ডিসি ‘কামরুল-উপাখ্যান’ এর কিঞ্চিৎ


আজাদ তালুকদার : ভেজালবিরোধী অভিযান সমাপ্তির পর কী একটা ভুল বা অনিয়ম করেছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী (বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি)। এ কারণে সাময়িক বরখাস্ত হন তিনি। বেতনভাতা বন্ধ। নিয়ম অনুযায়ী দুবছর কোনো ইনক্রিমেন্ট হবে না। এক পর্যায়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের অফিসে এসে কাঁদো কাঁদো অবস্থা– ‘স্যার আমি বাইপাস সার্জারির রোগী। আজ মাসের ২৭ তারিখ। এখনো বেতন পাইনি। প্রতিদিন ৩শ’ টাকার ওষুধ লাগে। থাকা-খাওয়ার খরচ, তার উপর বাচ্চাদের পড়ালেখা- খুব কষ্টে আছি স্যার।’

পাশে থাকা একজন এডিসি (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) যুক্ত হলেন এ পর্যায়ে। ডিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বললেন, স্যার তিনি তো সাময়িক বরখাস্ত, পানিশমেন্টে আছেন। বেতনভাতা পাবেন কী করে?

লোকটার মর্মস্পর্শী আবেদন ও অপরাধের ধরন- দুটোই ব্যবচ্ছেদ করে ডিসি এডিসিকে বললেন, ‘একটা কাজ করো। সাময়িক বরখাস্তের আদেশ উঠিয়ে দিয়ে বেতনটা নিয়মিত করে দাও। তবে দুবছর ইনক্রিমেন্ট না পাওয়ার বিষয়টি বহাল থাকবে। ‘স্যার ইনক্রিমেন্ট বন্ধ থাকলে আমার চলতে কষ্ট হয়ে যাবে। আমাকে মাফ করে দিন স্যার।’- অপরাধ করা লোকটার চাওয়ার অতিরঞ্জনে গা ভাসালেন না আলোচিত ডিসি কামরুল হাসান। দুবছর ইনক্রিমেন্ট বন্ধ’র জায়গাটিতে অনড় থেকে ডিসি বললেন, আমি সরলমনা, পজিটিভ বটে। কিন্তু একেবারে দায়মুক্তি কী করে সম্ভব? আমাকে একটা জেলার প্রশাসন চালাতে হয়। লোকটির ভক্তি এবার আরও উগড়ে পড়লো– আপনি যাই বলেন, মেনে নেব স্যার। আপনার মতো মানুষ হয় না।’

কোনো এক প্রতিষ্ঠানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী তিনজনকে স্মার্ট ফোন গিফট করবেন ডিসি। এজন্য সংশ্লিষ্ট ফোন-সরবরাহকারী এলেন ডিসির কাছে। স্মার্টফোনের একটি স্যাম্পল হাতে নিয়ে ডিসি নাড়াচড়া করছেন, দেখছিলেন খুটিয়ে খুটিয়ে। বললেন, এই ফোন দিলে বেইজ্জতি হবো না তো! ‘না স্যার ভালো ফোন, নিশ্চয়তা আছে।’

সংশ্লিষ্টদের এই জবাবে ডিসি জানতে চান, ইউটিউব চলবে তো, গান শোনা যাবে তো, ফেসবুক চলবে তো! উপস্থিত সবাই হাসলেন- স্যার স্মার্ট ফোনে তো এসব চলেই।

কদিন আগে কোনো এক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে উৎসাহ জোগাতে ডিসি বলেই ফেললেন, ভালো যারা করবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। প্রসঙ্গটি উঠতেই একজন এডিসি (লেডি অফিসার) বললেন, স্যার, এখনই ঘোষণাটি দেওয়া বোধহয় ঠিক হয়নি। সাথে যুক্তি দিলেন এডিসি।

