বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

চট্টগ্রামে চালক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৪:২১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরে মিনিবাস চালক আব্দুর রহিম (৩৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আনোয়ার হোসেন (২৮) মো. মোর্শেদ (১৯) ও মো. রবিউল।

রোববার (২৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিন কলোনী এলাকা থেকে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি মাইক্রোবাসকে সাইড দেয়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে আমিন জুটমিল কলোনী ১নং গেটের সামনে ৩ নং রুটের মিনিবাস চালক আব্দুর রহিমকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেদিন রাত ১০ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রহিম। এ ঘটনায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক টিম। সেই মাইক্রোবাসটি শনাক্তের জন্য হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরীহাট থেকে নগরের মুরাদপুর পর্যন্ত প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। কিন্তু ঘটনাটি রাতের দিকে হওয়ায় সেই গাড়ির নাম্বার প্লেট শনাক্ত করা দুঃস্কর হয়ে পড়ে। গাড়ির ধরণ, রং ও অন্যান্য বর্ণনা দেখে বিশ্বস্থ সূত্রের মাধ্যমে গাড়ীর নাম্বার শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিন কলোনী এলাকা থেকে ওই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনই পরস্পর আত্মীয়। গত ২৬ নভেম্বর হাটহাজারী দিক থেকে মাইক্রোবাস নিয়ে শহরে আসার সময় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সাথে আব্দুর রহিমের মিনিবাসের ওভার ট্রেকিং নিয়ে ঝামেলা হয়। দ্রুতজান বাসটি যাত্রী উঠা নামার কারণে মাইক্রোবাসের পথ রোধ হয়েছিল। এতে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের সাইড না দেওয়া বাস সন্দেহ করে আরেক বাস (চট্টমেট্রো জ-১১-১৬৬২) এর পথরোধ করে চালক আনোয়ার হোসেন বাচাকে মারধর করে।

ড্রাইভার আনোয়ার এসময় অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে সুস্থ করে।
ভূল বাসের চালককে মারধর করে বুঝতে পেরে মাইক্রোবাস নিয়ে তারা দ্রুত চৌধুরীহাট ত্যাগ করে নগরের অক্সিজেনের দিকে আসতে থাকে। বালুছড়া এসে ভিকটিম আব্দুর রহিমের বাস (চট্টমেট্রো জ-১১-১৫৮৫) এর পিছু নেয়। বাসটির পিছু নিয়ে আমিন জুট মিলের উত্তর গেইটে বাসটি আসা মাত্রই মাইক্রোবাস দিয়ে ওই বাসের গতিরোধ করে।

মাইক্রোবাস থেকে তারা নেমে বাস চালক আব্দুর রহিমকে(৪৬) কে টেনেহিঁচড়ি বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। আশপাশ থেকে লোকজন এগিয়ে আসলে মাইক্রোবাসটি যোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এদিকে মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা বাস চালক আব্দুর রহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শ্রমিকরা হাটহাজারী ও অক্সিজেন সড়ক অবরোধ করে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার ঘটনার সাথে জড়িত মাইক্রোবাস (নোহা) (চট্টমেট্রো-ট-১১-১৪৩৪) উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।