চট্টগ্রামে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। এবার পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৯। গতবার পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৫। গত বছর ৮ হাজার ৫০২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছে ৮ হাজার ৩৪৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ৭ হাজার ৪৩৩ জন, মানবিকে ৪৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এবার ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসিতে বসেছিল, তাদের মধ্যে ৯৯ হাজার ২২ জন পাস করেছে। গতবার ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৬৪ জন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় মানবিকের পাসের হার বরাবরই কম থাকে। তবে এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে মানবিকের পাসের হার কমে গেছে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ, মানবিকে ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গতবার উত্তীর্ণ হওয়ার হার ছিল বিজ্ঞানে ৯৫ দশমিক ৯১ শতাংশ, মানবিকে ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গণিতে এবছর পাসের হার সবচেয়ে কম ৯১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পাসের হার যৌথভাবে আইসিটি ও ক্যারিয়ার অ্যাডুকেশনে বিষয়ে ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ইংরেজিতে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, রসায়নে ৯৪ দশমিক ৭২, শারীরিক শিক্ষায় ৯৯ দশমিক ৫৪, হিসাববিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ৫১, উচ্চতর গণিতে ৯৮ দশমিক ৯১, বাংলাদেশ অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজে ৯৯ দশমিক ২৬, সাধারণ বিজ্ঞানে ৯৭ দশমিক ০৭, হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশনে ৯৭ শতাংশ ০৮ এবং পৌরনীতিতে ৯৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে গতবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৩২ কমে এবার পাসের হার ৯২ দশমিক ০১ শতাংশ। গতবছর ছিল ৯৫ দশমিক ৩৩। ৬ দশমিক ০১ কমে মহানগর বাদে জেলায় পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩৬। গতবছর ছিল ৯০ দশমিক ৩৭। মহানগরসহ জেলায় ৪ দশমিক ৮৯ কমে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩৯। গতবছর ছিল ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ। এদিকে কক্সবাজার জেলায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। গতবছর ছিল ৯১ দশমিক ২৭ শতাংশ। রাঙামাটিতে ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। গতবছর ছিল ৮৪ দশমিক। খাগড়াছড়িতে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ কমে পাসের হার ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। গতবছর ছিল ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বান্দরবানে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। গতবছর ছিল ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

পাসের হার কমার বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের স্কুলগুলোতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে পাসের হার কমেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব বিষয়ে তেমন ভাল শিক্ষক নেই। সৃজনশীল গণিত বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী এবারও ভাল ফলাফল করতে পারেনি। সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় ভাল করেছে।

জিপিএ-৫ এগিয়ে থাকা ১০ স্কুল
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার কলেজিয়েট স্কুল থেকে সবচেয়ে বেশি- ৪২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৮৪ জন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৮০ জন, নাসিরবাদ (বালক) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২২ জন, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৬ জন, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৫ জন, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৩ জন, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬৪ জন ও কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাস করেনি একটি স্কুল, শতভাগ পাস ৫৬টি স্কুল
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ন হাট গার্লস হাই স্কুল থেকে এবছর নয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের একজনও পাস করেনি। এবছর চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৬টি স্কুলের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।