিল্লার ঘটনার জেরে গত শুক্রবার দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লা জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে হামলা, গেটের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও মণ্ডপে ঢিল ছোড়া হয়। পরদিন শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ৫০০ জনকে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের বেশির ভাগই নগরের বৃহৎ পাইকারি কাপড়ের বাজার টেরিবাজার ও আন্দরকিল্লা মসজিদ মার্কেটের দোকানের মালিক ও কর্মচারী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা ইমরান মাজেদ ওরফে রাহুল ও মো. হানিফের নেতৃত্বে শুক্রবার জুমার নামাজের পর আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের সামনে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। তাঁরা দুজন টেরিবাজারের কাপড় ব্যবসায়ী।

এজাহারে ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ হাতে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁরা মসজিদের সামনে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে দেন। বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে পুলিশের কয়েক সদস্য আহত হন। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালি থানার ওসি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পুরোনো কার্যালয়ের গেটে ভেঙে সেখানে ঢুকে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এতে ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ছাড়া রহমতগঞ্জ রাস্তার মুখে পুলিশের তল্লাশিচৌকির ব্যারিকেড ভেঙে ২০ হাজার টাকা ক্ষতি করেন। সেখান থেকে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লাগানো দেবী দুর্গার ছবিসংবলিত ব্যানারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ছাড়া ব্যানারে ছিঁড়ে ফেলেন ও গেট ভাঙচুর করেন। এতে মোট দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।