সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সীতাকুণ্ডে সওজের জায়গায় স্থাপনা উচ্ছেদকে ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ


সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে প্রায় ৩ ঘন্টার এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগম।

অভিযানে বেশকিছু দোকানপাট, মালামাল, খুঁটিসহ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। মূলত মোহাম্মদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির লিজ নেয়া জায়গা খালি করতেই এ উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়েছে।

এ অভিযানকে ঘিরে ভাটিয়ারী টোবাক্যো গেইট এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই। আজকে অভিযান চলাকালে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দীন, সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ট্যোবাকো গেইট এলাকায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ৮.২৬ শতক জায়গা সওজ থেকে লিজ নেয় মোহাম্মদ হোসেন। লিজ বাবদ মোহাম্মদ হোসেন ১৮ লক্ষ টাকা যথাযথ নিয়মানুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেন। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল।

তবে ওই এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মোহাম্মদ হোসেন তাদের ২৪টি দোকানের মাঝখানে একটি জায়গা লিজ নেয়। এরপর থেকেই লিজ নেয়া জায়গার নাম করে পুরো এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন হোসেন। বিপুল সংখ্যক দোকানপাট উচ্ছেদ করে ব্যবসায়ীদের পথে বসানোর পাঁয়তারা করছেন। এ প্রেক্ষিতে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে সওজ তাদের উচ্ছেদ করতে মরিয়া। পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেই সওজের জায়গায় দোকান আছে। তাহলে এখানেই কেন অভিযান। হোসেন যতটুকু লিজ নিয়েছেন ততটুকু তার পাওনা। কিন্তু সব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা হচ্ছে এখানে।

এদিকে লিজ নেয়া মোহাম্মদ হোসেনের দাবি, তিনি সরকারি নিয়ম মেনে লিজ নিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই তাকে জায়গাটি দখল করতে দিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। তার বিরুদ্ধে করা মানববন্ধনের প্রতিবাদ করে হোসেন বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে আমি তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করব। তারা আমার মানহানি করেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ারা বেগম বলেন, একজন ব্যক্তি সরকারি নিয়ম মেনে জমি লিজ নিয়েছেন। যে কেউ নিয়ম মেনে লিজ নিলে সরকার উপকৃত হবে। আমরা কারও পক্ষে নই। শুধুমাত্র যিনি লিজ নিয়েছেন তাকে তার জায়গা বুঝিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। তিনি সরকারি খাতে ১৮ লক্ষ টাকার বেশি জমা দিয়েছেন।