সিনহা হত্যা: সপ্তম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর এবিপিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় সপ্তম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এসআই কামাল হোসেনের জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সপ্তম দফার কার্যক্রম।

সপ্তম দফায় প্রথম দিনে এসআই কামাল হোসেনসহ ৬ জনের স্বাক্ষীর হাজিরা দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

অপর সাক্ষীরা হলেন, পরিদর্শক মানস বড়ুয়া, কনস্টেবল মোশারফ, ওসি এবিএম এস দৌহা, এএসপি জামিলুর ও রি-কল সাক্ষী সার্জেন্ট আয়ূব। এদের মাঝে একজনকে রিকল সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে সাক্ষ্য।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে ওসি প্রদীপ কুমারসহ ১৫ আসামিকে আনা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, মামলায় মোট ৮৩ জন সাক্ষীর মাঝে পঞ্চম দফায় মামলার ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৬ষ্ট দফায় ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত মামলার আরও ২৪ সাক্ষীকে সমন দেন। কিন্তু ১৮ জন উপস্থিত হওয়ায় তাদের হাজিরা দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পিপি বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি দ্রুত সম্পন্ন করতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকলেও আসামি পক্ষ সবসময় তাতে ব্যাঘাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসামির আইনজীবীরা মামলায় সাক্ষ্য শেষ হওয়া সাক্ষীকে রি-কলের আবেদন করছেন বারবার। ১২ অক্টোবর দ্বিতীয় সাক্ষীকে রি-কল আবেদন দেয়। এরপর আবার অপর সাক্ষী সার্জেন্ট আয়ূবকে রি-কল দেয়া হয়েছে। এটি মামলার গতিশীল কার্যক্রমকে স্থবির করার পাঁয়তারা বলে উল্লেখ করেন পিপি।

প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পর গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

আলোচিত এ মামলায় গত বছর ১৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।