তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন আছে, প্রয়োগ নেই

শরীফুল রুকন : ‘মানা করার পরও আমাদেরকে না জানিয়েই তামাক কোম্পানির লোকজন দোকানে স্টিকার, পোস্টার, খালি প্যাকেটের নকশা, ফ্লাইয়ারসহ নানা ধরনের বিজ্ঞাপন লাগায়। এমনকি দোকান বন্ধ থাকলেও তারা দোকানের বাইরে বা সাটারে বিজ্ঞাপন লাগিয়ে দিয়ে যায়। অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন বোধ করে না। কোম্পানির লোকেরা মুদি দোকান ও শো-কেস এবং বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট সিগারেটের প্যাকেটের মতো রং বা ডিজাইন করে দেয়। এছাড়াও স্টিকার, পোস্টার, সিগারেটের খালি প্যাকেটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে যায়।’ কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকার দোকানি মো. সাকিব।

বহদ্দারহাট ও মুরাদপুর মোড়ে সিগারেট বিক্রির প্রায় সব অস্থায়ী দোকানে দেখা যায়, বিভিন্ন তামাক কোম্পানির ‘শো-কেস’; যেখানে সিগারেট রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে সিগারেটের মূল্য তালিকাও পোস্টারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে; যেখানে নির্দিষ্ট সিগারেটের ব্র্যান্ড নাম উল্লেখ রয়েছে। একাধিক দোকানিদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, ‘সিগারেট কোম্পানির লোকজন এসব দিয়েছে।’ সিগারেটের প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে জানান। এই চিত্র শুধু বহদ্দারহাট কিংবা মুরাদপুর নয়, চট্টগ্রাম নগরের সর্বত্র চোখে পড়ছে।

চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও থেমে নেই তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা। দোহাজারী সদরের একজন মুদি দোকানি বলেন, ‘দোকানে তামাকের বিজ্ঞাপন দিতে না দিলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে তামাক কোম্পানিগুলো। তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ-এ কথা আমরা জানতাম না। এখন জানতে পারলাম।’ দোহাজারীর আরেকজন সিগারেট বিক্রেতা বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো আমাদের মাধ্যমে মানুষের হাতে তামাক পণ্য পৌঁছে দেয়, আমাদের দোকান বিজ্ঞাপন লাগানোর জন্য ব্যবহার করে। অনেক সময় খালি প্যাকেট জমা দিলে নামমাত্র উপহারও দেয়। সিগারেট কোম্পানী শুধু খালি প্যাকেট খোঁজে।’

অথচ বাংলাদেশের আইনে আছে, তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এ ছাড়া তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, তামাক কোম্পানিগুলো পরোক্ষ বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যা আইনের লঙ্ঘন। যদিও সিগারেট ব্র্যান্ডের পরিবেশনকারী সংস্থাগুলো বলছে, এসব বিজ্ঞাপন নয়, তারা আইন মেনেই ব্যবসা করে আসছে।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এ বলা আছে, প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, বাংলাদেশে প্রকাশিত কোনো বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডে বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলেও যেকোনো উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা নিষিদ্ধ।

আইনের ব্যাখ্যায় বলা আছে, তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তামাকজাত দ্রব্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা। এর শাস্তি হিসেবে আইনে বলা আছে, আইনভঙ্গকারী অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

আইন প্রণয়নের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তামাক কোম্পানিগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কৌশলে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে যাচ্ছে। যা সাধারণ জনগণ বিশেষ করে তরুণ এবং অধূমপায়ীদেরকে ধূমপানে আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে জনসমাগমস্থলগুলোতে (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, বাস ষ্টেশন, বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, হাট বাজার প্রভৃতি) কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞাপন মানুষকে আকৃষ্ট করার অন্যতম মাধ্যম। তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নতুনদের তামাক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পুরাতন ব্যবহারকারীদের তামাক ব্যবহার চালিয়ে যেতে উৎসাহ প্রদান করা। তামাকের মত ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপন জনগণকে তামাক ব্যবহারে উৎসাহী করে তুলছে বিধায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এ তামাকজাত দ্রব্যের সকল ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো কোনভাবেই আইন না মানায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে একদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে অপরদিকে তামাকের আগ্রাসী বিজ্ঞাপন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিন চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ, হালিশহর, ডবলমুরিং, কোতোয়ালী, চকবাজার ও চান্দগাঁও থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে স্টিকার, পোস্টার, খালি প্যাকেটের নকশা, ফ্লাইয়ারসহ নানা ধরনের বিজ্ঞাপন লাগিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে পণ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তামাক কোম্পানির লোকজন মুদি দোকান ও শো-কেস এবং বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট সিগারেটের প্যাকেটের মতো রং বা ডিজাইন করে দেয়।

