
ঢাকা : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন,কারা বিদেশে টাকা পাচার করে, তা তিনি জানেন না। তিনি বিদেশে টাকা পাচার করেন না। তিনি কীভাবে জানবেন,কারা টাকা পাচার করে? টাকা পাচারকারীদের তালিকা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
শনিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ অভিযোগ করেন,বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। এসব বিষয়ে তারা অর্থমন্ত্রীর জবাব চান এবং একটি ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি তোলেন।
শুরুতে অর্থমন্ত্রী এসব বিষয় নিয়ে নীরব থাকলেও পরে মুখ খোলেন।
টাকা পাচার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকভাবে বলেছেন, এ সংসদেও বলেছেন, দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের বলেছি, যারা পাচার করে, তাদের তালিকা আমাকে দেন। আমি তো পাচার করি না। আমি বিশ্বাস করি, আপনারাও পাচার করেন না। সুতরাং পাচার কে করে, আমি জানব কেমন করে, যদি আপনারা না দেন।’
এ পর্যায়ে বিরোধী দলের একজন সদস্য কিছু একটা বলেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে, প্লিজ, কাম উইথ আ লিস্ট।’
এ সময় বিরোধী দল থেকে কিছু একটা বলা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আরে, আবার এক কথা! আমি তো বলছি, আমি কোথায় পাব? আপনি আমাকে বলেন। আচ্ছা ঠিক আছে, অলরাইট, আমি দেখব।’
আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালক হলো সে দেশের ব্যাংকিং খাত। সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা, সবাই কিন্তু বলছেন, তখন আমরা ভালো করছি। যদি কোনো প্রমাণ থাকে, বাংলাদেশের অর্থনীতি আমাদের আশেপাশের প্রতিবেশী দেশ, সাউথ এশিয়া, সাউথইস্ট এশিয়া, কোনো দেশের চাইতে যদি মনে করেন বা প্রমাণ থাকে যে আমরা তাদের চাইতে অর্থনৈতিক এলাকায় পেছনে আছি, তাহলে ইন দ্যাট কেস ইউ কাম টু মি, আই উইল গেট ইউ টু দ্য সলিউশন। অবশ্যই আমি দায়িত্ব নিয়ে সে কাজটি করব।’
সাংসদেরা প্রশ্ন করলে প্রশ্নোত্তর পর্বে সব জবাব দেবেন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মনের মতো করে আপনারা প্রশ্ন করবেন। আমি প্রত্যেকটা প্রশ্নের জবাব দেব। আমি প্রশ্নের জবাব দেব সেদিন, যেদিন আপনারা প্রশ্ন করবেন।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে, গ্রাহক বেড়েছে, আমানত বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেশসৃষ্টির পর থেকে সবচেয়ে কম এখন। ২০০৬ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এখন সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এটা ৮ দশশিক ১২ শতাংশ। সবচেয়ে নিম্নে আছে এখন। প্রত্যেকটা ব্যাংক লাভে আছে। ঋণ নিয়ে যারা অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা–মোকদ্দমা করা হয়। ই–কমার্সের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। চলমান মামলার সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার।
