বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

চট্টগ্রাম কারাগারের সাবেক জেলার সোহেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১, ১০:০৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : মাদক, টাকাসহ গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক জেলার মো. সোহেল রানা বিশ্বাসের প্রায় আড়াই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়ে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ বাদি হয়ে সংস্থার জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর উপপরিচালক লুৎফুল কবীর চন্দন।

২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট ভৈরব রেলস্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ১২ বোতল ফেনসিডিল, নগদ টাকা, ব্যাংক চেকসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং তার নিজ নামে ১ কোটি টাকা, স্ত্রীর নামে ১ কোটি এবং শ্যালক রাকিবুল হাসানের নামে ৫০ লাখ টাকাসহ মোট আড়াই কোটি টাকার এফডিআর রশিদ এবং ব্র্যাক, প্রাইম, মার্কেন্টাইল ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের আলাদা হিসেবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত সোহেল রানা বিশ্বাস ময়মনসিংহ শহরের আর কে মিশন রোডের মো. জিন্নত আলী বিশ্বাসের ছেলে। গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হওয়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসের সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সম্পদ বিবরণীতে সোহেল রানা ২ কোটি ৬৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৯৩ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৫ টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। কিন্তু দাখিল করা সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে তার নামে ৩ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ১২৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ১ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৯ টাকার স্থাবর এবং ২ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, সম্পদ বিবরণীতে সোহেল রানা ৪০ লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ টাকা সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ১২৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সোহেল রানার আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৯১ লাখ ৪১ হাজার ৮৯০ টাকা ৩৫ পয়সা।

এ হিসাবে বৈধ আয়ের চেয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৫ টাকা ৬৫ পয়সা বেশি। জ্ঞাত আয়বর্হিভূত এই সম্পদ তিনি ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।