-‘আহা, আমি তো বলেই ফেলেছি। তাহলে কি অসুবিধা হবে?’ – ‘না স্যার, অসুবিধা হবে না। বলছিলাম আরেকটু পরে ঘোষণাটা দিলে ভালো হতো।’ সহকর্মীদের সাথে চমৎকার বোঝাপড়া, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার এই সংস্কৃতি পুরো জেলা প্রশাসনে কর্মস্পৃহা, কর্মোদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। একটা বিষয় এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, সহকর্মীদের প্রতি দারুণ সহমর্মী, বন্ধুবৎসল কুমিল্লার ডিসি। তাদের মতামতের মূল্য দেন, সুবিধা-অসুবিধা খেয়াল রাখেন সার্বক্ষণিক। ফলে চমৎকার, স্বতঃস্ফূর্ত এক কাজের পরিবেশ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনজুড়ে।

ইত্যবসরে সরকারি কাজে ডিসির বিদেশ যাওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে এলো। ডিসি কামরুল হাসান বললেন, তার কোন এক সিনিয়রের জন্য একটা কলম কিনতে চেয়েছিলেন তখন। কিন্তু কলমের বাজারে গিয়ে চক্ষু তার চড়কগাছ! বাংলাদেশি টাকায় ১০ হাজারের নিচে কোনো কলমই নেই। অগত্যা একটি কলম কিনে নিলেন প্রিয় মানুষের জন্য। নিজে একটা গিফটও পেলেন। সখের কলমটা বাসায় আছে কিনা জানতে চট করে ফোন লাগালেন স্ত্রীকে- ‘ম্যাডাম, ভালো আছেন? আচ্ছা, লন্ডন থেকে একটা কলম এনেছিলাম সেটা কি ঠিকঠাক মতো আছে?’ স্ত্রী জানালেন, কোনো একটা কাজে তিনি বাসার বাইরে আছেন। এপ্রান্ত থেকে ডিসি বললেন, আপনার যেখানে ইচ্ছা যান, শুধু আমারে ভুলে যাইয়েন না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন না- ‘তোমারে দেবো না ভুলিতে।’

প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার স্টাইল সেদিন অফিসে যারা নতুন করে দেখলেন তারা দেখলেন স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কেমিস্ট্রি কী। ডিসির এক সহকর্মী ফিসফাস করে একজনকে বলছিলেন, ‘স্যার এমনই। ঘরে-বাইরে, কর্মে, অফিসে দারুণ এক ক্যামিস্ট্রি নিয়ে চলেন।’

আগের দিন সরকারের অতিরিক্ত সচিব বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানের সাথে আমাদের এক আন্তরিক আড্ডাতেই উঠে এলো ডিসি সাহেবের এমন-সব কেমিস্ট্রির কথা। মহাপরিচলক বললেন, কুমিল্লার ডিসি অত্যন্ত পড়ুয়া, সংস্কৃতিমনা, বিশাল হৃদয়ের মানুষ। গান করেন, সদালাপী, বন্ধুবৎসল–এমন প্রশংসা করলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) এরও।

মূলত সেই প্রশংসায় প্রাণিত হয়েই কুমিল্লার জেলা প্রশাসককে আরও কাছ থেকে জানবো, বুঝবো-সেই কারণেই মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ফোনে অ্যাপয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়বার যাওয়া। আগের দিন আমাদের পরিবারের সদস্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে মুসলিমার কল্যাণে ডিসির সঙ্গে একদফা চা-চক্রে মিলিত হয়েছিলাম। কিন্তু এমন মানুষের সঙ্গে চা-চক্রে গলা ভিজবে, কিন্তু মন ভিজবে না তা কি হয়?

তাই পরদিন (২৭ অক্টোবর) মন ভেজাতে গিয়ে আটকে গেলাম, বন্দি হলাম ডিসি কামরুল হাসানের অন্যরকম এক ভালোবাসায়। সম্মেলন-কক্ষে সকাল থেকে ম্যারাথন মিটিং। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। এসবের মাঝেই সারলেন নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। আধঘণ্টা ধরে ডিসির চেম্বারে আমরা অপেক্ষমাণ, তা তিনি জানেন। দেরি হচ্ছে বলে কিছুক্ষণ পর পর আমার মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠাতে ভুলছেন না। মিটিং শেষ করে অভ্যন্তরীণ দরজা দিয়েই চেম্বারে ঢুকলেন। সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী, কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে মুসলিমা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারহানা পৃথা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া প্রমুখ।

