বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

দালাল ঠেকাতে খোলা আকাশের নিচে এসি-ল্যান্ড

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩০, ২০২১, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : পরিপাটি কার্যালয়। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি টিনশেড ঘর। তার সামনে খোলা আকাশের নিচে টেবিল নিয়ে বসে আছেন সহকারী কমিশনার, ভূমি (এসি-ল্যান্ড) আশরাফুল আলম।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে যাওয়া ব্যক্তিরা প্রথমেই যাচ্ছেন এসি-ল্যান্ডের কাছে। এরপর সমস্যা শুনে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধান করে দিচ্ছেন অথবা সরাসরি পাঠিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে। এই চিত্রটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভূমি কার্যালয়ের। জমিজমার সমস্যা নিয়ে যাঁরা এই কার্যালয়ে আসেন, তাঁরা যাতে দালালদের হাতে না পড়েন, সে জন্য এই সেবাব্যবস্থা চালু করেছেন এসি-ল্যান্ড।

সাধারণত দেখা যায়, ভূমি কার্যালয়ের বাইরে দালালের দৌরাত্ম্য। সেবাপ্রার্থীর প্রতি কর্মচারীদের অবহেলা। ভ্রুক্ষেপহীন কর্মকর্তা। দিনের পর দিন হয়রানি—ভুক্তভোগীদের কাছে সারা দেশে এই হলো ভূমি কার্যালয়ের সাধারণ চিত্র। কিন্তু সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসে এ চিত্র বদলে দিয়েছেন একজন আশরাফুল আলম। দালালের দৌরাত্ম্য থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে অফিসকক্ষ ছেড়ে নিচে খোলা আকাশের নিতে টেবিল–চেয়ার নিয়ে বসছেন তিনি।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে যাওয়া আবদুল মালেক জানান, তাঁর জমির খাজনা খারিজের জন্য কয়েক মাস ধরে ঘুরছিলেন। এক দালালকে ২ হাজার টাকা দিয়েছিলে জুনে। কিন্তু কাজ হয়নি। পরে আরেকজনের মাধ্যমে এসি-ল্যান্ডের সরাসরি সেবা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। ভূমি অফিসে এসে এসি-ল্যান্ডের সাহায্যে আবেদন করেন। কয়েকদিনের মধ্যে জমির খাজনা খারিজ নিষ্পত্তি হয়েছে।

বাড়তি সময় ও টাকা ছাড়া এত সহজে জমিসংক্রান্ত জটিলতা সমাধান করায় ভূমি অফিসকে ধন্যবাদ জানান আবদুল মালেক।

সোমবার ভূমি কার্যালয়ে কাজে এসেছিলেন বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৭০ বছরের জীবনে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই সেবা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের সেবাই প্রত্যাশা করে। সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের এ উদ্যোগ অনুকরণীয় হতে পারে।’

জানতে চাইলে সীতাকুণ্ডের এসি-ল্যান্ড আশরাফুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সেবাপ্রার্থীরা প্রথমেই আমার কাছে আসেন। তখন কিছু কাজ তাৎক্ষণিক সমাধান করে দিই। আর কিছু কাজ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে রেফার করি। ফলে অনিয়ম, দালালদের দৌরাত্ম্য আর নেই।’

‘ভূমি কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মচারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এখন মানুষ কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই সেবা নিতে পারছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যাতে সরাসরি এসি-ল্যান্ডকে সমস্যার কথা বলতে পারেন, এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যই জেলা প্রশাসক স্যারের সার্বিক নির্দেশনায় এমন উদ্যোগ।’