কোনো না কোনো উপায়ে সিগারেটের এই প্রচার মানুষকে ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট করে। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে বলছে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে ৪ জন দোকানপাটে সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখে এবং প্রতি ১০ জনে ৩ জন যেকোনো জায়গায় সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয়।

এভাবে সিগারেটের প্রসার বন্ধ করতে আইনে সব ধরনের প্রচারকৌশল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ আগস্ট সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অপরাধে চট্টগ্রামে সুপারশপ মীনাবাজারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর থেকে সিগারেটের বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘জনসমাগম হয়, এমন সব স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ। বিক্রয়স্থলেও তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন করার নিয়ম নেই। আমরা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযান চালাব। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তামাকবিরোধী সংগঠন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি’র নির্বাহী পরিচালক একেএম মাকসুদ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘণ করে সর্বাধিক বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালাচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি। পাশাপাশি অন্যান্য তামাক কোম্পানিগুলোও প্রায় বিনা বাধায় তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তামাকজাত দ্রব্যের মোট ৩১টি বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা কৌশল চিহ্নিত করেছি। যার মধ্যে অন্যতম বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক কোম্পানির ব্রান্ডিং রং ও লোগো সম্বলিত শো-কেস, খালি প্যাকেট সাজানো, স্টিকার, পোস্টার, ফ্লাইয়ার, রেস্টুরেন্টে ‘স্মোকিং জোন’ তৈরি, নাটক, সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য প্রচার, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে প্রচারণা, ভ্রাম্যমাণ ভ্যান এবং বিক্রয় কর্মী ও ক্রেতাদেরকে বিভিন্ন উপহার প্রদান। ধোঁয়াবিহীন তামাক কোম্পানিগুলোও প্রচারণার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। দীর্ঘ সময় ধরে নানা কৌশলে মানুষকে জর্দা, গুল, খৈনি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে এ কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে ধর্ম ও সংস্কৃতির অপব্যবহার, নামে-মোড়কে সাধু/উত্তম পুরুষের নাম ও ছবি ব্যবহার, অবৈধভাবে বিএসটিআই এর লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এদিকে অনুসন্ধানে নেমে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দেখা গেছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল, আবুল খায়ের টোব্যাকো, ইউনাইটেড টোব্যাকো কর্তৃক তামাকজাত পণ্যের। সংশ্লিষ্টরা জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে ‘ডার্বি’ ব্র্যান্ডের সিগারেটের ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে ব্রিটিশ অমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি। তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানে আকৃষ্ট ককরতে বিএটিবি বার্তা, ফ্লাইয়ার, ব্র্যান্ডের রং ও টি-শার্ট ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ব্র্যান্ড প্রমোশনই তাদের প্রধান উদ্দেশ্যে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘আইনে বলা আছে, বিজ্ঞাপন করা যাবে না। এজন্য আমরা সিগারেটের বিজ্ঞাপন দিই না। তবে ব্যবসায়িক যোগাযোগের অংশ হিসেবে আমরা কেবলমাত্র বিক্রেতাদের কাছে কিছু জিনিস দিই। তারা হয়তো এসব ঝুলিয়ে বা সাঁটিয়ে দিয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন ভাঙিনি।’

তবে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, ‘আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে, তামাকের ব্যবসায়িক প্রবর্ধনের জন্য যেকোনো উপায়ে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। কিন্তু তামাক কোম্পানীগুলো প্রতিনিয়ত আইন লঙ্ঘন করে পরোক্ষ বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে। তামাক নিয়ন্ত্রণে তৈরি করা আইনটি শক্তিশালী, কিন্তু এর প্রয়োগে ঘাটতি আছে।’

গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫.৩%। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে ধূমপায়ী ১৮ শতাংশ (১ কোটি ৯২ লক্ষ) এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী ২০.৬ শতাংশ (২ কোটি ২০ লক্ষ)। শহরের জনগোষ্ঠির (২৯.৯%) তুলনায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠির (৩৭.১%) মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার অনেক বেশি। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ২০১৮ সালে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে ১ লক্ষ ২৬ হাজার জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতিবছর শুধু তামাকজনিত রোগ ও অকাল মৃত্যুর কারণে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একই সময়ে তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয় ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের চেয়ে তামাক ব্যবহারে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘তামাকজনিত ব্যাধি ও অকালমৃত্যুর কারণে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ১৫ বছর বা তার কম বয়সী ৪ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি শিশু তামাকজনিত রোগে ভুগছে। এদের ৬১ হাজারেরও বেশি (১৪ শতাংশ) শিশু বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বছরে মারা যাচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭১৮ জন। আর এই পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বছরে ব্যয় বাড়ে ৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। বাসায় পরিবারের বড়রা ধূমপান করছে আর তাদের কাছাকাছি বসে শিশুরা খেলা, লেখাপড়া কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম করছে। এদেশে বেশ স্বাভাবিক দৃশ্য এটি। অথচ ধূমপায়ী ব্যক্তিই শুধু নন, অধূমপায়ীরাও ধূমপায়ীদের মতোই ক্ষতির শিকার হন।

এদিকে সরকার ধূমপায়ীর সংখ্যা কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগের অভাবে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমছে না, বরং বাড়ছে। আর পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) ২০০৫ এর সংশোধিত আইন ২০১৩ অনুযায়ী জনপরিসর ও গণপরিবহনে ধূমপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৪(১) ধারা ৭ এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তি পাবলিক প্লেসে এবং পাবলিক পরিবহণে ধূমপান করতে পারবেন না।

এই আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি পাবলিক প্লেস বা পাবলিক পরিবহণে ধূমপান করেন তাহলে তিনি অনধিক ৩০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং ওই ব্যক্তি যদি দ্বিতীয়বার বা বারবার একই ধরণের অপরাধ করেন তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবেন। প্রথমে জরিমানা ৫০ টাকা থাকলেও বর্তমান চলমান আইন অনুযায়ী, জনাকীর্ণ স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপানের জরিমানা ৩০০ টাকা। আর এসব স্থান ধূমপানমুক্ত রাখতে না পারলে মালিক বা ব্যবস্থাপকদের জরিমানা ৫০০ টাকা রাখার বিধান আছে।

দেশের নারী ও শিশুদের বাঁচাতে এবং ধীরে ধীরে ধূমপায়ীদের পাশাপাশি অধূমপায়ীদের হার কমিয়ে আনতে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবীর চৌধুরী। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিদ্যমান যে আইনটি আছে সেটির সঠিক প্রয়োগ নিয়মিতভাবে করলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অর্থদণ্ডের কথা চিন্তা করে প্রকাশ্য ধূমপান অনেকাংশে কমে আসবে। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই আইনটির সফল প্রয়োগ করা জরুরি।’

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘একধরনের কৌশল করে তামাক কোম্পানিগুলো পরোক্ষ বিজ্ঞাপন দেয়। এটা আইনের লঙ্ঘন। আইনের প্রয়োগের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

এদিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, জিইসি ও নিউ মার্কেট মোড়ে শিশুদের দ্বারা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করতে দেখা গেছে। নগরের অলংকার, একেখান মোড়, অক্সিজেন মোড় ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় অহরহ এ দৃশ্য চোখে পড়ছে। অথচ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ধারা [৬ক। (১) অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি অনধিক আঠারো বৎসর বয়সের কোন ব্যক্তির নিকট তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করিবেন না, অথবা উক্ত ব্যক্তিকে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিপণন বা বিতরণ কাজে নিয়োজিত করিবেন না বা করাইবেন না মর্মে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তামাকজাত পণ্যের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা হিসেবেও শিশুদের নিয়োগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অল্প বয়সেই অনেক শিশু তামাকজাত পণ্য বিক্রির পাশাপাশি সেবনেও উৎসাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর বিধান লঙ্ঘন করে তামাকজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে অধিকাংশ তামাক কোম্পানি। বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির সিগারেট, বিড়ি, জর্দ্দা, গুলের মোড়কে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মূদ্রণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের চিত্র সবচেয়ে বেশি। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে তামাকজাত পণ্যের মোড়কে ৫০ শতাংশ অংশ জুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করার কথা থাকলেও অধিকাংশ কোম্পানি তা অনুসরণ করছে না। অধিকাংশ মোড়কে অস্পষ্ট ছবি মূদ্রণ করা হচ্ছে। তিন মাস অন্তর ছবি পরিবর্তনের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুসারে, তামাকজাত পণ্যের প্যাকেট, মোড়ক, কৌটা ও কার্টনে প্রধান পার্শ্বদেশের উভয় পাশে ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মূদ্রণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬ সালের মার্চ মামে প্যাকেটে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মূদ্রণ শুরু হলেও কার্টনে তা মূদ্রণ করা হচ্ছে না। যদিও বেশিরভাগ তামাক কোম্পানি তামাকের ব্র্যান্ড প্রমোশনে কার্টন ব্যবহার করে আসছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘কোভিড-১৯ ও শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োজনীয়তা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সভা যৌথভাবে আয়োজন করে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি-টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। এতে শতভাগ ধূমপান বন্ধ নিশ্চিতে ছয়টি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এগুলো হলো- ‘উন্মুক্ত স্থানে (পাবলিক প্লেস) ধূমপান নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি বন্ধ করা, ই-সিগারেট বাজারজাত বন্ধ করা, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আকার বাড়ানো, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) নামে সিগারেট কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বিক্রির স্থানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন বন্ধ করা।’ সভায় অংশ নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার বলেন, ‘আইন সংশোধনের যে ছয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে, এগুলো সমন্বয় করেই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল নকল এবং পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে সিগারেটে রাজস্ব ফাঁকি চলছেই। দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা ছোট ও মাঝারিমানের বিভিন্ন কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে এ অপতৎপরতায় লিপ্ত। অভিযান চালিয়ে পণ্য জব্দ, জরিমানা, এমনকি কারখানা সিলগালা করেও রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে একদিকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে কম দামে নিম্নমানের সিগারেট বাজারজাত হওয়ায় ধূমপান কমিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না।

বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ধারা ২৫ (ক) অনুযায়ী সিগারেট স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল জালিয়াতি করা মুদ্রা নকল করার সমতুল্য, যা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের শাস্তি সর্বনিম্ন ১৪ বছর থেকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড। আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও অপরাধীরা এর তোয়াক্কা করছেন না। রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া রোধে সরকারের পদক্ষেপ থাকলেও কার্যকরভাবে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। জাল ও পুনরায় ব্যবহার করা ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের কারণে বছরে আনুমানিক দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে অবৈধ ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট বাজারজাত করছে বেশ কয়েকটি কোম্পানি। এসব এলাকার বাজারে ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অথচ চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে এনবিআর দশ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ৩৯ টাকা নির্ধারণ করেছে। যথাযথ রাজস্ব পরিশোধ করলে এর চেয়ে কম দামে সিগারেট বিক্রির সুযোগ নেই। যেসব কোম্পানি সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তারাই ২০ থেকে ২৫ টাকায় সিগারেট বাজারজাত করতে পারছে। ফলে সরকার এ খাত থেকে আশানুরূপ রাজস্ব আহরণ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সরকার বাজেটের মাধ্যমে সিগারেটের কর নির্ধারণের পাশাপাশি খুচরা মূল্যও নির্ধারণ করে থাকে। প্রতি বছরই সিগারেটের কর বাড়ানো হয়। এর উদ্দেশ্য বেশি রাজস্ব আয় এবং জনস্বার্থ সুরক্ষার্থে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানো। কিন্তু নকল বা পুনর্ব্যবহূত ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের সিগারেটের কারণে এ উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

সিগারেটে একই ব্যান্ডরোল বারবার ব্যবহারের ঘটনা শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযানেও ধরা পড়ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অবৈধ ব্যান্ডরোল ব্যবহারের দায়ে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকোর বিরুদ্ধে মামলা করে। চট্টগ্রামের চান্দগাঁও শিল্প এলাকায় এ কোম্পানির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভ্যাট গোয়েন্দারা দেখতে পান, তাদের ‘সাহারা’ ও ‘এক্সপ্রেস’ নামের ব্র্যান্ডের ৬০ কার্টন সিগারেটে ব্যবহূত ব্যান্ডরোল যুক্ত করা হয়েছে। এতে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয় কোম্পানিটি। এছাড়া অন্যান্য রাজস্ব ফাঁকিও রয়েছে।