নাশতা-পর্ব আগেই শেষ। এবার সোফায় ডিসি সাহেবের মুখোমুখি আমরা (আমার বেয়াই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার আনোয়ার ইসলামসহ)। খানিকটা বিলম্বের জন্য ফের দুঃখ প্রকাশ করলেন ডিসি।

আচ্ছা, সচরাচর আমরা ডিসি মানে বুঝি- গুরুগম্ভীর, মিলিটারি মিলিটারি ভাব। ডিসি সাহেব কমান্ড কিংবা অর্ডার করবেন, অমনিই সব হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল থেকে আপনাকে দেখে বুঝতেই পারছি না ডিসির সংজ্ঞা আসলে কোনটা? একগাল হেসে দিলেন ডিসি; বললেন, ভাই আমি অতসব বুঝি না। সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। সরকার ও রাষ্ট্রের স্বার্থসংরক্ষণ করে জনকল্যাণে সর্বোচ্চ, সর্বস্ব দিয়ে কাজ করাই আমার কাছে মুখ্য। আমার সহকর্মীদের নিয়ে এই কাজ করার চেষ্টা করি স্বতঃস্ফূতভাবে, সর্বোচ্চ খোলামনে। তাছাড়া আমি একটু ‘বোকাসোকা’ মানুষ। অত প্যাঁচপোচ বুঝি না। যোগ করেন ডিসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

আমি বলি, ‘আপনার মতো ‘বোকা’ সমাজে খুব করে দরকার। যে বোকামি জনগণের সাথে দূরত্ব ঘোচায়, যে বোকামি মানুষে মানুষে প্রেম বিলায়, যে বোকামি কর্মস্থলে সহকর্মীদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করে, কাজে মনোযোগ বাড়ায়, যে বোকামি ঘরে ঘরে শান্তির ফানুস উড়ায়, যে বোকামি অন্ধকারে আলো উৎসারিত করে; সে ‘বোকামি’ জগত-সংসারে বেঁচে থাকুক।’

এসময় ২০ তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী বললেন, সরলপ্রাণ হলেও কুমিল্লার মতো জায়গায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দারুণভাবে সামলাচ্ছেন তিনি। এসময় ডিসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের লেখাপড়া ও তাঁর পাঠদানের প্রশংসা করলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। হ্যাঁ, তিনি পড়তে এবং পড়াতে ভালোবাসেন তা আমরা আগেই জানতাম ফেসবুকের কল্যাণে। বিভিন্ন সময়ে তিনি কোনো স্কুল-কলেজ পরিদর্শনে গেলে ক্লাশেই ডুবে যান। এতটাই নিমগ্ন থাকেন পাঠদানে, সময় কখন গড়িয়ে যায় খেয়ালই থাকে না।

গত ২ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের ঐতিহ্যবাহী নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে টানা তিন ঘণ্টা ক্লাশ নেন ডিসি কামরুল হাসান। এ সময়ে তিনি মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও রক্তকণিকার অধ্যায় নিয়ে পড়ান। শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের পাঠদান মনোযোগসহকারে শোনে ও লেখে। জেলা প্রশাসকের পাঠদানের ছবি সেসময় ফেসবুকে তুমুল ভাইরাল হয়।

জীবনে পরিকল্পনা করে কিছু করেননি, হতে চাননি জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। বলেন, ‘চাকরিতে আসার পর প্রজাতন্ত্রের একজন প্রকৃত কর্মচারী হতে চেয়েছি, যতদিন চাকরিতে আছি তা-ই চাইবো। এ লক্ষ্য নিয়েই সবসময় কাজ করি। সুন্দর জীবনবোধ নিয়ে চলার চেষ্টা করি, এই শিক্ষা ছোট থেকে পেয়েছি। আমার আর কোনো পরিকল্পনা নেই। যতদিন বেঁচে থাকি দেশের জন্য, সমাজের জন্য কাজ করবো। এটাই শুধু চাওয়া।