চট্টগ্রামে ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে সিগারেট নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াত চক্র গড়ে উঠেছে। নকল, চোরাই পথে আমদানি ও একই ট্যাক্স স্ট্যাম্প বারবার ব্যবহার করে বাজারজাত করাসহ বিভিন্ন উপায়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়ে থাকে। এক শ্রেণির লোক অনুমোদনহীন কারখানা স্থাপন করে বাজারে প্রচলিত ও বিদেশি সিগারেট হুবহু নকল করে বাজারে ছাড়ছে। এ অনিয়ম বন্ধ করা গেলে রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের ধূমপান কমানোর লক্ষ্যও সহজে অর্জন হবে।’

বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘নিম্নস্তরের সিগারেটে সরকার ৩৯ টাকা খুচরা মূল্যের ওপর ৭৩ শতাংশ অর্থাৎ ২৮ টাকা ৪৭ পয়সা কর পাচ্ছে। ফলে কর না দিলে ওই ২৮ টাকা ৪৭ পয়সা সংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ীর পকেটেই যাচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নকল ও পুনর্ব্যবহূত ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট বাজারে ছাড়ছে।’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পৃথিবীর কম ধূমপায়ী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঘানা, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া এবং পানামা। এসব দেশে ধূমপান ও তামাকপণ্য ব্যবহারের প্রবণতা হ্রাস পাওয়ার কারণগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ধূমপান ও তামাকপণ্য রোধে এইসব দেশের সরকারের কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন। উচ্চহারে কর আরোপ যার অন্যতম কারণ। এসব দেশে যারা ধূমপান করে তাদের অত্যন্ত উচ্চদাম দিয়ে সিগারেট কিংবা তামাকপণ্য সংগ্রহ করতে হয়। ধূমপানে আসক্তি তৈরির আগেই উচ্চদামের কারণে অধিকাংশ মানুষই ধূমপানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মানুষের অনাগ্রহের কারণে তামাকজাত কোম্পানিগুলো গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে নিজেদের ব্যবসা। ফ্রান্সও ধূমপান রোধে দ্রুত অগ্রগতি লাভ করছে।’

‘আবার জনসংখ্যা হারে সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ী দেশগুলো হলো কিরিবাতি, মন্টেনিগ্রো, গ্রিস, পূর্ব তৈমুর ও রাশিয়া। ধূমপান রোধে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সাথে এসব দেশের পার্থক্য খুঁজলে দেখা যায়, এসব দেশে সিগারেট অত্যন্ত সহজলভ্য এবং খুব কম দামেও পাওয়া যায়। যার ফলস্বরূপ জনসংখ্যার একটা বিরাট অংশ দ্রুত এসব মরণব্যাধি ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ধূমপায়ী দেশগুলোর আশপাশে আছে আমাদের দেশ। বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের। এর কারণে দেশে সিগারেট ও তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা ও কম দাম। ৩৫-৪০ টাকা দিয়ে দেখা যায় একপ্যাকেট সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। বেনসন সিগারেট উন্নত বিশ্বে সংগ্রহ করতে যেখানে খরচ করতে হয় ১৪-১৫ ডলার সেখানে আমাদের দেশে সেটি পাওয়া যায় ২৩৫-২৪০ টাকায়। যা ডলারে ২.৫০ হয়।’

ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন একুশে পত্রিকাকে আরও বলেন, ‘এছাড়া একাধিক মূল্যস্তর থাকার কারণে উচ্চস্তরের সিগারেট নিম্নস্তরের সিগারেট দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এর কারণে যেমন জনসংখ্যার বিশাল অংশ স্বাস্থ্য ঝুঁঁকিতে রয়েছে তেমনি সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে। তাই সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে দুটিতে (নিম্ন এবং উচ্চ) নিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি সকল প্রকার ই-সিগারেট এবং হিটেড তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি এবং বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করতে হবে। আমরা চাই, তামাকপণ্যের আধিপত্য রোধে তামাকজাত পণ্যের প্রতি উচ্চহারে করারোপ করা হোক এবং যত্রতত্র তামাকপণ্য বন্ধে বিক্রয়কর্মীদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, বিধিমালা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তামাক বিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তারপরেও তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্খিত সাফল্য আসছে না এর অন্যতম প্রধান কারণ, তামাক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে সরকারে শেয়ার, সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা যাওয়া-আসা করেন, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেন। সরকারকে দ্রুত এ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। টাস্কফোর্স কমিটিগুলো সক্রিয় করার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোকে জরিমানার পাশাপাশি জেল প্রদান করতে হবে।’