এর আগে হবিগঞ্জের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কামরুল হাসান। করোনাকালে হবিগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। বলা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর দিন প্রথম দিন থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

ডিসি ‘কামরুল-উপন্যাস’ এর ছোট গল্প জানা এবং জানানোর এ পর্যায়ে শেষ করবো তাঁর জন্ম ও পারিবারিক বৃত্তান্ত দিয়ে। হ্যাঁ, আলোচিত ডিসি কামরুল হাসানের জন্ম ময়মনসিংহ জেলায়। বাবার নাম কাশেম আলী ও মায়ের নাম সাজেদা খাতুন। রত্মাগর্ভা উপাধি পেয়েছেন মা। বাবা প্রথম জীবনে শিক্ষক থাকলেও পরবর্তীতে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ছিলেন।

কামরুল হাসান ২১তম বিসিএস কর্মকর্তা। তাঁর ভাই মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ২২তম বিসিএস কর্মকর্তা। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দুই ভাই একসাথে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোটভাই মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের ডিসি। কামরুল হাসানরা পাঁচ ভাই ও চার বোন। তাদের মধ্যে ৬ জনই পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চার ভাই-বোনই সরকারি কর্মকর্তা তথা বিসিএস ক্যাডার। আরেক ভাই রাজধানীর নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রার। তিনি বিসিএস ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বোন তানিয়া সুলতানা বর্তমানে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি)। তিনি বিসিএস (পুলিশ) ৩১ তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সুখী গৃহকোণ। বাবার জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে ভাইবোন সবারই মধ্যমণি, আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক তিনি। ভালোবাসায়, বন্ধুতায়, অভিভাবকত্বে পরিবারের সকলকে আগলে রাখেন তিনি। কামরুল হাসানের প্রথম সন্তান আবরার মাহমুদ (১৮) নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় সন্তান আদনান মাহমুদের বয়স ৩। আর স্ত্রী গৃহিণী।

কথাচ্চলে জানা গেলো, ডিসি কামরুল হাসানের একটিই সখ; মাছ ধরা। বালকবেলা থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হওয়ার দীক্ষায়-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার যে সাধনা, ধৈর্য্য- সেই ধৈর্যের কারণেই হয়তো মাছ ধরার ধৈর্যপরীক্ষায় থিতু হয়েছেন আজকের দিনে এসে। জানলাম, একটি মাছকে বশ মানাতে, বড়শিতে আটকাতে কোনো কোনো সময় ছুটির পুরো দিনটাই কাটিয়ে দেন তিনি।

গেলো ক’দিন আগে ৮ কেজি ওজনের একটা কাতালমাছ ধরার কাহিনি ও ছবি দেখাতে গিয়ে জেনে গেলেন এই নেশা, মাছ ধরার অত্যুজ্জ্বল ধৈর্য্য আমারও আছে। এই একটা জায়গায় দারুণ অন্ত্যমিল দেখে এবার লম্বা করে হাত বাড়িয়ে দিলেন ডিসি কামরুল হাসান। বললেন, পরবর্তী মাছ ধরা তাহলে আপনাকে নিয়েই! আমন্ত্রণটা ধরিয়ে দিয়ে দায়িত্বটা তুলে দিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে মুসলিমার কাঁদে। বললেন, তোমার মামাকে (আমি) নিয়ে আসার দায়িত্ব কিন্তু তোমার।

আমিও যেন একটা পাগল! পুরো পৃথিবী হাতে পাওয়ার যতটা না আনন্দ, আমার সামনে কারো মাছ ধরার আহ্বান– তার চেয়েও বেশি আনন্দের। আর সেই আনন্দের আতিশয্যে আলাপের শেষপ্রান্তে বললাম, ঠিক আছে, আপনার আমন্ত্রণ সাদরে গৃহীত। বিনিময়ে আমি কিন্তু আপনাকে আমার বেসুরো গান শোনাবো। সঙ্গে আপনার নিজ হাতে সাজানো বাংলোয় চোখের তৃপ্তির কাজটাও সেরে নেবো, যদি কখনো সুযোগ হয়।